জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বদলের বাংলায় ফিরছে পাস-ফেল? স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে মোবাইল? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা, 'ব্যক্তিগতভাবে যদি আমায় বলেন, আমি বলব স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা, পাসফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস আধূনিক ভাষার সঙ্গে সঙ্গে এগুলোও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চারিত করা দরকার। এবং কো-ক্যারিকুলার অ্যাকটিভিসের মধ্যে ব্রতচারী, NSS, প্রত্যেকটা স্কুলে NCC ফিরিয়ে আনা দরকার। এগুলো পুরনো দিনে যথেষ্ট ছিল। শারীরশিক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অভাবটা পরিলক্ষিত করছি'।
লক্ষ্য় ছিল, স্কুলছুটে হার শূন্যে নামিয়ে আনা। এ রাজ্যে পাস-ফেল প্রথা তুলে দেওয়া হয়েছিল বাম আমলেই। কিন্তু পাস-ফেল না থাকায় পড়ুয়াদের একাংশের মধ্য়ে যেমন পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি হচ্ছে, তেমনি শিক্ষা সামগ্রিক মানও নিম্নগামী হচ্ছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য় আইন সংশোধন করে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পুনরায় পাশ-ফেল চালু অধিকারী দিয়েছে রাজ্যকে। কবে? ২০১৯ সালে। যদিও এ রাজ্যে পাস-ফেল প্রথা ফেরানো হয়নি।
রাজ্যে পালাবদলের পর সিলেবাস কমিটি তৈরি করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সিলেবাস কমিটি সুপারিশ সরকার মানব। জাতীয় শিক্ষানীতি চালু হয়েছে। রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীরাও রয়েছে। বিশিষ্ট মানুষ, শিক্ষিত মানুষ, শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত মানুষের শিক্ষা দফতরের রয়েছে। তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত'।
স্রেফ পাস-ফেল ফেরানোই নয়, এ রাজ্যে শিক্ষার ব্যবস্থায় কার্যত আমূল বদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'বিদ্যালয়ে একেবারে প্রাথমিক স্তর, স্কুলস্তর থেকে তবলা-হারমোনিয়া-গিটার শেখা থেকে শুরু করে, মৃদঙ্গ খজনি থেকে শুরু করে কালচারাল প্রতিভাও দরকার।ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী করার জন্য প্রত্য়েক বছর ৩ দিন ধরে অন্তত বিতর্কস কুইজ প্রতিযোগিতা, তাত্ক্ষণিক বক্তৃতা, এগুলিও আনা দরকার'। তাঁর মতে, 'তাহলে এই আরশোলা, ছাড়পোকা, দিগামী নকশাল, টুকরে টুকে গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, এসবের যে কুপ্রভাব একেবারে করোনা ভাইরাসের মতো চেষ্টা করছে, আমাদের হিট লাগত না স্প্রে করার জন্য'।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও বক্তব্য, 'চৌত্রিশ বছরের নাস্তিক কমিউনিস্ট, ১৫ বছরের জামাতিরা পশ্চিমবঙ্গ মানুষের ঐতিহ্য সংস্কৃতি.. NCC তুলে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়হিন্দ বাহিনী চালু করেছে। NCC কেউ তুলে দেয়! অগ্নিবীরে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে NCC যদি জানত তারা, অনেক বেশি অগ্রাধিকার পেত। NCC তুলে দেওয়ার মতো কাজ করছে, ব্রতচারী তুলে দেওয়ার মতো কাজ করেছে। মা-কে আম্মা এসব শিখিয়েছে। ফুফু, বুবু, রংধনু, এসব কী! সব পরিবর্তন করার দরকার আছে। এসব জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সময় লাগবে। পরের শিক্ষাবর্ষে অনেক কিছু পরিবর্তন দেখতে পাবেন। হঠাত্ করে তো করা যায় না। তারজন্য সিলেবাস কমিটি অভিজ্ঞ লোকজন আছে। সর্বোপরি জাতীয় শিক্ষানীতি পশ্চিমবঙ্গের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কার্যকর আমরা করব'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)