বারাসাতে হাড়হিম ঘটনা: এমবিবিএস অমৃতাকে ওপারে পাচারের হুমকি বাংলাদেশি স্বামীর? পর্দাফাঁস পিশাচ আব্দুলের
বাংলাদেশে ডাক্তারি পড়তে গিয়ে প্রেম ও বিয়ে। বারাসাতে ফিরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং ওপারে নিয়ে যাওয়ার হুমকির অভিযোগ বাংলাদেশি স্বামী আবদুল ওকিলের বিরুদ্ধে। আটক অভিযুক্ত।
মনোজ মণ্ডল: বাংলাদেশে MBBS পড়ার সময় প্রেম, তারপর বিয়ে। কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসার পরই সম্পর্কের মোড় ঘুরল নারকীয় নির্যাতনে! অভিযোগ, ভারতীয় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে জোর করে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল দিনের পর দিন। বারাসাতের এই রোমহর্ষক ঘটনায় অবশেষে বাংলাদেশি স্বামী আবদুল ওকিলকে আটক করল পুলিস।
কী ভাবে প্রেমের ফাঁদ থেকে আন্তর্জাতিক দাম্পত্য সংঘাতের রূপ নিল এই ঘটনা? নেপথ্যে কি অন্য কোনও ছক?
ভিনদেশে ডাক্তারি পড়তে গিয়ে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম এবং পরিণয়। কিন্তু সেই রূপকথার সম্পর্কের পরিণতি যে এমন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা হয়ত দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি অমৃতা দত্ত চৌধুরী। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপর নেমে আসে লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। শুধু তাই নয়, অমৃতা ও তাঁর দুই নাবালক সন্তানকে জোর করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়ারও মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট জড়ানো এই বধূ নির্যাতন (Domestic Abuse) কাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত (Barasat) এলাকায়। ঘটনার জেরে ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী আবদুল ওকিলকে আটক করেছে পুলিস।
সীমান্ত পেরিয়ে প্রেম ও পরিণয়ের ঘটনার নেপথ্যে কী?
স্থানীয় সূত্রে ও অভিযোগকারিণীর বয়ান অনুযায়ী, অমৃতা দত্ত চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশেই অভিযুক্তর প্রাথমিক আলাপ ক্রমে গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে রূপ নেয় ওদেশেই। এরপর পারিবারিক মত ও সামাজিক নিয়মের তোয়াক্কা না করেই তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
চিকিৎসা শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে অমৃতা প্রথমে ভারতে ফিরে আসেন। কিছুদিন বাদে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন আব্দুলও। বারাসাতেই অমৃতার পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। দাম্পত্য জীবনের এক বছরের মাথায় তাঁদের একটি পুত্রসন্তান হয় এবং তার দু’বছর পর জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। কিন্তু সন্তান জন্মের পরই সম্পর্কের সমীকরণ দ্রুত বদলে যেতে থাকে।
অভিযোগের ভয়াবহতা
অমৃতার দাবি, ভারতে আসার পর প্রথম দিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও, ধীরে ধীরে আবদুলের আচরণে চরম বদল আসে। তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণে শুরু হয় অকথ্য শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার (Physical and Mental Torture)। অভিযোগ, নিত্যদিনের মারধর ও হেনস্তার পাশাপাশি বধূকে রীতিমতো ব্ল্যাকমেল করা হতে থাকে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক অভিযোগ-- দুই সন্তান-সহ অমৃতা যেন ভারতে না থেকে তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশে চলে যান, তার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন আবদুল। রাজি না হলে তাঁদের জোর করে সীমান্ত পার করিয়ে বাংলাদেশে চালান করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারিণীর দাবি। এক প্রকার বন্দিদশা এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটছিল ওই বধূ ও তাঁর দুই সন্তানের।
পুলিসি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
অভিযোগকারিণীর দাবি অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সীমান্ত পারের বিয়ে, নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য আইনি জটিলতার (Cross-Border Legal Jurisdiction) কারণে বিষয়টি দীর্ঘায়িত হতে থাকে এবং তিনি কোনও দ্রুত প্রতিকার পাচ্ছিলেন না। দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকায় বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে আসে।
আরও পড়ুন: বারুইপুর রিটার্নস! গ্রেফতারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাইঘাটাকাণ্ডে এনকাউন্টার প্রহ্লাদের, ঠিক কী ঘটেছিল?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)