সন্দীপ ঘোষ চৌধুরী: দেহ নেই, শুধু মস্তকেই পূজিতা দেবী! কেতুগ্রামের গোমাই গ্রামে ৩০০ বছরের ঐতিহ্য ‘কাটা মুন্ডু দুর্গা’। দেবীর দেহ নেই, নেই হাত কিংবা বাহু, তবুও তিনিই দুর্গা! শুধুমাত্র দেবীর মস্তককে কেন্দ্র করেই প্রায় ৩০০ বছর ধরে চলে আসছে দুর্গাপুজো।
পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার গোমাই গ্রামের রায় পরিবারের এই ব্যতিক্রমী পুজো পরিচিত ‘কাটা মুন্ডু দুর্গা’ নামে। পরিবারের সদস্য ও সেবায়েতদের মতে স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। প্রাচীন রীতি মেনে আজও বংশপরম্পরায় নিষ্ঠার সঙ্গে চলে আসছে দেবীর আরাধনা। এই বিশেষ মূর্তি তৈরি হয় পার্শ্ববর্তী শিবলুন গ্রামে।
ষষ্ঠীর দিন কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় থালায় করে দেবীর মস্তক নিয়ে আসা হয় গোমাই গ্রামে। সপ্তমীতে মন্দিরের সিংহাসনে প্রতিষ্ঠার পর শুরু হয় মূল পুজো। দশমীর দুপুরে সম্পন্ন হয় বিসর্জন। পুজোয় রয়েছে বলি প্রথাও।
কাটা মুন্ডু মাকে ঘিরে ভক্তদের বিশ্বাসও গভীর। পূর্ব বর্ধমানের পাশাপাশি বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ থেকেও বহু মানুষ পুজো দিতে আসেন। বিশেষ করে চোখের রোগ থেকে মুক্তির আশায় অনেকে মানত করেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রচলিত দুর্গাপ্রতিমার বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেবীর আরাধনা, প্রাচীন রীতিনীতি আর অগাধ ভক্তি,সব মিলিয়ে কেতুগ্রামের গোমাই গ্রামের ‘কাটা মুন্ডু দুর্গা’ পুজো বাংলার ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।
রায় পরিবারের সদস্য প্রদীপ রায় বলেন, এখানে মায়ের যে মূর্তি তা স্বপ্নাদেশে পাওয়া। তার পর থেকে বংশ পরম্পরায় চলে আসছে এই পুজো। এখানে অন্নভোগ হয় না, আতপ ভোগ হয়। সারা বছর নিত্য সেবা হয়। আমাদের এখানে শাস্ত্র মতে পুজো হয, বৈষ্ণব মতে পুজো হয় না। আমাদের বলি রয়েছে। বংশ পরম্পরায় এই মূর্তি তৈরি হয়ে শিবলুন গ্রামে। সেখানে থেকে ষষ্ঠীর দিন মাথায় করে নিয়ে আসা হয় এখানে। সপ্তমীর দিন মন্দিরে মূর্তি সিংহাসনে বসানো হয়। তার পর পুজো শুরু হয়। দশমীর দিন দুপুরে বিসর্জন হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)