বাসুদেব চট্টোপাধ্যায়: লাল দুর্গা বাড়ি। আসানসোলের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে কিছুটা উত্তরে গেলেই নিশ্চিন্তা বলে একটি গ্রাম রয়েছে। যেখানে রয়েছে এই লাল দুর্গা বাড়ি। ৫০০ থেকে প্রায় ৫৫০ বছর আগে এখানে দুর্গাপূজা শুরু হয়।
গ্রামের বাসিন্দা তথা এই পুজো যিনি করেন তার নাম শিব সাধন শিকদার। তিনি বলেন তার বাবা ও দাদুদের কাছে শুনেছেন এখানে তাদেরই বংশের সাধক জটাধারী শিকদার ছিলেন যিনি একটি বটগাছ তলায় তপস্যা করতেন। গ্রামে কোন জনবসতি ছিল না। পুরোটাই ছিল জঙ্গলে ভরা। সেই সময় সেই জটাধারী সাধক স্বপ্নাদেশ দেন ঐ স্থান দুর্গাপূজা করার জন্য। যে দুর্গা মন্দিরের ও দুর্গার রং হবে লাল। তবে এটা লাল তারা বলেন না, তারা বলেন তপ্ত কাঞ্চন অর্থাৎ সোনা পোড়ালে যে রংটি হয় সেই রঙের মায়ের পুজো হয়।
নিশ্চিন্তা গ্রামে সেই সময়ই জটাধারী সাধক বলেছিলেন মা আমার দক্ষিণে কিন্তু গণেশ থাকবে। তাহলে কার্তিক থাকবে ডানে। কারণ যখন আমি বলব ওম দক্ষিণে গনেশায় নমঃ তখন আমি আমার দক্ষিণ দিকেই পুষ্প দোব। তাই আমার দক্ষিণে যেন গণেশ থাকে। সেইমত আজও গণেশ দক্ষিণেই থাকে। তিনি বলেন সেই সময় নাকি বর্গীরা এখানে আস্তানা গেড়েছিল। সেই সময় বর্গীদের অনেক অসুবিধা হচ্ছিল এই বটগাছ তলায় সাধকের তপস্যা নিয়ে। তাই বর্গীরা আক্রমণ করেছিলেন। কিন্তু জটাধারী সাধক শিকদারকে নড়াতে পারেনি। তিনি তার তপস্যা চালিয়ে গিয়েছেন। উল্টে বর্গীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। কেউ কেউ নাকি সেখানে মুখে রক্ত তুলে মারাও যায়। পূর্বপুরুষের কাছে এই খবর তারা জানতে পেরেছেন। তারপর আস্তে আস্তে বসতি হতে শুরু করে।
শিকদার বাড়ির এই পুজোর সঙ্গে যারা রয়েছেন তারা বলেন তাদের মা দুর্গা আতপ বা গোবিন্দভোগ চালের ভোগ নেন না। তারা বাড়িতে যে চাল খায় অর্থাৎ সেদ্ধ চালে ভোগ হয়। কচু ও কুমড়ো দিয়ে তরকারি হয়। পাঁচ রকমের সবজি হয়। তবে নবমীর দিন পাঁচ রকমের সবজি সহ যে ছাগ বলি হয় তার অন্ডকোষের ভোগ দেওয়া হয় মাকে। তাকে চামুণ্ডার ভোগ বলা হয়। শিকদার পরিবারের এই পুজো বর্তমানে গ্রামের পুজোরূপে হয়।
গ্রামের যে মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে তারা পুজো কয়দিন বাপের বাড়ি চলে আসে। আবার যাদের এই গ্রামে বিয়ে হয়েছে তারা আবার বিয়ে কদিন বাপের বাড়ি বা অন্য কোথাও যায় না। পাশাপাশি তারা আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে যে বড় বড় পুজো হয় সেখানেও তারা যায় না। চার দিনই পূজো মণ্ডপে কাটায়। খুব ধুমধাম করে যৌথভাবে তারা পুজো ও অর্চনা করে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)