জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দায়িত্ব পালন না করলে থানার সব পুলিসকে পশ্চিমবঙ্গর শেষপ্রান্তে ট্রান্সফার করব, জানিয়ে দিলেন প্রধান বিচারপতি
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় বড় কথা বলল আদালত। রায়গঞ্জের এক চিকিৎসককে নিরাপত্তা দেওয়ার মামলায়-- থানার পুলিস, চিকিৎসকের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। আর তাতেই বেজায় চটেছে আদালত। প্রধান বিচারপতি প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, 'পুলিস বলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে, আশ্চর্য। ওই থানার সমস্ত পুলিসের নাম দিন আমরা সকলকে পশ্চিমবঙ্গর শেষপ্রান্তে ট্রান্সফার করব। তাঁর জায়গায় দক্ষ পুলিসদের বসাব। যারা আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে পারবে। পুলিস নিরাপত্তা না দিতে পারলে আমরাই চিকিৎসকের নিরাপত্তা দেব'। মন্তব্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের মুখে পরে সময় চেয়ে অবস্থার সামাল দিলেন সরকারি আইনজীবী।
কী ঘটনা?
ডাক্তার রাকেশ গোপ রায়গঞ্জ শহর ও থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি রায়গঞ্জ শহরে একটি বেসরকারি হাসপাতাল তৈরি করছেন। কাজ ইতোমধ্যেই ৫০ শতাংশ শেষ। অভিযোগ এরই মধ্যে বেশ কিছু বাসিন্দা তার হাসপাতাল তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা আইনজীবী উদয় শঙ্ককর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি রায়গঞ্জ পুরসভার অনুমোদনের ভিত্তিতে তিনি ওই নির্মাণ কার্য করছেন। নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হলে নিম্ন আদালত তার নির্মাণ কার্যে অনুমতি দেয়। হঠাৎ ৩১শে আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেট ওই এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আইন অনুযায়ী ১৬৩ ধারা জারি করে, যার মেয়াদ দু মাস। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন চিকিৎসক।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচাৰ্য পুলিসের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করে মামলার পরবর্তী শুনানি দিন ধার্য করেন ১৭ ই নভেম্বর।
একক বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রধান বিচারপতি রাবীন্দ্র ভি-ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন ওই চিকিৎসক। তাঁর আইনজীবী উদয় শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি অবিলম্বে সিদ্ধান্ত না গ্রহণ করলে পরবর্তী একক বেঞ্চের পরবর্তী শুনানির আগেই ওই ১৬৩ ধারার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবং চিকিৎসক আর্থিক ক্ষতি সম্মুখীন হবে।
এদিন আদালতে পেশ হওয়া রায়গঞ্জ থানা পুলিসের রিপোর্টে অসন্তুষ্ট হন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে। তিনি রায়গঞ্জ থানার পুলিসকে ভর্ৎসনা করেন। সরকারি আইনজীবীর উদ্দেশ্যে তার মন্তব্য পুলিস না পারলে আমরাই চিকিৎসকের নিরাপত্তা দেব। আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে সরকারি আইনজীবী আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন।
প্রধান বিচারপতি সরকারি আইনজীবীর উদ্দেশ্যে জানিয়ে দেন ওই চিকিৎসককে হাসপাতাল তৈরিতে রায়গঞ্জ থানার পুলিস নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা তা আদালতকে জানাতে হবে। না হলে ওই পুলিসদের বিরুদ্ধে আদালত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। আগামী বুধবার রায়গঞ্জ থানার পুলিসকে কলকাতা হাইকোর্টের রিপোর্ট দিয়ে তাদের অবস্থান জানাতে হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)