মমতা তৃণমূলে বিরাট ধাক্কা: নামী ডাকাবুকো তৃণমূল নেতা এবার বিজেপিতে? তৃণমূল ভেঙে বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও মিছিলে গেরুয়া পাঞ্জাবিতে চমক
গেরুয়া পাঞ্জাবি পরে বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও মিছিলে বাদুড়িয়ার তৃণমূল সংখ্যালঘু নেতা আশিক বিল্লাহ। দলবদল বিতর্কে দলে নিলে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দিলেন বসিরহাট জেলা বিজেপি সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কলকাতার রাজপথে বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও মিছিলকে ঘিরে হঠাৎই উত্তাল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ও বাদুড়িয়ার রাজনৈতিক মহল। বাদুড়িয়া মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের (TMC Minority Cell) প্রভাবশালী নেতা আশিক বিল্লাহকে আচমকাই দেখা গেল গেরুয়া পাঞ্জাবি পরে, বিজেপি নেতাদের ঠিক পাশাপাশি। দলবদলের এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (viral on social media) হতেই শুরু হয়েছে তুমুল চাপানউতোর। শুধু তৃণমূল নয়, এর জেরে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বিজেপির অভ্যন্তরেও।
জেল থেকে জামিন, তারপরই গেরুয়া সাজে মিছিল
আশিক বিল্লাহ উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার এক পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। ২০১১ সালে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের (change of regime) সময় থেকেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার নারায়ণপুরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আশিক বিল্লাহকে গ্রেফতার করে বাদুড়িয়া থানার পুলিস।প্রায় এক মাস জেল হেফাজতে (judicial custody) থাকার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি (released on bail) পান।
জেল থেকে বেরোনোর অল্পদিনের মধ্যেই গতকাল কলকাতায় বিজেপির ডাকে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিলে হাজির হন তিনি। শুধু মিছিলেই হাঁটেননি, দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়ে ছবি তোলেন এবং সেই ছবি দ্রুত বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দলবদল কি চূড়ান্ত, নাকি শুধুই রাজনৈতিক বার্তা?
আনুষ্ঠানিকভাবে আশিক বিল্লাহ বিজেপির দলীয় পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
রক্ষাকবচের সন্ধান (Seeking political shelter): আইনি জটিলতা ও পুলিসি ধরপাকড় থেকে বাঁচতেই কি তিনি বিরোধী শিবিরে ছাতা খুঁজছেন? এই প্রশ্ন উঠছে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দূরত্ব (Internal factionalism): জেলে যাওয়ার পর স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিজেপি জেলা সভাপতির বিস্ফোরক বক্তব্য
মিছিলে আশিক বিল্লাহর উপস্থিতি প্রকাশ্যে আসতেই কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বসিরহাট জেলা বিজেপির সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য (Sukalyan Baidya)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের দাগী বা বিতর্কিত নেতাদের দলে জায়গা দেওয়া হবে না।
সুকল্যাণ বৈদ্যের সাফ বক্তব্য, 'আশিক বিল্লাহ একজন তৃণমূলী হার্মাদ। ওর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। দলের কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে বা পিছনের দরজা দিয়ে ওকে বিজেপিতে যোগ করায়, তবে যে যোগ করাবে তাঁকেই দল থেকে সরাসরি বহিষ্কার (expulsion from party) করা হবে।' জেলা সভাপতির এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারিতে স্পষ্ট, স্থানীয় স্তরে দলের পুরোনো কর্মীদের মধ্যে এই ঘটনা তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দল কাউকে অন্যায়ের দায় নিতে শেখায় না। দলছুট বা সুবিধাবাদী নেতারা কোন মিছিলে হাঁটছেন, তাতে দলের সংখ্যালঘু ভোটে বা বাদুড়িয়ার সংগঠনে কোনও আঁচ পড়বে না। তবে বিরোধী শিবিরের মিছিলে নিজের দলের নেতার ছবি ছড়িয়ে পড়ায় অস্বস্তি যে বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, সুকল্যাণ বৈদ্যের এই কড়া অবস্থানের পর আশিক বিল্লাহর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)