পুজোর মুখে ফের বন্যার জল, বিচ্ছিন্ন ভূতনি! গঙ্গার জল বাড়তেই দুর্ভোগ চরমে, এলাকা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী
ফের গঙ্গার জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। নতুন করে জলমগ্ন হয়েছে একাধিক এলাকা। পুলিনটোলার রাস্তা ডুবে যাওয়ায় ভূতনির সঙ্গে মানিকচকের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। নৌকাই এখন যাতায়াতের প্রধান ভরসা। এর মধ্যেই ৮ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মালদহ সফরের কথা।
রণজয় সিংহ: আবার গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি। চরম বিপদসীমার ৫সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে বইছে গঙ্গা। মালদহর মানিকচকের ভুতনী চরের ১২টি গ্রাম প্লাবিত। প্লাবিত ভূতনি থানাও। একই মরসুমে দুইবার প্লাবিত হল ভূতনি চর। এরই মধ্যে ৮ অক্টোবর মালদহর বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হেলিকপ্টার মালদার মানিকচকের ভূতনি,রতুয়া ১নং ব্লকের মহানন্দাটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করবেন তিনি।
পুজোর মুখে আবার জলের তলায় চলে গিয়েছে, তাই ভূতনির সঙ্গে মানিকচকের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা পুলিনটোলার রাস্তা। ফলে সড়কপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা। ফের ভরসা নৌকা। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা পুতূল মন্ডল বলেন, 'এক সপ্তাহ আগেই জল নেমেছিল ভূতনি থেকে। ঘর পরিষ্কার করে সবে ফিরেছিলেন। কিন্তু ফের ফুলে ফেঁপে উঠেছে গঙ্গা-ফুলহর। রাতারাতি জল বেড়েছে। পাকা রাস্তার উপর দিয়ে বইছে জল। দু'পাশে যতদূর চোখ যায়, শুধু জল। বিদ্যুতের খুঁটি, গাছের গোড়া সবই জলের তলায়।'
স্থানীয় বাসিন্দা উৎপল মন্ডলের কথায়, এই পুলিনটোলার রাস্তাই ভূতনি থেকে মানিকচক যাওয়ার একমাত্র পথ। এই রাস্তা ডুবলেই ভূতনি কার্যত দ্বীপে পরিণত হয়। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হতেই ফের শুরু হয়েছে সরকারি নৌকা পরিষেবা। যদিও পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দা সারাফৎ আলীর অভিযোগ, সরকারি নৌকা মালপত্র নিতে চাইছে না। সেই সুযোগে বেসরকারি নৌকায় বস্তা পিছু ৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নজর রয়েছে বলে জানিয়েছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। বন্যা মোকাবিলায় সরকারি নৌকা চালানো হচ্ছে।’ তবে পুজোর আগে ফের ঘরে জল ঢোকায় চরম হতাশায় ভূতনির বাসিন্দারা। এক বাসিন্দা বলেন, ‘এক সপ্তাহ হল জল নেমেছিল, ঘর পরিষ্কার করে সবে ঢুকেছি, আবার বন্যা। পুজোর আনন্দ আর কী থাকবে?’ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ভূতনিবাসীর এখন একটাই দাবি, স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামত করা হোক, যাতে প্রতি বছর পুজোর মুখে ভাসতে না হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)