বিধান সরকার: কৈলাশ থেকে মায়ের মর্ত্যে আগমন হবে। আর কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। কৈলাশে যাওয়ার সময় হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর যে কোনো কিছু একটা খবরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন পরিবারের সদস্যরা।
দেবীর আগমনে আলোয় সাজবে বাংলা,অন্ধকারে থাকবে চন্দননগরের পাটারী বাড়ি! এখনো খোঁজ নেই শিপ্রা পাটারীর।
কয়েকদিন পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে, পাড়ায় পাড়ায় আলোর মালায় সেজে উঠছে। মহালয়ায় মাতৃপক্ষের সূচনায় বাপের ঘরে ফিরবে উমা। কিন্তু চন্দননগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হরিদ্রাডাঙ্গা পূর্বপাড়ার পাটারী বাড়িতে বিষাদের সুর। হারিয়ে যাওয়া মায়ের ঘরে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে ২ ছেলে সহ গোটা পরিবার।
এক মাস পেরিয়ে গেল, এখনও কোনো খোঁজ নেই প্রাক্তন শিক্ষিকা শিপ্রা রায় পাটারীর। তিনি সিঙ্গুরের গোলাপ মোহিনী স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা। স্বামী রবীন পাটারী চুঁচুড়ার গড়বাটি স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক।
কলকাতার এক ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে ৩২ জনের একটি দলের সঙ্গে গত ২১ শে অগাস্ট নেপাল বেড়াতে গিয়েছিলেন শিপ্রা দেবী। ফেরার কথা ছিল ৬ই সেপ্টেম্বর। কিন্তু তার আগেই সব ওলটপালট। নেপালে আচমকা প্রাকৃতিক বিপর্যয়,হরপা বানে সব লন্ডভন্ড। আর তারপর থেকেই নিখোঁজ পর্যটক সহ কত মানুষ।শিপ্রার পরিবারের অনুমান, ঘটনার দিন সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ইমিগ্রেশন অফিসের কাছাকাছিই ছিলেন তিনি। ঘটনার কিছু সময় আগে ফোনে কথা বলেছিলেন ওই জায়গা থেকে। শিপ্রার দুই ছেলে অনিক ও নিলয় পাটারী।
শিপ্রার দেওর বাবলু পাটারী বলেন, ২৬শে অগাস্ট ঘটনাটা ঘটে। ২৮-২৯ তারিখ আমার দুই ভাইপো নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুটো দিন ওরা হাসপাতালে হাসপাতালে, প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরেছে। মাকে কোথাও খুঁজে পায়নি। পরে নেপাল পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়। দুই ছেলে নমুনা দিয়ে আসে। দমদম বিমানবন্দরে রাজ্য সরকারের তরফেও নমুনা নেওয়া হয়। নেপাল সরকার রিপোর্ট পাঠিয়েছে, কিন্তু তাতে আশাপ্রদ কিছু নেই।
বাবলু বলেন, রাজ্য সরকার দুবার মিটিং করেছে,ভাইপোরা গেছে। আমরা হাল ছাড়িনি। আমার বড় ভাইপো আমেরিকায় চাকরি করে, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছিল। তারপর সেখান থেকে চলে আসে নেপালে যায় মায়ের খোঁজে। এখন আবার আমেরিকায় যাওয়া জন্য এখন ভিসা পাচ্ছে না।রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে যাতে ভিসার ব্যবস্থা করা হয়।
মা দুর্গার আগমন আর কয়েকটা দিন পর তাই মায়ের কাছে প্রার্থনা করি, আমার বৌদি ফিরে আসুক। আমার ভাইপোরা যেন মাকে ফিরে পায়। একটা খবর অন্তত পাই জীবিত না মৃত। জীবিত থাকলে ছেলে দুটো মা হারা হবে না। যে মায়ের স্নেহ দিয়ে ওদের বড় করেছে, সেই মা যেন আবার ওদের মমতায় ফিরে আসে।
পুজোর আলোর মাঝেও চন্দননগরের এই বাড়িটা এখন "অন্ধকার"। গোটা পাড়া তাকিয়ে আছে একটা ফোনের দিকে যদি কোনো খবর আসে। রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পরিবারের একটাই আবেদন শিপ্রা দেবীর যেন কোন খোঁজ পাওয়া যায়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)