বাংলায় ভয়ংকর দুর্যোগের ঘনঘটা: ১৮০ কিমি বেগে রক্তচক্ষু নিয়ে এগিয়ে আসছে সাইক্লোন অর্ণব? রাজ্যের কোন কোন জেলায় কতটা ভয়াবহ হবে? ভয়ধরানো আপডেট
Cyclone Arnab Bengal Effect: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর গতিবেগ ছুঁতে পারে ১৮০ কিমি। ২৮ অক্টোবর অন্ধ্র ও ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা। বাংলায় ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের লাল সতর্কতা।
অয়ন ঘোষাল: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে ফুঁসছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ (Very Severe Cyclonic Storm 'Arnab')। গত ৬ ঘণ্টায় ঘণ্টায় ২০ কিমি বেগে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে এটি বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে মাত্র ১৭০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং কাকিনাড়া থেকে ১৯০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে কেন্দ্রীভূত রয়েছে এই ঝড়। ভারতীয় মৌসম ভবন (India Meteorological Department - IMD)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা এই ঝড় অত্যন্ত ভয়ংকর ও সংহারী রূপ ধারণ করতে চলেছে।
গতিপথ ও শক্তি: কখন কতটা বিধ্বংসী রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’?
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘূর্ণিঝড় তার চরম শক্তিশালী স্তরে পৌঁছবে। এই সময়ে সমুদ্রবক্ষে ঝড়ের একটানা গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৬০ কিমি, যা দমকা হাওয়ার আকারে সর্বোচ্চ ১৮০ কিমি (Gusting up to 180 kmph) পর্যন্ত ছুঁতে পারে।
আজ রাতে: বাতাসের গতিবেগ সামান্য হ্রাস পেয়ে ১৩৫-১৪৫ কিমিতে থাকবে (সর্বোচ্চ দমকা ১৬০ কিমি)।
বুধবার ভোর: গতিবেগ কমে হতে পারে ১২৫-১৩৫ কিমি (সর্বোচ্চ দমকা ১৫০ কিমি)।
ল্যান্ডফল
সবকিছু ঠিক থাকলে, ২৮ অক্টোবর দুপুরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী ইয়ানামের (Yanam) কাছে এটি প্রবল গতিতে আছড়ে পড়বে (Landfall)। উপকূলে আঘাত হানার সময় ঝড়ের বেগ থাকবে ঘণ্টায় ১২৫-১৩৫ কিমি (দমকা ১৫০ কিমি)। স্থলভাগে প্রবেশের পর ক্রমশ দুর্বল হয়ে ২৯ অক্টোবর এটি গভীর নিম্নচাপে (Deep Depression) পরিণত হবে।
উপকূল ও সমুদ্রের সার্বিক পরিস্থিতি
২৭ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে, যা সর্বোচ্চ ৬০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। সমুদ্র উত্তাল থেকে অত্যন্ত উত্তাল (Rough to Very Rough Sea Conditions) থাকার কারণে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বাংলায় প্রভাব: ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর জেলাভিত্তিক পূর্বাভাস
ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়লেও তার সরাসরি প্রভাব পড়বে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে:
দক্ষিণবঙ্গ (South Bengal)
আজ (২৭ অক্টোবর): কলকাতা, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে মেঘলা আকাশের পাশাপাশি হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।
২৮ অক্টোবর (ল্যান্ডফলের দিন): দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাতেই বৃষ্টির বিস্তার বাড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের (Heavy Rainfall) পূর্বাভাস রয়েছে। উপকূলে হাওয়ার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি।
২৯ অক্টোবর: বৃষ্টি সরে যাবে পশ্চিমাঞ্চলের দিকে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি ও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গ (North Bengal)
আজ: আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে।
২৮ অক্টোবর: সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
২৯ ও ৩০ অক্টোবর: দুর্যোগের ভরকেন্দ্র স্থানান্তরিত হবে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টিপাত (৭০-১১০ মিমি) হতে পারে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস (Landslide Risk) এবং নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের তরফ থেকে উপকূল ও পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
<source-footnote style="font-family:"Google Sans Text", sans-serif ;line-height:1.15 ;margin-left:0px ;margin-right:0px ;margin-top:0px ;" ng-version="0.0.0-PLACEHOLDER" _nghost-ng-c1413244154=""></source-footnote><sources-carousel-inline style="font-family:"Google Sans Text", sans-serif ;line-height:1.15 ;margin-left:0px ;margin-right:0px ;margin-top:0px ;" ng-version="0.0.0-PLACEHOLDER" _nghost-ng-c2407940318=""></sources-carousel-inline>