ভাত-ডাল নয়, মিড-ডে মিলে চিকেন বিরিয়ানি! স্কুলে পড়ুয়াদের আবদার পূরণ শিক্ষকদের
Mid day meal: দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ আয়োজন, মিড-ডে মিলে চিকেন বিরিয়ানি। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রী ১০৫ জন। শিক্ষক রয়েছে চারজন ও দুইজন পার্শ্বশিক্ষক। তারাই স্কুলে এই অভিনব আয়োজন করলেন।
রণজয় সিংহ: বদলের বাংলায় মিড ডে মিলে বদল এসেছে। খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে মিড ডে মিলের খাওয়ার খাচ্ছেন। সেই বাংলার এক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলে ছাত্র ছাত্রীদের দেওয়া হল চিকেন বিরিয়ানী। তাও আবার ছাত্রছাত্রীদের আবদার শুনে। মালদহ শহরের কোন নামী বিদ্যালয়ে নয়। প্রত্যন্ত এক আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামের বিদ্যালয়ে।
মালদহর বামনগোলার ব্লকের প্রত্যান্ত ইশাহাকপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রী ১০৫ জন। শিক্ষক রয়েছে চারজন ও দুইজন পার্শ্বশিক্ষক। গ্রামের বেশির ভাগ পরিবার দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। এই গ্রামে রয়েছে আদবাসী, হিন্দু, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। স্বাভাবিক ভাবেই গ্রামের পরিবারের মানুষদের দিন আনতে পান্তা ফুরায় দশা। সেখানে মিড ডে মিল ছত্রছাত্রীদের ক্ষুধা মেটায়। এমন এলাকার এক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলে চিকেন বিরিয়ান আয়োজন করা হয়। ছাত্রছাত্রী শিক্ষকদের কাছে আবদার করেছিল চিকেন বিরিয়ানী ব্যবস্থা করার। আর সেই আবদারে সাড়া দিয়ে মিড ডে মিলের পাতে চিকিন বিরিয়ানীর ব্যবস্থা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।
বিগত দিনে তৃণমুল সরকারের আমলে মিড ডে মিল নিয়ে বিস্তর অভিযোগ হয়। কোথাও মিড ডে মিলের চাল চুরি,রান্না খারাপ, কোথাও দায়িত্বে থাকা শিক্ষিক শিক্ষিকাদের এই সব ঘটনার জন্য দায়ি করা হয়েছিল। সেই বাংলায় এমন পরিবর্তন নজিরবিহীন। শুরু হয়েছে সরকারি পি এম পোষন অনুষ্ঠান। তারই অঙ্গ হিসাবে বিভিন্ন স্কুলে মিড মিলের খাওয়ার দেওয়া হচ্ছে। এবার মালদার বামনগোলা ইশাহাকপুর পূর্ব চক্র অধীনস্থ ইশাহাকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিএমপোষণ স্পেশাল মেনুতে দেওয়া হল চিকেন বিরিয়ানি। আর প্রতিদিনের মত মিড ডে মিলের পাতে ডাল ভাত,সোয়াবিন, সব্জি ছেড়ে এবার চিকেন বিরিয়ানী পেয়ে পেট পুরে খেলো ছাত্রছাত্রীরা।
বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের ভাত ডাল ,সোয়াবিন, ডিম, সব্জির পরিবর্তে চিকেন বিরিয়ানী খুশি ছাত্র ছাত্রীরা। প্রধান শিক্ষক মানস গোস্বামী বলেন, নতুন সরকার মিড ডে মিলের বরাত বৃদ্ধি করেছে।তাই ছাত্র ছাত্রী আবদার শুনে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া হতদরিদ্র পরিবারের শিশুরা পঠনপাঠন করে এই বিদ্যালয়ে। তাই প্রায়ই ছাত্রছাত্রীদের ভালো খাওয়ার দেওয়ার চেষ্টা করি। এর আগে আমরা ডিম বিরিয়ানী দিয়েছি। ভবিষ্যতেও আমরা চেষ্টা করব সব সময় ছাত্রছাত্রীদের ভালো খাওয়ার দেওয়ার।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)