পার্টি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যেই বসবে সিপিআইএমের পুজোর বইয়ের স্টল: বড় রায় আদালতের
Calcutta High Court on CPIM Book Stall: বনগাঁয় পার্টি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে সিপিআইএমকে বুকস্টল তৈরির অনুমতি কলকাতা হাইকোর্টের। রাজ্যের স্থগিতাদেশের আর্জি খারিজ করলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
অর্ণবাংশু নিয়োগী: দুর্গাপুজোর (Durga Puja) মুখে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় সিপিআইএমের (CPIM) ঐতিহ্যবাহী বুকস্টল (Book Stall) বসানো নিয়ে বড় আইনি জয় পেল বামেরা। রাজ্যের আপত্তি ও পুলিসি বাধার মুখে দাঁড়িয়ে কড়া অবস্থান কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Justice Saugata Bhattacharyya) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সিপিআইএমের বনগাঁ পার্টি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যেই বুকস্টল তৈরি করতে দিতে হবে।
শুধু তাই নয়, এই রায়ের ওপর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থগিতাদেশ (Stay Order) চাওয়া হলে তা সটান খারিজ করে দেন বিচারপতি। একই সঙ্গে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিস মোতায়েন এবং ২৩ নভেম্বরের মধ্যে জেলা পুলিস সুপারকে (SP) আদালতে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট পেশের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এজলাসে রাজ্যের জোড়া আপত্তি
শুনানি চলাকালীন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) সুরজিৎ নাথ মিত্র এবং অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (AAG) বিল্বদল ভট্টাচার্য দাবি করেন, হাইওয়ের (Highway Authority) ওপর কোনও স্থায়ী বা অস্থায়ী নির্মাণ করা যায় না এবং সিপিআইএম পিডব্লিউডি-র (PWD) কোনও অনুমতি নেয়নি।
রাজ্যের আরও দাবি, যে বাড়িতে সিপিআইএমের কার্যালয়, সেই বাড়ির মালিক হিন্দু জাগরণ মঞ্চকে (Hindu Jagran Manch) স্টল করার অনুমতি দিয়েছেন। এমনকি রাজ্য সওয়াল করে-- পুলিস কোনও নির্মাণে সহায়তা বা নিরাপত্তা দিতে পারে না।
রাজ্যের এই অবস্থানে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন:
'আদালত এটা দেখে স্তম্ভিত যে, বাকিরা কোনও অনুমতি ছাড়াই নিজেদের মর্জিমতো যত্রতত্র স্টল গড়ে তুলল, আর সিপিআইএম-কে আলাদা করে অনুমতি নিয়ে স্টল করতে হবে?'
'আইন সবার জন্য সমান (Equality Before Law)
একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম নীতি থাকতে পারে না। কাউকে অনুমতি দিলাম আর কাউকে আটকে দিলাম-- প্রশাসনের এই আচরণে সমাজে ভুল বার্তা যাবে।'
'কেউ দুর্বল হলে পুলিস বাধা দেবে, আর কোনও শক্তিশালী পক্ষ কাঠামো বানালে পুলিস দাঁড়িয়ে তামাশা দেখবে-- এটা কোনও গণতান্ত্রিক রাজ্যে চলতে পারে না।'
'২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব ভেঙে দিন, নয়তো নীতি বানান'
বিচারপতি আরও স্পষ্ট ভাষায় জানান, হাইওয়ে অথরিটির সমস্যা থাকলে তারা আদালতে এসে বক্তব্য রাখুক। আদালত রাজ্যকে কড়া বার্তা দিয়ে বলে, 'যদি সত্যিই নিয়ম ভাঙা হয়ে থাকে, তবে আগামীকালের মধ্যে হাইওয়ের ওপর তৈরি সব স্টল ও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিন। তাহলে কারও কোনও সমস্যা থাকবে না। আর যদি তা না পারেন, তবে সিপিআইএমকেও স্টল করতে দিতে হবে।'
রাজ্যকে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট স্থায়ী নীতি তৈরির জন্য এক বছর সময় দেন বিচারপতি।
ডিভিশন বেঞ্চ ঘুরে একক বেঞ্চে রাজ্যে আবেদনে সায় দিল না কোর্ট
এর আগে বনগাঁ থানার আইসি-কে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির (Chief Justice) ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য। কিন্তু প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটিকে ফের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসেই পাঠিয়ে দেয়। সেখানে পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে উৎসবের মুখে লাল বইয়ের স্টল বসানোর পথ পুরোপুরি প্রশস্ত হল।
সিপিএমকে বুকস্টলের অনুমতি সিঙ্গেল বেঞ্চের। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের পথে রাজ্য।
আগামীকালই জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির সম্ভবনা।
আরও পড়ুন: 'ওঁরা বই বিক্রি করতে চায়, খাবার নয়': পুজোয় সিপিএমের বুকস্টলে বাধা কেন? রাজ্যকে বড় প্রশ্ন হাইকোর্টের
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)