SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

এ-পুজোয় আসতেন উত্তম-মান্না, এ-বাড়িতে গান গেয়েছেন অপরেশ লাহিড়ী, তবলা বাজিয়েছেন বাপি

Salkia House Durga Puja 2026: আজ শ্যাওলা জমলেও এক সময় এ বাড়ির পুজো ঘিরে আলো আয়োজনের শেষ থাকত না। শ্রীরাম ঢ্যাং রোডের সেই শালিখা হাউজের গায়ে সময়ের ক্লান্তির ছাপ। তবু পুজো আসছে বলে নিস্তব্ধ ও মলিন সেই ঠাকুরদালানেই শুরু হয়েছে সাময়িক ব্যস্ততা। পুজোর ব্যস্ততা।

Written By Soumitra Sen
Published: Oct 13, 2026, 04:11 PM IST | Updated: Oct 13, 2026, 04:30 PM IST
Join

দেবব্রত ঘোষ: সংগীতের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠ যোগ সম্ভবত খুব কম প্রাচীন বনেদি জমিদারবাড়ির সঙ্গেই আছে। উত্তর হাওড়ার শালিখা হাউস। অপরেশ লাহিড়ী থেকে মান্না দে হয়ে বাপি লাহিড়ী এসেছেন এ-বাড়িতে। এখন অবশ্য এ-বাড়ির ঠাকুরদালানের সামনের উঠোনে জমে বর্ষার জমা। সেখানে জমেছে শ্যাওলা। এক সময় যে বাড়ির পুজো ঘিরে আলো আয়োজনের শেষ থাকত না, আজ শ্রীরাম ঢ্যাং রোডের সেই শালিখা হাউজের গায়ে সময়ের ক্লান্তির ছাপ শুধু। তবু পুজো আসছে বলে নিস্তব্ধ ও মলিন সেই ঠাকুরদালানেই শুরু হয়েছে সাময়িক ব্যস্ততা।

শালিখা হাউস

উত্তর হাওড়ার শালিখা হাউস। ঠাকুরদালানের সামনের উঠোনে বর্ষার জমা জল। তার মধ্যে জমেছে শ্যাওলা। এক সময় যে বাড়ির পুজো ঘিরে আলো আয়োজনের শেষ থাকত না, আজ শ্রীরাম ঢ্যাং রোডের সেই শালিখা হাউজের গায়ে সময়ের ক্লান্তির ছাপ। তবু পুজো আসছে বলে নিস্তব্ধ ঠাকুরদালানে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। পুরনো দেওয়ালের গন্ধের মধ্যেই যেন উসকে ওঠে পুরনো স্মৃতি। যেন নস্টালজিয়া। কারণ এই বাড়ির অন্যতম সদস্য বিখ্যাত গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: স্বপ্নাদেশে শুরু ৩০০ বছরেরও পুরনো পুজো; দেবীবিসর্জনে আজও মেনে চলা হয় এক বিশেষ রীতি

২৮২ বছরের দুর্গাপুজো

এই বাড়িতে বসেই পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন কালজয়ী বহু গান। পুজো অ্যালবামের জন্য তাঁর লেখা বহু গান সুপার হিট। প্রায় ২৮২ বছরের দুর্গাপুজোর সঙ্গে তাই এই বাড়ির ইট-কাঠের মতোই মিশে রয়েছে পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিও। ব্রিটিশ আমলে জমিদার রাধামোহন বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করেছিলেন এই সালিখা হাউজ। পুজোর সূচনা হয়েছিল। ব্যানার্জি পরিবারের জমিদারির সুবাদে এক সময় বাড়িটির পরিচয় ছিল 'বাবুদের বাড়ি' নামে। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয়ের জৌলুস অনেকটাই মুছে গিয়েছে। পরিবারের সদস্যরাও ছড়িয়ে পড়েছেন নানা প্রান্তে।

হয় না সিঁদুরখেলা

এখন এই বাড়িতে রয়েছেন এই প্রজন্মের সুস্মিত বন্দ্যোপাধ্যায়। বংশের এই প্রজন্মের একমাত্র সদস্য হিসেবে তিনি নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন পুজোর ভার। তিনি বলেন, জন্মাষ্টমীর দিন থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। সেদিনই কাঠামোয় মাটি পড়ে। মহালয়ার পরদিন থেকে বাড়িতে শুরু হয় চণ্ডীপাঠ। ষষ্ঠীতে গৃহদেবতা নারায়ণ ও মঙ্গলচণ্ডীকে নিয়ে আসা হয় ঠাকুরদালানে। সপ্তমীতে বাড়ুজ্জে ঘাটে কলাবউ স্নান। অষ্টমীর সন্ধিপুজোর পাশাপাশি হয় কুমারী পুজো ও সধবা পুজো। নবমীতে আখ, ছাঁচি কুমড়ো ও শশা বলির রীতি রয়েছে। পুজোর ভোগেও বদল আসেনি বিশেষ। দশমীতে মাকে বিশেষ ভোগ দেওয়া হয়। চালতা দিয়ে মসুর ডাল, পান্তা ভাত, তরকারি ও  ল্যাটা মাছ পোড়া। সিঁদুর খেলার রীতি অবশ্য নেই এই বাড়িতে।

উত্তম কুমার, মান্না দে

সুস্মিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সেই সময় পুজোয় এই বাড়িতে আসতেন উত্তম কুমার, মান্না দে-সহ বহু গুণী মানুষ। বসত গানের আসর। এই বাড়িতে গান গেয়েছেন অপরেশ লাহিড়ী, তবলা বাজিয়েছেন বাপি লাহিড়ী। ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে পুলকের অকালমৃত্যুর পরে পুজোর জৌলুসও নিষ্প্রভ হয়েছে। এখন পুজো শেষ হলেই গোটা বছর খাঁ খাঁ করে সালিখা হাউজ। আর জীর্ণ ঠাকুরদালানে থেকে যায় পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই অমর প্রার্থনার প্রতিধ্বনি ‘আমায় একটু জায়গা দাও মায়ের মন্দিরে বসি'। জীবনের শেষ অ্যালবামের সেই গান এই বাড়িতে বসেই লেখা।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
 

Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

পেশায় দীর্ঘদিন। প্রিন্ট মিডিয়ায় শুরু। ওপিনিয়ন পেজ এবং ফিচারই সবচেয়ে পছন্দের। পাশাপাশি ভ্রমণসাহিত্য, সংগীত ও ছবির মতো চারুকলার জগৎও। অধুনা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অ্যাস্ট্রো, লাইফস্টাইল, পপুলার সায়েন্স ও ইতিহাস-অ্যানথ্রোপলজিক্যাল বিষয়পত্তরও। আদ্যন্ত কবিতামুগ্ধ. তবু বিভিন্ন ও বিচিত্র বিষয়ের লেখালেখিতে আগ্রহী। সংবাদের অসীম দুনিয়ায় উঁকি দিতে-দিতে যিনি তাই কখনও-সখনও বিশ্বাস করে ফেলেন-- 'সংবাদ মূলত কাব্য'!

ZEENEWS TRENDING STORIES