জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আধ্যাত্মিকতার আড়ালে গৃহবধূর শ্লীলতাহানি (Molestation), আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শিষ্যদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। বচসার জেরে মাথায় ইটের আঘাতে এক শিষ্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য হুগলির কোন্নগর (Konnagar) কানাইপুর এলাকায় গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান্ট (Ganga Action Plant Colony) লাগোয়া কলোনিতে। নিহত শিষ্যের নাম উৎপল সমাদ্দার (Utpal Samaddar, বয়স ৪৫)। ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত গণেশ হালদারকে (Ganesh Haldar) গ্রেফতার করেছে পুলিস। পাশাপাশি গোটা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্বঘোষিত গুরুদেব গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামীকে (Gopal Krishna Goswami) আটক করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সোমবার রাতে?
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার হাবরার (Habra) বাসিন্দা গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী নিজেকে গুরুদেব বলে দাবি করেন। হুগলির কানাইপুর এলাকায় তাঁর বেশ কয়েকজন শিষ্য ও ভক্ত রয়েছেন। সোমবার রাতে কানাইপুরের এক শিষ্যের বাড়িতে আসেন তিনি। অভিযোগ, সেখানে ওই শিষ্যের স্ত্রীর সঙ্গে চরম অশালীন আচরণ করেন এবং তাঁকে কুরুচিকরভাবে স্পর্শ (Bad Touch) করেন গোপাল কৃষ্ণ।
গৃহবধূ সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি খুলে বলেন। স্থানীয়দের দাবি, এই প্রথম নয়-- এর আগেও অন্য এক শিষ্যের স্ত্রীর সঙ্গে একই ধরনের আপত্তিকর আচরণ করার অভিযোগ উঠেছিল এই স্বঘোষিত গুরুর বিরুদ্ধে।
এর প্রতিবাদ হতেই হাতাহাতি ও ইটের আঘাতে মর্মান্তিক পরিণতি। গুরুর এহেন কুৎসিত আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিষ্যের বাড়িতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। জড়ো হন অন্যান্য ভক্ত ও প্রতিবেশীরা। শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ ও বচসা। অভিযোগ, সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি চলাকালীনই বিষয়টি চরম হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণেশ হালদার নামে এক ব্যক্তি হঠাৎই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বচসা চলাকালীন সে আচমকা একটি শক্ত ইট তুলে নিয়ে সজোরে উৎপল সমাদ্দারের মাথায় আঘাত করে। ইটের প্রচণ্ড আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন উৎপলবাবু। রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত (Declared Dead) বলে ঘোষণা করেন।
এলাকায় পুলিসি অভিযান
ঘটনার খবর পৌঁছতেই এলাকায় পৌঁছয় কানাইপুর পুলিস ফাঁড়ি (Kanaipur Outpost) এবং উত্তরপাড়া থানার (Uttarpara Police Station) বিশাল পুলিস বাহিনী। উত্তেজনা ছড়াতে থাকায় রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত গণেশ হালদারকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, মূল অভিযুক্ত স্বঘোষিত গুরু গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামীকেও তৎক্ষণাৎ আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিস।
খুনের মামলা রুজু
পুলিস জানিয়েছে, মৃতের দেহ ময়নাতদন্তের (Post-Mortem) জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই নির্দিষ্ট ধারায় খুনের মামলা (Murder Case) রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিস। একজন ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে এহেন ঘৃণ্য অভিযোগ এবং তার জেরে শিষ্যের প্রাণ যাওয়ার ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)