রণজয় সিংহ: স্ত্রীকে খুনের অপরাধে যাবজ্জীবন সাজা পেল স্বামী। অভিযুক্তের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘ নয় বছর ধরে শুনানির পর সাজা ঘোষণা করল মালদা আদালত। ধারালো অস্ত্র দিয়ে শোওয়ার ঘরেই জোশেফ টুডু তাঁর স্ত্রী আরতি হাঁসদাকে কুপিয়ে খুন করে ২০১৭ সালে ৪ জুন মাসে। সাংসারিক কলহের ফলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বচসা হয়। সেই বচসা থেকে জোশেফ টুডু স্ত্রী আরতি হাঁসদার উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। সেই সংঘর্ষে জোশেফও রক্তাক্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দুজনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় দুজনকেই। চিকিৎসকেরা আরতি হাঁসদাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আর জোশেফ টুডুর চিকিৎসা শুরু করে। ঘটনাটি ঘটেছিল মালদার গাজোল থানা দইহিল গ্রামে। জোশেফের ভাই রতন টুডু-ই দাদার বিরুদ্ধে বউদিকে খুন করার অভিযোগ করেন গাজোল থানায়। পুলিশ তদন্তে নেমে জোশেফ টুডুকে গ্রেফতার করে। এরপরই শুরু হয় শুনানি পর্ব। তা চলে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে। শেষে দোষী প্রমাণিত জোশেফ টুডু।
সরকারি আইনজীবী নিরঞ্জন সরকার জানিয়েছেন, ১১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের বয়ান এবং পেশ করা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে আরতি হাঁসদা খুনের ঘটনায় তাঁর স্বামী জোশেফ টুডু-ই যে মুল অভিযুক্ত, তা প্রমানিত হয়েছে। বিচারক জোশেফ টুডুকে দোষী সাব্য়স্ত করেছেন। যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অনাদায়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। সাংসারিক বিবাদের জেরে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অপরাধে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে মালদা আদালত। দীর্ঘ শুনানির পর অভিযুক্ত জোশেফ টুডুকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে ভুগতে হবে অতিরিক্ত সাজা।
ঘটনা ২০১৭ সালের ৪ জুনের। মালদার গাজোল থানার অন্তর্গত দইহিল গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জোশেফ টুডু ও তাঁর স্ত্রী আরতি হাঁসদার মধ্যে বিবাদ চলছিল। ঘটনার দিন সেই সাংসারিক কলহ চরমে ওঠে। বচসার একপর্যায়ে জোশেফ অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং শোওয়ার ঘরে থাকা একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্ত্রী আরতি হাঁসদার ওপর চড়াও হয়। স্ত্রী আরতিকে কোপায় জোশেফ। মারাত্মকভাবে জখম হয় আরতি। জোশেফ নিজেও রক্তাক্ত হয়।
ঘটনার পর রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকেই উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান গ্রামবাসীরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা আরতি হাঁসদাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, জখম জোশেফ টুডুর চিকিৎসা শুরু হয় হাসপাতালে। এই ঘটনার পর জোশেফের ভাই রতন টুডু নিজের দাদার বিরুদ্ধে বউদি আরতি হাঁসদাকে খুন করার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গাজোল থানায়। ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জোশেফ টুডুকে গ্রেফতার করে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)