প্রদ্যুত্ দাস: মহালয়া মানেই ভোরের আলো ফোটার আগে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে "মহিষাসুরমর্দিনী"। প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক না কেন, রেডিওতে মহালয়া শোনার অনুভূতি একেবারেই অন্যরকম।
জলপাইগুড়ির কদমতলা এলাকার এক প্রাচীন দোকানে আজও সেই আবেগের ছোঁওয়া মেলে। গৌতমবাবু প্রায় কয়েক দশক ধরে রেডিও সারাই করে আসছেন। মোবাইল,টিভি,ইন্টারনেটের যুগেও তিনি এখনো নেশার টানে রেডিও নিয়েই ব্যস্ত।
প্রতি বছর মহালয়ার আগেই তার দোকানে ভিড় বাড়ে। পুরনো রেডিওকে নতুন করে সচল করার জন্য ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। অনেকের বাড়িতে এখনও দাদু-ঠাকুমার স্মৃতির রেডিও সাজানো থাকে। মহালয়ার প্রাক্কালে সেই রেডিও বাজানোর আনন্দ আলাদা। তাই মানুষ নতুন যন্ত্রে নয়,বরং পুরোনো রেডিওতেই খোঁজে ভক্তির সুর।
গৌতম বাবু বলেন, “মহালয়া মানেই রেডিও। যতই মোবাইল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আসুক, রেডিওর কদর শেষ হবে না।”
তার দোকানে আজও মেরামত হয় বিভিন্ন কোম্পানির বিরল রেডিও। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই কাজের সাথে যুক্ত। আজও তিনি পেশার পাশাপাশি একপ্রকার নেশার টানে রেডিও সারাই করে চলছেন। এই আবেগ আর স্মৃতিই জলপাইগুড়িতে রেডিওর কদর অটুট রেখেছে। মহালয়ার প্রাক্কালে তাই রেডিওর টান যেন বাঙালির শিকড়ে ফিরে যাওয়ার এক সেতুবন্ধন।