ধনদেবী লক্ষ্মীর সঙ্গেই এখানে পূজিত হন বিদ্যাদেবী সরস্বতীও! এক মণ্ডপে দুই বোন ও তাঁদের ঘিরে চার লুক-লুকানি
Kojagari Lakshmi Puja 2026: ধনদেবীর সঙ্গেই এখানে পূজিত হন সরস্বতী। কোজাগরীতে আকর্ষণ সস্তার জিলিপির মেলা। শারদোৎসব শেষ হলেও উৎসবের রেশ এতটুকু কমেনি ঝাড়গ্রামের বিনপুর ২ নম্বর ব্লকের হাড়দা গ্রামে।
সৌরভ চৌধুরী: ধনদেবীর সঙ্গেই এখানে পূজিত হন সরস্বতী। কোজাগরীতে আকর্ষণ সস্তার জিলিপির মেলা। শারদোৎসব শেষ হলেও উৎসবের রেশ এতটুকু কমেনি ঝাড়গ্রামে। এ ছবি ঝাড়গ্রামের বিনপুর ২ নম্বর ব্লকের হাড়দা গ্রামের। কোজাগরী পূর্ণিমা উপলক্ষে এখানে ধনদেবী মা লক্ষ্মীর সঙ্গেই পূজিত হন বিদ্যার দেবী সরস্বতী।
শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পুজো
সাহা ও মণ্ডল পরিবারের শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী পুজো আজ রূপ নিয়েছে এক সর্বজনীন উৎসবে। তা স্থানীয় ভাবে হয়ে উঠেছে এক মহামিলনের মঞ্চ। এই পুজোকে কেন্দ্র করেই জমে উঠেছে সুবিখ্যাত জিলিপির মেলা। একই কাঠামোর উপর তৈরি মৃন্ময়ী প্রতিমায় রয়েছে এক অনন্য লৌকিক ছোঁয়া। হালকা গোলাপি শাড়িতে দেবী লক্ষ্মী এবং শ্বেতশুভ্র বসনে দেবী সরস্বতী-- একসঙ্গে পূজিত হন দুই বোন। চালচিত্রের শীর্ষে বিরাজ করেন স্বয়ং পীতবসনধারী নারায়ণ। আর দুই দেবীর চারপাশে অবস্থান করেন চার সখী, স্থানীয় ভাষায় যাঁদের বলা হয় ‘লুক-লুকানি’। উদ্যোক্তাদের ভাষায়, এ যেন বৈকুণ্ঠপতির গোটা সংসারেরই আবাহন।
আলো আতসবাজির উৎসব
বর্তমানে হাড়দায় গড়ে উঠেছে স্থায়ী লক্ষ্মী মন্দির। একই প্রাচীন কাঠামোয় প্রতি বছর প্রতিমা নির্মাণ করা হয়। আশ্বিনের কোজাগরী পূর্ণিমায় শুরু হয়ে পুজো চলে প্রতিপদের ভোর পর্যন্ত। এরপর কৃষ্ণা তৃতীয়ায় ঘট বিসর্জন এবং কৃষ্ণপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে সম্পন্ন হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার বাজেট, পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য উৎসব এবং চোখধাঁধানো পরিবেশবান্ধব আতসবাজির প্রদর্শনী দেখতে ভিড় জমান দূর-দূরান্তের মানুষ।
বিশাল জিলিপিমেলা
তবে এ লক্ষ্মী পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এখানকার বিশাল জিলিপির মেলা। যা চলে প্রায় পক্ষকালব্যাপী। খোলা বাজারে যেখানে জিলিপির দাম প্রতি কেজি ১৪০ টাকা বা তারও বেশি, এই মেলায় সেখানে পুজো কমিটির বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট দাম মাত্র ১১০ টাকা প্রতি কেজি! দোকানিদের থেকে মেলার স্টল বাবদ যা-ই নেওয়া হোক না কেন, ক্রেতাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে দামের রাশ থাকে কমিটির হাতেই। সুলভ মূল্যে গরম ও মুচমুচে জিলিপি চেখে দেখার জন্য কম মানুষ ভিড় করেন না!
ভক্তি, সংস্কৃতি এবং রসনাতৃপ্তির মেলবন্ধন
জিলিপির টানে শুধু ঝাড়গ্রাম নয়-- বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এমনকি প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকেও ছুটে আসেন হাজার হাজার মানুষ ও পর্যটক। সামগ্রিক ভাবে উৎসবকে চাক্ষুস করার জন্যও আসেন বহু মানুষ। সব মিলিয়ে ভক্তি, সংস্কৃতি এবং রসনাতৃপ্তির মেলবন্ধনে হাড়দার লক্ষ্মীপুজো আজ গোটা জেলার এক অনন্য উৎসবের প্রতীক।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)