বাংলায় সংগঠন বিস্তারে জোর! তিনদিনের গোপন বৈঠক শেষে ফিরে গেলেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত
Mohan Bhagwat: দক্ষিণবঙ্গ সহ গোটা বাংলায় সংগঠনের বিস্তার খতিয়ে দেখে তাকে আরও সুশৃঙ্খল এবং ধারালো রূপ দিতে চান আরএসএস প্রধান। শতাব্দী প্রাচীন এই সংগঠন আড়ে বহরে বাড়ছে। তাই তাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে কিছুটা রদবদল ঘটতে পারে বলেও জানা গেছে।
পার্থ চৌধুরী: তিনদিনের ঠাসা কর্মসূচি সেরে বর্ধমান থেকে ফিরে গেলেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। শনিবার সকালে বর্ধমান ছাড়লেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে বর্ধমানের উল্লাসে আরএসএসের মধ্যবঙ্গ প্রান্তের অফিসে এসেছিলেন মোহন ভাগবত। বর্ধমানে গত তিনদিন তাঁর ঠাসা কর্মসূচি ছিল। উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের শীর্ষস্তরে থাকা স্বয়ংসেবকদের সাথে বৈঠক করেন তিনি। বর্ধমানের উল্লাসে আরএসএসের দুটি কার্যালয়ে দফার দফায় বৈঠক হয়।
সাম্প্রতিককালে আরএসএস সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের এই তৃতীয় বর্ধমান সফর ছিল ব্যস্ত সিডিউলে মোড়া। জানা গেছে, দক্ষিণবঙ্গ সহ গোটা বাংলায় সংগঠনের বিস্তার খতিয়ে দেখে তাকে আরও সুশৃঙ্খল এবং ধারালো রূপ দিতে চান আরএসএস প্রধান। গত বৃহস্পতিবার রাতেই উল্লাসে মধ্যবঙ্গ প্রান্ত কার্যালয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক তার সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এছাড়াও পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান বিভাগের ক্ষেত্রপ্রমুখদের সঙ্গেও বৈঠক সূচি ছিল সঙ্ঘ প্রধানের। বৃহস্পতিবার হাটুদেওয়ানের মডেল স্কুলে বর্ধমান বিভাগের প্রশিক্ষকদের নিয়েও বৈঠক হয়। যদিও সবটাই ছিল কড়া নিরাপত্তা ও গোপনীয়তায় মোড়া। তিনদিন পরে বর্ধমান ছাড়লেন মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার সকালেই আরএসএসের মধ্যবঙ্গ প্রান্তের অফিসে আসার পর, শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় সাংগঠনিক বৈঠক। উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের শীর্ষস্তরে থাকা স্বয়ংসেবকদের নিয়ে তাঁর বৈঠক চলে।
শুক্রবার দুপুরে মোহন ভাগবত সকলের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারেন বাজরার রুটি আর পনিরের তরকারি দিয়ে। জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গ সহ গোটা বাংলায় সংগঠনের বিস্তার খতিয়ে দেখে তাকে আরও সুশৃঙ্খল ও ধারালো রূপ দিতে চান আরএসএস প্রধান। শতাব্দী প্রাচীন এই সংগঠন আড়ে বহরে বাড়ছে। তাই তাদের সাংগঠনিক কাঠামোতে কিছুটা রদবদল ঘটতে পারে বলেও জানা গেছে।
এবারে মোহন ভাগবতের সফর আরও অন্য কারণেও ছিল বিশেষ! এবারেই প্রথম পূর্ব ভারতের এই রাজ্যে বিপুল জনাদেশ পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তার রাজনৈতিক শাখা কতটা যত্নবান তা তীক্ষ্ণ নজরে রেখেছে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের সংগঠন। বিশেষত শ্যামাপ্রসাদের রাজ্যে তারা এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সিরিয়াস।
বৃহস্পতিবার রাতেই উল্লাসে মধ্যবঙ্গ প্রান্ত কার্যালয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক তাঁর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের মালদা সফর সেরে মুখ্যমন্ত্রী এখানে আসেন। যদিও আরএসএসের ক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু জানিয়েছেন, সংঘ পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। সংগঠন বিস্তারের নানা দিক নিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা হয়েছে। উনি পরিবারের প্রধান। তিনটি প্রান্তের স্বয়ংসেবকরাই তাঁর কথা শুনেছেন।