জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'আমি সবাইকে বারবার বারণ করেছিলাম, আমাদের মাঠে একটা নিয়ম আছে'। বিস্ফোরক চোরবাগান সার্বজনীনের প্রাক্তন পুজোকর্তা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, 'সেইসময়ে যাঁরা ছিলেন ওই সময়ে পুলিসের দায়িত্বে বা প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন বা আমাদের ক্লাবের যাঁরা সদস্য, এর থেকেও বেশি ভিড় হয়েছে, আমরা কিন্তু সেই ভিড়কে নিয়ন্ত্রণ করে দিয়েছি। সেটা কেন হল না? কী জন্য হল না? এর উত্তর আমার কাছে নেই। যেহেতু এই মুহূর্তে পুজোর সঙ্গে যুক্ত নই। কোনও পদে নেই। কলকাতায় নেই'।
এবছর পুজোর সমস্ত আনন্দ যেন 'চুরি' করে নিয়ে গেল উত্তর কলকাতায় চোরবাগান সার্বজনীন!সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্য়ু হল ১৯ জনে। কী এই বিপর্যয়? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশে যখন গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে, তখন প্রকাশ্যে এল চোরবাগান সার্বজনীনের প্রাক্তন পুজোকর্তা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া। ফেসবুকে ভিডিয়ো পোস্ট করলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
ভিডিয়োতে রাজীব বলেছেন, 'আমি চোরবাগান সার্বজনীনের প্রাক্তন জেনারেল সেক্রেটারি। আজ থেকে ১৫ বছর আগে এই পুজোর দায়িত্ব আমি নিয়েছিলাম। ২০১৭ থেকে আমাদের থিমপুজোর প্রবেশ। ২০১৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত আমিই ছিলাম জেনারেল সেক্রেটারি'। নিজেই জানিয়েছেন, 'আমি এবছর পুজো কমিটিতে নেই। কোনও কারণে এবার পুজোটা অন্যরা করতে চেয়েছিল। কালের নিয়মে একসময় কাউকে কাউকে না করতেই হত। ১৫ বছর দায়িত্ব নিয়ে পুজোটা করেছি। সবাই যখন আমাকে বলে পুজো ছেড়ে দিতে হবে, আমি এককথায় রাজি হয়ে যাই। পুজো ছেড়েও দিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাহ করেছি'। তাঁর কথায়, 'মর্মান্তিক ঘটনা চোরবাগান সার্বজনীনের সঙ্গে ঘটে গিয়েছে। তারজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত বললে কম হবে। আমার ভিতরে যে কী হচ্ছে, আমি বোঝাতে পারব না। চোরবাগান আমার কাছে আবেগ, সন্তানের মতো'।
রাজীব বলেন, 'আমি সবাইকে বারবার বারণ করেছিলাম, আমাদের মাঠে একটা নিয়ম আছে, আমরা মায়ের মুখ কোনওদিন অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিই না। সে যত বড় শিল্পী হোক, আমি কোনওদিন অন্তত ঘোরাতে দিইনি। সামান্য চার বছর ঠাকুর এদিক থেকে ওদিকে সরেছিল। ২০২০ সালে করোনার সময়ে একটু খালি সরেছিল। আমার একটা কুকুর ছিল, সে বম্বে এয়ারপোর্টে মারা যায়। ২০২৩ সালে আমাদের খুঁটিটাকে সরিয়েছিল। আমার বাবা মারা যায়। ২০২৪ সালে মলমাসে খুঁটিপুজো হয়েছিল, আমার একটি প্রিয় কুকুর মারা যায়, তারপর আমার মা মারা যায়। এবছর যখন ঠাকুর সরানো হয়েছিল, আমি বারবার বারণ করেছিলাম যেন ঠাকুরটাকে না সরানো হয়। আমার পাড়ায় ঠাকুর খুব জাগ্রত। আমি প্রথমেই সবাইকে একই কথা বলতাম, আমরা ঠাকুরকে সরানো যাবে না। আমরা ঠাকুরটাকে ঠাকুর রেখেই পুজো করতে চাই'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)