সন্ধে নামলেই নেমে আসবে তারা! ঘরে নয় চাষিদের রাত কাটছে মাঠে টং-ঘরে
Jalpaiguri: পালা করে চলছে রাতভর পাহারা। হাতির হানায় ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে
প্রদ্যুত্ দাস: সন্ধ্যা নামলেই ঘুম উধাও চাষিদের। ঘরে নয়,রাত কাটছে মাঠের মাঝে তৈরি টং ঘরে। হাতির হানা থেকে কষ্টের ফসল বাঁচাতে রাতের পর রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা। এমনই ছবি জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের মান্তাদরি গ্রাম পঞ্চায়েতের নোধাবাড়ি-সহ তিস্তার চর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায়।
বৈকুণ্ঠপুর বনাঞ্চল থেকে যে কোনও সময় লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে হাতির পাল। আর সেই আশঙ্কাতেই কার্যত রাতের ঘুম উধাও এলাকার কৃষকদের। তিস্তার চরে কয়েক হাজার বিঘা জমিতে ধান এবং প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে মুলো চাষ করেছেন কৃষকরা। এখন ফসল ঘরে তোলার সময়। কিন্তু তার আগেই হাতির পেটে চলে যেতে পারে সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল। সেই আশঙ্কায় জমির পাশেই বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অন্তত ২৫টি অস্থায়ী টংঘর।
সন্ধ্যা নামতেই সার্চলাইট ও পটকা নিয়ে টংঘরে উঠে পড়ছেন চাষিরা। পালা করে চলছে রাতভর পাহারা। হাতির গতিবিধির দিকে নজর রাখছেন তাঁরা। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করেই ফসল রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
আরও পড়ুন-মন্দির থেকে ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, রাস্তা থেকে ছিটকে আগুন ধরে গেল গাড়িতে, জীবন্ত দগ্ধ ৪
চাষিদের অভিযোগ, হাতির হানায় ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের ফসল বাঁচাতে নিজেরাই রাত জাগছেন।
একদিকে হাতির আতঙ্ক, অন্যদিকে ফসল হারানোর ভয়। সব মিলিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটছে তিস্তার চর এলাকার কৃষকদের। তাঁদের দাবি, হাতির হানা ঠেকাতে বন দফতর স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
দিনভর মাঠে হাড়ভাঙা পরিশ্রম, আর রাতভর টংঘরে বসে ফসল পাহারা। হাতি আর মানুষের এই সংঘাতের মাঝে এখন একটাই চিন্তা চাষিদের—কোনওভাবে যেন ঘরে তোলা যায় সারা বছরের কষ্টের ফসল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)