মৃত্যুঞ্জয় দাস: লক্ষ্য ছিল, হাতির তাণ্ডব থেকে ফসল বাঁচানো। সেই প্রার্থনা নিয়েই বাঁকুড়া রামকানালি গ্রামে একদা শুরু হয়েছিল গজলক্ষ্মী পুজো। প্রায় একশো বছরের বেশি পুরনো সেই পুজো আজও ধুমধাম করে পালিত হয় এই গ্রামে। প্রায় ১৩০ বছর আগে হাতির তাণ্ডব থেকে জমির ধান, মাঠের ফসল, বাড়িঘর, এমনকী নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে এ গ্রামের পূর্বপুরুষেরা প্রচলন করেন দেবী গজলক্ষ্মীর পুজোর। তারপর থেকে সেই ট্রাডিশন সমানে চলেছে।
১২৮ বছর আগে
বাঁকুড়া জেলায় বিভিন্ন অংশ একটা সময় জঙ্গল অধ্যুষিত ছিল। কোথাও কোথাও জঙ্গল ছিল খুবই গভীর। সেই সময় দলমার দামালদের আনাগোনা বাঁকুড়ার গ্রামে-গ্রামে লেগেই থাকত। আজ থেকে একশো বছর আগেও জনজীবনের এই একই ছবি ধরা পড়ত। তার প্রমাণ মেলে বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড় থানার রামকানালি গ্রামের গজলক্ষ্মীর আরাধনায়। এই গ্রামে আজ থেকে প্রায় ১২৮ বছর আগে হাতির তাণ্ডব থেকে জমির ধান, মাঠের ফসল, বাড়িঘর, এমনকী নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে গ্রামের পূর্বপুরুষেরা প্রচলন করেন দেবী গজলক্ষ্মীর পুজোর।
বিশ্বাসের ট্র্যাডিশন
এখানে দেবী লক্ষ্মী 'গজ'-অর্থাৎ হাতির পিঠে অধিষ্ঠাত্রী। দুই দিকে দুই সখী বেষ্টন করে থাকেন দেবীকে। আর একচালার এই প্রতিমার দুই পাশে থাকে দু'টি ময়ূর। অভিনব আদলে তৈরি এই লক্ষ্মী প্রতিমাই এ গ্রামে বরাবর পূজিত হয়ে আসছেন। রামকানালি গ্রামে হাতির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে এককালে এ পুজো শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজও কিন্তু সেই বিশ্বাস টিকে আছে। এ গ্রামে হাতির হানা থেকে শস্য বাঁচাতে হলে এই দেবীর কৃপা লাভ করতেই হবে-- এই বিশ্বাসেই চালিত এখানকার মানুষ। তাই ফসলতোলার মরসুমের ঠিক মুখেই তাঁরা ভক্তিভরে করেন এই লক্ষ্মীর পুজো।
কোজাগরী উৎসব
১২৮ বছর আগে শুরু হওয়া গজলক্ষ্মীর পুজো আজও প্রতি বছর কোজাগরী পূর্ণিমায় আয়োজিত হয়, হয় রীতি মেনেই নিষ্ঠার সঙ্গে, সমস্ত ধর্মীয় উপচার যথাবিহিত পালন করে। এ বিষয়ে রামকানালি গ্রামের বাসিন্দারা একমত ও এক পথের পথিক। যথেষ্ট জাঁকজমক করে এ পুজো করা হয় এখানে। গ্রামবাসীদের আত্মীয়-স্বজনরাও এই লক্ষ্মীপুজোর দিনে ভিড় জমাতে শুরু করেন এখানে। শুধু তাই নয়, এ গাঁয়ের আশপাশের ১৫-২০টি গ্রামের মানুষজনও লক্ষ্মীপুজো দেখতে এখানে চলে আসেন। গ্রামে বাউলের আসর বসে, তার সঙ্গে চার দিন ধরে চলে অন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান।
কখন কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো
আজ ৭ কার্তিক, ২৫ অক্টোবর, রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্য জুড়ে। ধনদেবীর আরাধনার আনন্দে মেতে উঠেছে প্রতিটি বাঙালি পরিবার। সংসারে ধন-সম্পদ ও সুখ-শান্তির আশায় সকলেই লক্ষ্মী-আবাহনের আয়োজন করেন।
লক্ষ্মী পুজোর সময়কাল
৭ কার্তিক (২৫ অক্টোবর) ১০.৫৯ মিনিট থেকে ৮ কার্তিক (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯.৫০ মিনিট পর্যন্ত থাকছে পূর্ণিমা। পুজো সমাপনের সেরা সময় অবশ্য প্রদোষকাল। কখন এই প্রদোষকাল? সন্ধ্যা ৫টা ০১ মিনিট থেকে রাত্রি ৩টা ৩৭ মধ্যে। এই সময়ের মধ্যেই শ্রীশ্রীকোজাগরী লক্ষ্মী পূজা এবং শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ ব্রত সম্পন্নের নির্দেশ রয়েছে।
কেন এ লক্ষ্মী 'কোজাগরী'?
'কোজাগরী' শব্দটির ভেতরে লুকিয়ে এক রহস্য! শব্দটি এসেছে কোজাগর থেকে। অর্থ 'কে জেগে আছো?' এই বিশেষ রাতে ধনদেবী মা লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নেমে আসেন। ঘরে ঘরে ঘুরে তিনি দেখেন, কে কে জেগে রয়েছে। প্রতিটি বাঙালির ঘরে ইতিমধ্যেই নারকেল নাড়ু, মুড়ি, খই আর আলপনার হাঁড়ি নিয়ে শুরু হয়ে গেছে তোড়জোড়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)