আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক অবান্তর, যার যা ইচ্ছা তাই খাবে দুর্গাপুজোয়: কার্তিক মহারাজ
Kartik Maharaj: মাহেশে দাঁড়িয়ে কার্তিক মহারাজ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, "আমিষ-নিরামিষ নিয়ে অযথা-ই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে... খাদ্যাভ্যাস মানুষের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। সেখানে কে কী খাবে, কে কী পরবে, সেই বিষয়ে কার কী বলার থাকতে পারে!"
বিধান সরকার: আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক অবান্তর। দুর্গাপুজোয় যার যা ইচ্ছা সে সেটা খাবে। বললেন কার্তিক মহারাজ। সম্প্রতি বাংলায় এসে বাগেশ্বর বাবা নিদান দিয়েছিলেন দুর্গাপুজোয় নিরামিষ খাওয়া নিয়ে। যাঁরা দুর্গাপূজার সময় আমি ভক্ষণ করেন, তাদের পাখন্ডী বা ভন্ড বলেছিলেন তিনি। যা নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে লকেট চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ থেকে অগ্নিমিত্রা পাল- সবাই বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোয় কবজি ডুবিয়ে মাছ-মাংস খাওয়ার চালু রীতির স্বপক্ষেই মত রেখেছিলেন।
এবার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন কার্তিক মহারাজ। হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে এসে কার্তিক মহারাজ বলেন,"আমিষ নিরামিষ নিয়ে অযথা-ই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। আমরা বলেছিলাম, দুর্গাপুজোর সময় একটা সাত্ত্বিক ভাব থাকে। তাই নিরামিষ খেলে ভালো। তবে খাদ্যাভ্যাস মানুষের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। সেখানে কে কী খাবে, কে কী পড়বে, সেই বিষয়ে কার কী বলার থাকতে পারে!"
দুর্গাপুজোয় আমিষ বনাম নিরামিষ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ককে সম্পূর্ণ অবান্তর ও অনাবশ্যক বলে উড়িয়ে দিলেন কার্তিক মহারাজ। হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে এসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উৎসবের দিনগুলিতে কে কী খাবেন বা পরবেন, তা সম্পূর্ণ মানুষের নিজস্ব পছন্দের বিষয়। এই নিয়ে জলঘোলা করার কোনও যুক্তি নেই।
সম্প্রতি বাংলা সফরে এসে বাগেশ্বর বাবা মন্তব্য করেছিলেন যে, দুর্গাপূজার সময় যাঁরা আমিষ ভক্ষণ করেন তাঁরা 'পাখণ্ডী' বা 'ভণ্ড'। তাঁর এই নিদানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি থেকে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোয় ঐতিহ্যগতভাবে কবজি ডুবিয়ে মাছ-মাংস খাওয়ার চালু রীতির পক্ষেই সোচ্চার হন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।
এই সার্বিক প্রেক্ষাপটেই মাহেশে এসে মুখ খোলেন কার্তিক মহারাজ। বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে তিনি বলেন, "আমিষ-নিরামিষ নিয়ে অযথা-ই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। আমরা বলেছিলাম, দুর্গাপুজোর সময় একটা সাত্ত্বিক ভাব থাকে, তাই নিরামিষ খেলে ভালো। তবে খাদ্যাভ্যাস মানুষের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। সেখানে কে কী খাবে, কে কী পরবে, সেই বিষয়ে কার কী বলার থাকতে পারে!"
প্রসঙ্গত, শ্রীরামপুরের মাহেশে এগারো হাজার কন্ঠে গীতা পাঠ হবে। তার আয়োজন চলছে। সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই মাহেশে আসেন কার্তিক মহারাজ। সেই গীতা পাঠ কর্মসূচির প্রস্তুতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার ফাঁকেই সাম্প্রতিক আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক প্রসঙ্গে মুখ খোলেন কার্তিক মহারাজ। উৎসবের দিনে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার স্বপক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন তিনি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)