জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চোরবাগানের ঘটনার পর তদ্নত কোন পর্যায়ে রয়েছে। সন্ধেয় স্বাস্থ্য ভবন থেকে বেরিয়ে এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মর্মান্তিক ওই ঘটনার তদন্ত করছে পুলিস। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করতে বলেছে আদালত। আগামিকাল দুপুরের মধ্যে নোটিফিকেশন হয়ে যাবে। ঘটনার তদন্তে আমরা কমিটি বানিয়ে দিচ্ছি। সেখানে কেএমসি ও কলকাতা পুলিস থাকবে না। এনডিআরএফের প্রতিনিধি থাকবেন। এডিজি পর্যায়ের একজন অফিসার থাকবেন।
চোরবাগানের আহতদের বেশ কয়েকজনকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তারপর তাদের সেখান থেকে সরিয়ে ভর্তি করা হয় বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে। কেন কলকাতা মেডিক্যালের মত নামী প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হল এনিয়ে প্রশ্ন তেলেন সেখানকার চিকিত্সকদের একাংশ। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে সেদিন রাতে বলা হচ্ছিল আমরাই তো পারতাম। কেন নামী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল? আসলে আমরা যে নামী হাসপাতালে ২৫ জনকে পাঠিয়েছি তার সমান মানের তো কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ নয়! এটা তো অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও পশ্চিমবঙ্গে অ্যালার্জি টেস্ট হয় না। ১২০০০ টাকা লাগে, মুম্বইতে রক্তের নমুনা পাঠাতে হয়। সাত দিন পর রিপোর্ট আসে। আমাকেও ৩ বছর আগে পাঠাতে হয়েছিল। ওই প্রাইভেট হাসপাতালকে বলার সঙ্গে সঙ্গে তারা অ্যাম্বুল্যান্স পাঠিয়েছে। সবাইকে ভর্তি নিয়েছে। একজন বাদ দিয়ে ২৪ জন বাড়ি চলে গিয়েছে। একজনের হাড় ভেঙেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। অর্থাত্ ২৫ জনকে বাঁচানো গিয়েছে। সেটা নিয়ে আমি তো পারতাম, কেন আপনি...। ওই যে ল্যাবে পরীক্ষা হয় ,সেরকম পরীক্ষা করার সুযোগ আমাদের নেই। আপনি যদি নিজেকে মনে করেন আপনি সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের মত ডাক্তার তাহলে তো ভাবতে হবে। ডাক্তার সুকুমার মুখোপাধ্যায় হতে গেলে তো সময় লাগবে। আমি প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারিকে বলেছি, ওখানে যেসব ডাক্তার প্রেস কনফারেন্স করছিল সেইসময় ওদের ডিউটি ছিল কিনা। সেটা বের করতে বলেছি।'
চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অসত্য তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ বলেন, যারা বাংলাদেশ থেকে করা অপপ্রচারমূলক পোস্ট শেয়ার করেছে তাদের গ্রেফতার করা হবে। দিনাজপুর ও মেদিনীপুরে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদেরও গ্রেফতার করা হবে।
পুজো মণ্ডপে এরকম মর্মান্তিক ঘটনার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকগুলো ব্যবস্থা গত তিনদিন ধরে করা হয়েছে। ওইসব ব্যবস্থা ছটপুজো পর্যন্ত ব্যবস্থা থাকবে। অ্যাম্বুল্যান্স ও ডাক্তারদের টিম কলকাতার ১৫টি পুজো সেটআপ করেছি। ডাক্তারবাবুরা স্বইচ্ছায় এগিয়ে এসেছেন। তাদের ওই কাজে আহ্বান করেছিলেন প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁরা বিকেল পাঁচটা থেকে রাত দুটো তিনটে পর্যন্ত কাজ করছেন।
বিসর্জনের ঘটাগুলি নিয়ে বিশেষ ব্য়বস্থার কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টাকীর ইছামতী নদীতে বিসর্জন নিয়ে আমাদের একটু সতর্ক থাকতে হয়। প্রচুর দেশি নৌকো ওখানে চলে। বিসর্জনের বিরাট ঐতিহ্য রয়েছে ওখানে। ওখানে এনডিআরএফের টিমকে রাখা হয়েছে। কয়েকজন মন্ত্রী ও ডিআইজি পর্যায়ে অফিসারদের পাঠানো হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)