জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বদলের বাংলায় দেবীপক্ষেই শুরু উত্সব। প্রতিপদের দিন সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে পুজোর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, 'এই পুজোর সঙ্গে রাষ্ট্রবাদ, সনাতনী সংস্কৃতি, পশ্চিমবাংলায় দুর্গাপুজোর স্বাস্থ্যবিধি পঞ্জিকামতে আমাদের যে সংস্কৃতি, তা রক্ষার করার যে লড়াই, এখান থেকে শুরু হয়েছিল। আজ কার্যত তা পূর্ণতা পেয়েছে'।
শহরের অন্য়তম বড় পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। পুজোর উদ্যোক্তা বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। গত কয়েক বছর ধরে থিম বৈচিত্র্যে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিচ্ছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। এবারের থিম ‘সনাতনী চেতনায় বন্দে মাতরম’। আজ, রবিবার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালে রামমন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে, সজল ঘোষ আমাকে ফোন করেছিল। তখন আমি পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা। বলল, 'এবারে কী থিম করা যাবে? আমি বললাম, এবারের থিম হবে জয় শ্রীরাম। ২০২৩-র দুর্গাপুজোয় যে জয় শ্রীরামের আওয়াজ এই লেবুতলা পার্ক থেকে, মধ্য কলকাতা থেকে উঠেছিল, আজ দার্জিলিং থেকে দিঘা, কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, কাশীপুর বেলগাছিয়া থেকে রাসবিহারী, বেহালা সবজায়গায় একই আওয়াজ জয় শ্রীরাম। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি তিনবার এই পুজোয় এসেছেন।জেপি নাড্ডাজি এই পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে গিয়েছেন'।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, 'এখানে থামলে হবে না। এখনও কেউ বা কারা কোন ঘটনা নিয়ে লেখেন গেরুয়া তাণ্ডব লেখে, খবরদার এই ভাষা প্রয়োগ করবেন না।গেরুয়া তাণ্ডব বললেও আমরা সমুচিত জবাব দেব। সরকার চুপ করে থাকবে না'। বলেন, একজনের বাড়িতে কেউ সকালবেলা ঢিল ছুঁড়ল, আমরা এগুলি পছন্দ করি না। পুলিস দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। সেই কমিউনিস্ট নেতা তিনি তার ভেরিফায়েড অ্য়াকাউন্টে লিখলেন, হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ। আপনি আমি সবাই হিন্দু নই! আমরা হিন্দুস্তানে থাকি না! কোথা থেকে সাহস হয় এদের! তাই বলি কাজ আমাদের শেষ হয়নি এখনও। টুকরে টুকরে গ্য়াং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, আরাশোলা, ছাড়পোকা এদের উত্পাত থেকে ভারতবর্ষকে বাঁচাতে হবে। তাই বন্দেমাতরমকে জাগ্রত করতে হবে। রাষ্ট্রবাদের জয়জয়কার নরেন্দ্র মোদীজির হাত শক্তিশালী করতে হবে'।
বিগত তৃণমূল জমানায় যে পুজো তত্কালীন মন্ত্রীর সুজিত বোসের পুজো হিসেবে পরিচিত ছিল, এবছর সেই শ্রীভূমির স্পোটিংয়ের পুজোর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমার খুব খারাপ লাগত। যখন মাতৃ পক্ষের শুরুর আগে, আগের মুখ্যমন্ত্রী এখানে এসে উদ্বোধন করতেন। খুব খারাপ লাগত। কেউ একটু পরামর্শ দিত না। এইসব করা যায় না। ৩৪ বছর নাস্তিক, আর ১৫ বছর যারা দুর্গা পুজোকে কার্নিভালে পরিণত করেছিল, বাংলার মানুষ তাঁদের সরিয়ে দিয়েছে'।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, 'বীরেন্দ্র কৃষ্ণের নামে মূর্তি বসাব। তাঁর নামে রাস্তাও তৈরি করব'। জানান, সাড়ে ৫ মাসের সরকার। ২০২৫ সালে, ৪৫ হাজার দুর্গা পুজো, ২০২৬ সালে, ৫৭, ৪০০ দুর্গা পুজো। যাদের চোখ ভালো নয়ে তাঁরা দেখান'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)