উৎসবের আলোয় কাটল বঞ্চনার আঁধার! চা বাগানে বসল তাক লাগানো বিনা পয়সার বাজার
Durga Puja 2026: দুর্গাপূজার আগে চা বাগানের দুঃস্থ শ্রমিক পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ‘বিনা পয়সার বাজার’-এর আয়োজন করল ইউনিক ফাউন্ডেশন। মাল ব্লকের ওয়াসাবাড়ি চা বাগানের কলাগাথী ডিভিশনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায় ২,০০০ চা শ্রমিক পরিবারকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পছন্দমতো জামাকাপড় বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
অরূপ বসাক: দুর্গাপুজো প্রায় দোরগোড়ায়। পাড়ার দোকান থেকে শপিংমল—সর্বত্রই এখন সাজো সাজো রব। চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। কিন্তু উৎসবের এই আলোর অন্য পিঠে রয়েছে বঞ্চনার অন্ধকার। চা বাগানের পরিশ্রমী শ্রমিক পরিবারগুলির কাছে আজও পুজোর নতুন জামাকাপড় কেনা অনেক সময় বিলাসিতা। স্বল্প মজুরিতে সংসার চালাতে গিয়ে উৎসবের আনন্দ থেকেও অনেকটা দূরে থাকতে হয় তাঁদের।
চা বাগানের সেই সমস্ত শ্রমিক পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে এক মানবিক উদ্যোগ নিল ইউনিক ফাউন্ডেশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় ‘বিনা পয়সার বাজার’-এর। এই উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজেদের পছন্দমতো পুজোর জামাকাপড় বেছে নেওয়ার সুযোগ পেলেন চা বাগানের দুঃস্থ শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এমনই মানবিক উদ্যোগের ছবি দেখা গেল মাল ব্লকের বাগরাকোট গ্রাম পঞ্চায়েতের ওয়াসাবাড়ি চা বাগানের কলাগাথী ডিভিশনে।
আরও পড়ুন: পুজোর মুখে দুর্যোগের মেঘ কাটল! সাগরে ফুঁসছে নিম্নচাপ, কিন্তু স্বস্তির বার্তা হাওয়া অফিসের
সেখানে প্রায় ২০০০-র বেশি চা শ্রমিক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় জামাকাপড়। সংগঠনের দাবি, এদিন প্রায় ২,০০০ মানুষের হাতে নতুন ও পুরনো জামাকাপড় তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে পুজোর দিনগুলিতে তাঁরাও আনন্দে মেতে উঠতে পারেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে শক্তি পাল ও গীতিকা পাল জানান, চা শ্রমিকদের পুজোর দিনগুলিকে আরও রঙিন করে তুলতেই তাঁদের এই ছোট্ট প্রয়াস। ‘বিনা পয়সার বাজার’-এর মাধ্যমে কোনও অর্থ ব্যয় না করেই যাতে শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা নিজেদের পছন্দমতো জামাকাপড় সংগ্রহ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাই করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন জামাকাপড় পেয়ে ভীষণ খুশি চা বাগানের শ্রমিক ও তাঁদের ছেলে-মেয়েরা। তাঁদের কথায়, অল্প মজুরিতে সংসার চালাতে গিয়ে পুজোর সময় নতুন পোশাক কেনা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। সেই পরিস্থিতিতে ইউনিক ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ তাঁদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।
আরও পড়ুন: বদলের বাংলায় মহালয়া থেকেই শুরু 'উত্সব'! শনিতে ইডেনে সরকারের মেগা অনুষ্ঠান
উৎসবের আনন্দ শুধু আর্থিকভাবে সচ্ছল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। পুজোর আগে ‘বিনা পয়সার বাজার’ তাই শুধু জামাকাপড় বিতরণের উদ্যোগ নয়, বরং চা শ্রমিক পরিবারগুলির মুখে হাসি ফোটানোর এক আন্তরিক মানবিক প্রচেষ্টা।
উল্লেখ্য, দুর্গোপুজোর আগেই এবার চা শ্রমিকদের হাতে ২০ শতাংশ বোনাস। শ্রমিক মহলে খুশির হাওয়া। মুখ্যমন্ত্রীর নির্ধারিত সময়সীমার আগেই নকশালবাড়ির পাহাড়গুমিয়া চা বাগানের প্রায় ২৬০০ শ্রমিক বোনাস পেয়েছেন। অতীতের সংঘাত ও টালবাহানা কাটিয়ে এবার কোনও ঝামেলা ছাড়াই অ্যাকাউন্টে ২০ শতাংশ হারে বোনাসের টাকা জমা পড়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)