পুজোর আগেই ভাঙা রাস্তা সারানোর নির্দেশ, ঘাটে নজরদারি ও শহর সাজানোর পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রীর
দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের পুরসভা, কর্পোরেশন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলির আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে একাধিক নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে মেরামত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গঙ্গার ঘাটে নিরাপত্তা, নজরদারি, যান্ত্রিক নৌকা, শহরজুড়ে আলোকসজ্জা এবং পুরকর্মীদের বকেয়া বেতন মেটানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
পিয়ালি মিত্র: দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত, নিরাপত্তা ও শহরের সৌন্দর্য বজায় রাখতে তৎপর রাজ্য সরকার। পুজোর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে পুরসভা, কর্পোরেশন ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে রাস্তা মেরামতি থেকে শুরু করে ঘাটের নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা এবং কর্মীদের বকেয়া মেটানো, একাধিক বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩-৪ দিনের মধ্যে রাস্তা মেরামতির লক্ষ্যমাত্রা
বর্ষার বৃষ্টিতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়েছে। কোথাও তৈরি হয়েছে গর্ত, কোথাও আবার রাস্তার উপরিভাগ ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। পুজোর সময় মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে বেরোনো মানুষের যাতে অসুবিধা না হয়, সেই কারণে দ্রুত রাস্তা মেরামতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাস্তার গর্ত ভরাট ও প্রয়োজনীয় মেরামতির কাজ চলছে। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে জেলার রাস্তাগুলির মেরামতি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। পুজোর আগে রাস্তার অবস্থা স্বাভাবিক করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।
গঙ্গার ঘাটে নিরাপত্তায় বাড়তি নজর
মহালয়া থেকে বিসর্জন পর্যন্ত বিভিন্ন ঘাটে মানুষের ভিড় বাড়বে। তর্পণ, প্রতিমা নিরঞ্জন এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘাটে পর্যাপ্ত আলো, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে যান্ত্রিক নৌকা রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বৈঠকে।
কলকাতা থেকে নিউ টাউন, আলোকসজ্জায় সাজানোর পরিকল্পনা
পুজোর সময়ে শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, প্রধান রাস্তা এবং নিউ টাউনের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ আলোকসজ্জার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বড় রেলস্টেশন, মেট্রো স্টেশন ও বিমানবন্দরের প্রবেশপথগুলিকেও সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুধু সরকারি সংস্থা নয়, বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, হোটেল ও শিল্প সংস্থাগুলিকেও নিজেদের ভবন ও আশপাশের এলাকা আলো দিয়ে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। লক্ষ্য, পুজোর সময় শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় করে তোলা।
বকেয়া বেতন ও বিল মেটানোর উপরেও জোর
পুজোর আগে পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মীদের বকেয়া বেতন মেটানোর বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়মিত পরিষেবা দেওয়া সংস্থাগুলির বকেয়া বিল মেটানোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, উৎসবের আগে পরিষেবা সচল রাখা জরুরি। তাই রাস্তা মেরামতি, আলো, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং সংস্থাগুলির পাওনা মেটানোর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
পুজোর প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চায় না প্রশাসন
দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন শহরে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। সেই ভিড় সামলানো, নির্বিঘ্নে যাতায়াত, নিরাপদে ঘাট ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করতে আগেভাগেই প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে চাইছে প্রশাসন। রাস্তা মেরামতির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা, ঘাটে নিরাপত্তা এবং শহরজুড়ে আলোকসজ্জার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে পুজোর আগে নাগরিক পরিষেবা আরও মজবুত করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতটা কাজ শেষ করা সম্ভব হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)