'আমার মেয়ের ক্ষেত্রে ঘটনার পুনর্নির্মাণ হয়নি', গাইঘাটা এনকাউন্টার কাণ্ডে বিস্ফোরক বিধায়ক রত্না দেবনাথ
Gaighata Encounter: রত্না দেবনাথ বলেন, অবশ্যই মানুষ ভয় পাবে। তবে তার আগে নেশা জাতীয় বস্তু তলে দেওয়া উচিত
বরুণ সেনগুপ্ত: বারুইপুর কাণ্ডের তিন মাস পর গাইঘাটা। এনকাউন্টারে খতম ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। পুলিসের দাবি, পুলিসের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি লালিয়ে দিয়েছিল প্রহ্লাদ। তার পরেই পাল্টা গুলি চালায় পুলিস। তাতেই মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের। ওই ঘটনাকে সমর্থন করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পানিহাটির বিধায়িকা রত্না দেবনাথ।
আরজিকর মেডিক্য়াল কলেজে ধর্ষণ করে খুন করা হয় ডাক্তারির ছাত্রী ও রত্না দেবনাথের মেয়েকে। সেই ঘটনায় উত্তাল হয়েছিলে গোটা রাজ্যে। দফায় দফায় অচল হয়েছিল রাজ্য। ওই ঘটনার পর রাজ্যে পট পরিবর্তন হয়েছে। বিধায়িকা হয়েছেন রত্না। গাইঘাটার এনকাউন্টার নিয়ে এবার সরব হলেন তিনি।
বিধায়িকা রত্না দেবনাথ বলেন, আমার মেয়ের মত ওই মেয়েটিকেও খুন করা হয়েছে। এনকাউন্টার হয়েছে। ওর মায়ের হয়ত কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ওর মা ছেলেটাকে ভালো মানুষ তৈরি করতে পারেননি। যারা মেয়েদের ভোগ্যপণ্য় হিসেবে দেখে তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এই এনকাউন্টার আমি সমর্থন করি।
আরও পড়ুন-বারুইপুর রিটার্নস! গ্রেফতারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাইঘাটাকাণ্ডে এনকাউন্টার প্রহ্লাদের, ঠিক কী ঘটেছিল?
আরজিকর-এ নির্যাতিতার মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে রত্না বলেন, তখনকার প্রশাসন যারা অপরাধী তাদের ধরার থেকে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা দ্বিগুণ হয়েছিল। সেই কাণ্ডে যুক্ত ছিলেন আমাদের এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক, কাউন্সিলর, আমাদের পাশের বাড়ির সঞ্জীব মুখার্জি। আমরা সেকেন্ড পোস্ট মর্টেম চেয়েও করতে পারিনি। ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে গাইঘাটায় এনকাউন্টার হয়েছে। আমার মেয়ের ক্ষেত্রে ঘটনার পুনর্নির্মাণও হয়নি। তবে তদন্ত এগোচ্ছে। বিচার অবশ্যই হবে। চাইছি অপরাধীরা ধরা পড়বে। এবং তাদের এমন শাস্তি হবে যেন তারা আর এমন কাজ করতে সাহস না পায়। আমার মেয়ে একজন ডাক্তার। হসপাতালে অনডিউটি অবস্থায় এতবড় একটা ক্রাইম ঘটে গেল। এটা শুধু আমরা বাবা-মা নয়, গোটা বিশ্ব এই বিচারটা চায়।
উল্লেখ্য, ২৪ অক্টোবর পাড়ায় জলসা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার এক নাবালিকা স্কুল পড়ুয়া। পরেরদিন রবিবার সকালে প্রতিবেশীর উঠোনে কিশোরীর অর্ধনগ্ন রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়,তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। গাইঘাটার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে মামার বাড়িতে থাকত নির্যাতিতা কিশোরী। সেখানে একটি স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ত সে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)