রাজীব চক্রবর্তী: কয়েক মাস আগে এমন জিনিস কল্পনাও করা যেত না। কিন্তু সময় যেতেই সেটাই হল। রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসবে দেখতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে ভরাডুবির পর পাঁকে পড়ে সুর নরম মমতার? আগে রাহুলকে বসন্তের কোকিল বলে একাধিকবার কটাক্ষ করেছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন তখন একরকম, আর রাজ্যে ক্ষমতায় আসা পর তাঁর মধ্যে ধীরে ধীরে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বাসনা তৈরি হতে থাকে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। তাঁর দলের নেতারা বহুবার বলেছেন যে তাঁরা মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। সেই দাবি বিভিন্ন সভাতে উঠে এসেছে।
এদিকে, গত বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ক্ষমতা বদল হয়েছে। এখন মমতা রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন। এমনটাই সূত্রের খবর। আড়াই বছর পরে লোকসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তখনই প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু সেই আলোচনা হচ্ছে এখন।
গতকাল নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, সেখানেই মমতা কথা তোলেন, রাহল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁর কোনও সমস্যা নেই। এনিয়ে তাঁর কোনও ইগো নেই। কোনও আপত্তিও নেই। প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা সমর্থন করছেন কংগ্রেসকে। অর্থাত্ কোথাও না কোথাও কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকতে চাইছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন-
মমতার ওই কথা শুনে কী বলছে কংগ্রেস? সূত্রের খবর, কংগ্রেস সভাপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে তারা কোনও ভাবনাচিন্তা করছেন না। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হল দেশের গণতন্ত্র বাঁচানো।
কংগ্রেস বিষয়টিকে খুব বেশি পাত্তা দেয়নি। ফলে মমতার ওই প্রস্তাব অপ্রত্যাসিত বলা যেতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে প্রস্তাবটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস এখন যথেষ্টই পাঁকে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস এখন কংগ্রেসের আঁচল ধরেই বাঁচতে চাইছে।
মমতার ওই কথা নিয়ে সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, মমতা বিজেপির এজেন্ট। এখন বিপদে পড়েছেন তাই ওকে ভেসে থাকতে হবে।