অর্ণবাংশু নিয়োগী: বিধায়ক পদ খারিজ করে দেওয়া হোক, এই দাবিতে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। মমতা তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া ১০ জন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের পদ খারিজের (Disqualification) দাবিতে মামলা করেছিলেন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালতে। কিন্তু সেই মামলা সরাসরি শুনতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। কালীঘাট শিবিরের এই প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দেশের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) আবেদন জানাতে। একই সঙ্গে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে দ্রুত শুনানির লক্ষ্যে একটি বিশেষ বেঞ্চ (Special Bench) গঠনের অনুরোধ জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। ফলে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম সহ ১০ জন বিধায়কের বিধায়ক পদের ভবিষ্যৎ আপাতত ঝুলেই রইল।
কী কারণে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা-তৃণমূল?
আইনি সংঘাতের সূত্রপাত দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) দশম তফশিল (Tenth Schedule) অনুযায়ী পদক্ষেপ না হওয়াকে কেন্দ্র করে:
১০ বিধায়কের দলত্যাগ: বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী পর্বে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এসে বিরোধী শিবির গঠন করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, আখরুজ্জামান, জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন এবং শিউলি সাহা।
স্পিকারের কাছে আবেদন: দলত্যাগী এই ১০ জন জনপ্রতিনিধির বিধায়ক পদ অবিলম্বে খারিজের দাবি জানিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে পিটিশন জমা দেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
দেরির অভিযোগ: নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা থাকলেও প্রায় পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় আইনি পদক্ষেপ থমকে রয়েছে-- এই যুক্তি দেখিয়েই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাটপন্থী শিবির।
শীর্ষ আদালতের কেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করল না?
বৃহস্পতিবার শুনানির সময় বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং বিচারবিভাগীয় স্তরবিন্যাস (Judicial Hierarchy) লঙ্ঘন করে সরাসরি শীর্ষ আদালতে শুনানির সুযোগ দেওয়া যায় না।
পদ্ধতিতে ত্রুটি: শীর্ষ আদালতের তরফে পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, বহু মামলাকারী হাইকোর্টের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে কোনও নির্দিষ্ট মামলাকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে অগ্রাধিকার দেওয়া যায় না।
হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ: মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে পাঠিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেখানকার প্রধান বিচারপতি যেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন।
ছুটির পর শুনানি: আসন্ন উৎসবের ছুটির পর কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার ভাগ্য নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
এই নির্দেশের ফলে সংঘাত এবার শীর্ষ আদালত থেকে সরাসরি ফিরল কলকাতার রাজপথে এবং কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে:
স্পিকারের ভূমিকা: বিধানসভার অধ্যক্ষের সচিবালয় থেকে ইতোমধ্যেই বিধায়কদের নোটিস (Assembly Secretariat Notice) পাঠানো হয়েছে। তবে স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই আদালত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।
হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ: সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্ট বিশেষ বেঞ্চ গঠন করলে মামলার প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পাবে।
দলত্যাগী বিধায়কদের স্বস্তি: শীর্ষ আদালত সরাসরি পদ খারিজের ওপর হস্তক্ষেপ না করায় সাময়িকভাবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বিদ্রোহী শিবির। তবে হাইকোর্টের শুনানির উপরেই নির্ভর করছে তাঁদের বিধানসভা সদস্যপদের ভবিষ্যৎ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)