স্ট্রিং থিয়োরি থেকে কৃষ্ণগহ্বর! প্রথম ভারতীয় হিসেবে অস্কার ক্লেইন মেডেল জয় বিশ্বরহস্যভেদের বিশিষ্ট গোয়েন্দা পদার্থবিদ অশোক সেনের
2026 Oskar Klein Medal: কলকাতায় বেড়ে ওঠা। উত্তর কলকাতার শৈলেন্দ্র সরকারে পড়াশোনা। সেখান থেকে বিশ্বমঞ্চে এই ভাবে স্বীকৃতিলাভ। ৩০ লক্ষ ডলারের পুরস্কারজয়! পদার্থবিদ অশোক সেনের মুকুটের নতুন পালক, শুধু তাঁরই ব্যক্তিগত নয়, তা বাংলার জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার মুকুটেও নয়া পালক। কেননা, তা বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করল। স্ট্রিং থিওরি নিয়ে গবেষণায় অশোক সেন পেলেন অস্কার ক্লেইন মেডেল।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কীভাবে সৃষ্টি হল? কোথা থেকে এল এই জগৎ? কীভাবে এই মহাবিশ্বের স্থিতি তথা প্রসারণ? আর, বিনাশ? এসব নিয়ে মানুষের অনন্ত প্রশ্ন। সেই সব প্রশ্ন নিয়েই নিজের বিদ্যাচর্চার পরিসরে নিয়ত ঘোরাফেরা করেন বিজ্ঞানী অশোক সেন। যিনি মূলত স্ট্রিং থিওরি নিয়ে কাজ করেন। যিনি ব্ল্যাক হোলের রহস্য নিয়ে ভাবেন। যিনি কীভাবে কৃষ্ণগহ্বর থেকে মহাবিশ্ব গড়ে উঠল, তা নিয়ে চিন্তা করেন। সেই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বিজ্ঞানী অশোক সেন। তারই ফলস্বরূপ ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেইন মেডেলে সম্মানিত হলেন এই বিশিষ্ট পদার্থবিদ। এই প্রথম কোনও ভারতীয় পদার্থবিদের হাতে উঠে এল এই সম্মান।
আরও পড়ুন: মূর্ত বিমূর্তার অনন্য রূপশিল্পী! দেওয়ালের ময়ূর
স্কটিশ চার্চ স্টোনি ব্রুক
১৯৫৬ সালের ১৫ জুলাই কলকাতায় জন্ম অশোক সেনের। বাবা অনিল কুমার সেন ছিলেন স্কটিশ চার্চ কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা। কলকাতার শৈলেন্দ্র সরকার স্কুলে পড়াশোনা। তারপর প্রেসিডেন্সি কলেজ। ১৯৭৫ সালে স্নাতক হওয়ার পর আইআইটি কানপুর থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে আমেরিকার স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি।
স্ট্রিং থিওরি-ব্ল্যাক হোল
অশোক সেনের গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র স্ট্রিং থিওরি। স্ট্রিং থিওরি এবং ব্ল্যাক হোল নিয়ে তাঁর দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণা। মহাবিশ্বের মৌলিক কণাগুলি কী ভাবে কাজ করে, তা নিয়েই গবেষণা। এক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান 'এস-ডুয়ালিটি' (S-duality)। এর মাধ্যমে স্ট্রিং থিওরির বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তা বোঝার নতুন রাস্তা খুলে যায়। ব্ল্যাক হোলের এনট্রপি এবং তার ভিতরের কোয়ান্টাম প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে অশোক সেনের গবেষণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণা মহাকর্ষ ও কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যায় নতুন পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।
স্ট্রিং থিওরি কী?
আমাদের মহাবিশ্ব কম্পনশীল সুতো দিয়ে তৈরি? কেমন হবে যদি এই অদৃশ্য সুতোগুলি কম্পিত হয়ে এই মহাবিশ্বে সব ধরনের পদার্থ ও শক্তি সৃষ্টি করে? স্ট্রিং থিওরি হল পদার্থবিজ্ঞানের একটি ধারণা, যা মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম পারমাণবিক কণার চেয়েও ছোট, স্পন্দিত স্ট্রিং দিয়ে তৈরি। এই সুতোগুলো মোচড়াতে, ভাঁজ হতে ও কম্পিত হতে হতে পদার্থ, শক্তি এবং তড়িৎচুম্বকত্ব, মহাকর্ষ ইত্যাদির মতো নানা ধরনের ঘটনার সৃষ্টি করে।
ব্ল্যাক হোল কী?
ডেভিড ফিঙ্কেলস্টাইন ১৯৫৮ সালে প্রথম 'কৃষ্ণগহ্বর'কে এমন একটি মহাকাশীয় অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখান থেকে কিছুই নিস্তার পায় না। এগুলি সাধারণ আপেক্ষিকতার একটি স্বাভাবিক পূর্বাভাস প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বহুদিন ধরে কৃষ্ণগহ্বরকে গাণিতিক কৌতূহল হিসেবে বিবেচনা করা হত। প্রথম পরিচিত কৃষ্ণগহ্বর ছিল সিগনাস এক্স-১, যা ১৯৭১ সালে বেশ কয়েকজন গবেষক স্বাধীনভাবে শনাক্ত করেছিলেন। তারপর থেকে ব্ল্যাক হোল তথা কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে পদার্থবিদ্যার জল বহুদূর এগোয়।
কী এই অস্কার ক্লেইন মেডেল
সুইডিশ পদার্থবিদ অস্কার ক্লেইনের নামে এই পদক দেওয়া হয়। আধুনিক পদার্থবিদ্যায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হয়ে থাকে। অস্কার ক্লেইন মেডেলই যেন
প্রকারান্তরে কলকাতার এক ছাত্র থেকে বিশ্বখ্যাত এক বিজ্ঞানী হয়ে ওঠা অশোক সেনের যাত্রাপথটিকে জুড়ে দেয়। তাঁর এই পুরস্কারজয় শুধু বাংলার নয়, সারা ভারতের বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেই গৌরবের।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)