প্রবীর চক্রবর্তী: বিধানসভা ভোটে শোচনীয় হারের পর আড়াআড়ি ভোবে ভেঙে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের কেউকেটারা যোগ দিয়েছেন বিরোধী শিবিরে। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এখন প্রায় নিস্পদীপ। অধিকাংশ নেতার অভিযোগের তির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তাঁর একছত্র আধিপত্তের কারণেই নাকি দলের পুরনো নেতারা দলে আমল পেতেন না। সেই কথাটাই আজ বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের ছায়াসঙ্গী ও প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
পুরভোটের আগে তাঁর পুরনো দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর দাবি, রক্তকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে ভক্তকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দলের আবেগকে দূরে সরিয়ে রেখে কর্পোরেট স্টাইল যবে থেকে দলে ঢুকে গিয়েছিল সেই সময় থেকেই দলের সর্বনাশের শুরু হয়ে গিয়েছিল। যে করপোরেট সংস্থাকে দলের স্ট্রাটেজি ঠিক করতে দেওয়া হয়েছে তারাই দলের স্ট্রেটেজি বিক্রি করে দিয়েছিল অন্য দলের কাছে।
ওইসব অভিযোগ ভোটের আগে দলের মধ্যে করেননি কেন? ফিরহাদ বলেন, বহুবার এনিয়ে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেইভাবে তিনি প্রতিবাদ করতে পারেননি। যে দুজন প্রতিবাদ করেছিলেন তারা হলেন মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারী। তাদের দল ছাড়তে হয়েছিল।
জি ২৪ ঘণ্টাকে ফিরহাদ হাকিম বলেন, যদি আমাদের সংসারটা থাকতো, যদি মমতাদি নিজের রক্তের থেকে ভক্তদের উপরে বেশি বিশ্বাস রাখতেন তালে কিন্তু এই দলটা আরও ২০ বছর অন্তত চলত। একটা সময় তো যেতেই হবে। ১৫ বছরে না গেলে আমরাও বামফ্রন্টের মত ৩৪ বছরের বা ৩৫ বছরে যেতাম। কাউকে পরবর্তী প্রজন্মকে বসাতে হবে, সেটা করার জন্য খুব বেশি তাড়াহুড়ো হয়ে গেল। সেটা করার জন্য কর্পোরেটের হাতে দলটাকে দিয়ে দেওয়া হল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)