কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: বাংলাকে অত্মনির্ভর করতে হবে। আমরা ভাতা নির্ভর হয়ে গিয়েছি। বুধবার হলদিয়ায় দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয় হলদিয়ায় আরও ২টি প্রকল্পের ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
মোট ৬ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প হলদিয়ার মকুটে নতুন পালক যোগ করল। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের এঅই দিন অত্যন্ত গৌরবের। সোজাসুজি ৬০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। আরও ১০ হাজার কোটি টাকা পাইপলাইনে রয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে এত ভালো দিন আসেনি। এটা সফল হয়েছে পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের কারণে। যে প্ল্যান্টের উদ্বোধন হল তাতে যা উত্পাদন হবে সেই মেটিরিয়ালটা আগে বিদেশ থেকে আমদানী করতে হত। আজ থেকে সেটা 'নো' হয়ে গেল। এটাই হল নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আত্মনির্ভর ভারত। হলদিয়া পেট্রো কেমিক্য়াল সেই পথ দেখাচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবাদি ও প্রাক্তন মন্ত্রী ও সাংসদ শিশির অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধন্যবাদ জানাব শিশির অধিকারী মহাশয়কে। উনি তাঁর নিজের উত্সাহের এসেছে। আমার দুটি পরিচয় আছে। আমি ওঁর পুত্রও বটে। আমি আগে জানলে ওনাকে এখানে আসতে না বলতাম। তবে ওনাকে আটকানো মুসকিল। নব্বই বছর বয়সেও উনি ভালো কাজে থাকার চেষ্টা করেন।
হলদিয়ায় আরও বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্য়য়ায় মহাশয় আমাদের অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উনি প্ল্যান্ট বাড়াতে চান। তিনি এখানে রেল কানেকটিভিট বাড়াতে চান। তাঁর অনেক ভিসন রয়েছে। একটি ইউনিভার্সিটিও তিনি চালাচ্ছেন। আমরা সহযোগিতা করব। উনি আমাকে বলছিলেন, আপনি ছেলেমেয়েদের একটু স্কিলড ট্রেনিং দেন। আইটিআইয়ের মাধ্যমে আমরা দক্ষতা আনতে পারি। এই কাজে আমরা অবহেলা করেছি। চিফ সেক্রেটারি ও ড. সুব্রত গুপ্তকে বলছিলাম, হলদিয়ায় দুটি অরগানাইজেশন রয়েছে। একটি হল ইনসিপেট এবং অন্যটি হল দুর্গাচক আইটিআই। টেকনিক্যাল মিনিস্টার রয়েছেন। ওঁকে বলব, ওখানে পরিকাঠামো কী লাগে দেখুন। মিস্টার চ্য়াটার্জি বলছেন, স্থানীয় দক্ষ যুবকদের তিনি নিয়োগ করতে চান। আমরা এটাকে নেগলেক্ট করেছি। আমাদের ক্যাম্পাসিং চালু করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপের অনেকগুলো দিক রয়েছে। একটি হল কোম্পানি ৬০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। সরাসরি কাজ পেয়েছেন ৪০০ জন। পরোক্ষভাবে আরও ১০০০ মানুষের কাজ জেনারেট হয়েছে। এই প্ল্যান্টের মধ্যে দিয়ে আমরা আত্মনির্ভর হয়েছি। আমরা ভাতা নির্ভর হয়ে গিয়েছি। আমাদের পশ্চিমবঙ্গকে আত্মনির্ভর করতে হবে। আত্মনির্ভর বাংলা গড়তে হবের এটাই আমাদের শপথ হওয়া উচিত। মিস্টার চ্যাটার্জিকে অনুরোধ করব যদি বাংলায় একটা ডেটা সেন্টার তৈরি করেন। আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব। ওঁকে বলছিলাম এখন থেকে বিদেশে কম, দেশে থাকতে হবে বেশি। বাংলায় আপনার প্রয়োজন আছে। আপনার পরামর্শ নিয়ে চলব।
দুটি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই দুই প্ল্যান্টের জন্য হলদিয়া ডেভলপমেন্ট অথরিটি জায়গা দিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটি ৯৮ একর জমিতে পেপসির একটি প্ল্যান্ট করছি। ক্যাবিনেটে অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হবে। অন্যটি হল প্রভিস কোম্পানি মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট তৈরি করবে। এর বাইরেও IWL, IOCL তাদের প্ল্যান্টের জন্য কাজ করছে। সঞ্জীব গোয়েঙ্কা হলদিয়া এনার্জির একটি নতুন সেটআপ তৈরি করতে চান। হলদিয়াতে শ্রমিক বন্ধুরা প্রাইমারি মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট পান না। যে ধরনের পরিকাঠামো থাকা উচিত তা হলদিয়াতে নেই। আগামী ২০২৭ সালের জুন মাসে এখানে ট্রামা সেন্টারের উদ্বোধন করব।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)