'সিপিআইএম তো লটারির দোকান করছে না, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করবেন না': সিপিআইএমের বুকস্টল বিতর্কে পুলিসকে কড়া ভর্ৎসনা হাইকোর্টের, রিপোর্ট তলব
CPIM Book Stall Controversy in Durgapuja 2026: পুজোয় সিপিএমের বুকস্টল মামলায় রাজ্যকে কড়া বার্তা হাইকোর্টের। 'সিপিএম লটারি বিক্রি করছে না, বই বিক্রি করছে', চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পুলিসের রিপোর্ট তলব।
অর্ণবাংশু নিয়োগী: দুর্গাপুজোর (Durga Puja) দিনগুলোতে শহর কিংবা শহরতলির রাজপথে বামেদের বই বিক্রির স্টল দেওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি ও বনগাঁয় সিপিআইএমের (CPIM) বুকস্টলে পুলিসি অনুমতি না মেলা এবং নির্ধারিত স্থানে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের (Hindu Jagran Manch) অস্থায়ী কাঠামো তৈরি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় রাজ্য প্রশাসনকে বেনজির ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Justice Saugata Bhattacharyya)।
এজলাসে শুনানি চলাকালীন বিচারপতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, 'সিপিআইএম তো লটারির দোকান করছে না, ওরা তো বইয়ের স্টল করতে চাইছে! বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করবেন না। অভিযোগ দেখে স্পষ্ট মনে হচ্ছে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে, যা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ভাবধারার বিরোধী।'
একই সঙ্গে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পুলিসকে ঘটনার তদন্ত করে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এজলাসে জোর সওয়াল-জবাব
বুধবার আদালতে রাজ্যের সরকারি কৌঁসুলি দাবি করেন, যেখানে সিপিআইএম বুকস্টল করার আবেদন জানিয়েছে, তা আসলে পূর্ত দফতর বা পিডব্লিউডি-র (Public Works Department - PWD) অধীনস্থ জমি। সেখানে স্টল করার জন্য পিডব্লিউডি-র কাছে কোনও আগাম অনুমতি চাওয়া হয়নি। উপরন্তু রাজ্যের বক্তব্য, এটি স্রেফ জমি সংক্রান্ত বিষয়, ফলে পুলিসি নিষ্ক্রিয়তার অজুহাতে এই বেঞ্চে শুনানি হওয়া উচিত নয়।
রাজ্যের এই যুক্তিতে একেবারেই সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। উল্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'পুজোয় যে হাজার হাজার স্টল তৈরি হয়, তার সব কটিই কি পিডব্লিউডি বা কলকাতার ক্ষেত্রে পুরসভার (KMC) লিখিত অনুমতি নিয়ে করা হয়? রাজ্যের নীতি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।' বিচারপতির কড়া সংযোজন, 'এখানে পুলিসের ভূমিকা নিয়েই মূল অভিযোগ উঠেছে এবং পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়েরও হয়েছিল। ফলে কেন এই আদালত মামলা শুনতে পারবে না?'
বেলুন ফাটানোর স্টল হবে, কিন্তু বইয়ের নয়!
সিপিআইএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতে অভিযোগ করেন, নৈহাটিতে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে যেখানে বছরের পর বছর ধরে তাঁরা বইয়ের স্টল করেন, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই সেখানে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ বাঁশ-ত্রিপল দিয়ে বড় অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করেছে। পুলিসের উপস্থিতিতেই বাম কর্মীদের স্টল তৈরিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গেই বিচারপতির তীক্ষ্ণ কটাক্ষ, 'এত বড় স্টল কী ভাবে তৈরি হল? তাদের কি পিডব্লিউডি-র অনুমতি ছিল? দিনের শেষে দেখা যাবে রাস্তার ধারে বন্দুক দিয়ে বেলুন ফাটাবার স্টল তৈরি হয়েছে, অথচ বইয়ের স্টল করতে দেওয়া হচ্ছে না!'
সমাধানের রাস্তা কী বলল আদালত?
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, উৎসবের আবহে কোনও অপ্রীতিকর সংঘাত চায় না বিচারব্যবস্থা। বিচারপতি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, 'আমি রাজ্যকে কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের স্টল তুলে দিতে বলছি না। আপনারা সিপিআইএমকেও শান্তিপূর্ণভাবে স্টল বানানোর ছাড়পত্র দিন।'
পুজো শুরুর মুখে বই বিক্রির অধিকার আটকাতে প্রশাসনিক জটিলতা খাঁড়া করা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত নির্দেশ দিয়েছে-- বুধবারের মধ্যেই গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে বৃহস্পতিবার আদালতে লিখিত রিপোর্ট দেবে পুলিস। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই জানা যাবে, শারদোৎসবে নৈহাটি ও বনগাঁয় শেষ পর্যন্ত বামেদের বইয়ের স্টল বসবে কি না।
আরও পড়ুন: 'ওঁরা বই বিক্রি করতে চায়, খাবার নয়': পুজোয় সিপিএমের বুকস্টলে বাধা কেন? রাজ্যকে বড় প্রশ্ন হাইকোর্টের
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)