আধার ও বায়োমেট্রিকের সমস্যায় আটকে কাজ! ‘ভিবি-জি রামজি’ প্রকল্প ঘিরে ক্ষোভ
শ্রমিকদের দাবি, আধার সংযোগ, বায়োমেট্রিক যাচাই এবং ডিজিটাল হাজিরার সমস্যায় মাস্টার রোলে নাম উঠছে না। ফলে কাজের আশায় কর্মস্থলে পৌঁছেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে জব কার্ডধারীদের একাংশকে। তাঁদের অভিযোগ, ১২৫ দিনের কাজ ও বেশি মজুরির আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে কাজ পেতে সমস্যা হচ্ছে
অরূপ লাহা: ডিজিটাল গেরোয় ‘ভিবি-জি রামজি’! কাজ না পেয়ে সাইট থেকে ফিরছেন জব কার্ডধারীরা, ক্ষোভ আউশগ্রামে। নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প ঘিরে শুরুতেই বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের অভিযোগ। কাজের আশায় নির্দিষ্ট কর্মস্থলে পৌঁছেও কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে শ্রমিকদের। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের দিকনগর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ঝড়ঘড়িয়া ডাঙ্গায় ‘ভিবি-জি রামজি’ প্রকল্পের কাজ ঘিরে এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। শ্রমিকদের দাবি, মাস্টার রোলে নাম না থাকা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার সমস্যার কারণে তাঁরা কাজ পাচ্ছেন না। ফলে নতুন প্রকল্পের শুরুতেই কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জব কার্ডধারীদের একাংশ।
মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন বা ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘ভিক্সিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন-গ্রামীণ’ বা ‘ভিবি-জি রামজি’ ঘিরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। শ্রমিকদের একাংশের দাবি, নতুন প্রকল্পে বেশি দিনের কাজের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ পেতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
আরও পড়ুন, বন-ই দেখাবে নতুন দিশা! নিজের চেনা জঙ্গলকে 'পর্যটকদের চোখে' চিনেই স্বনির্ভরতার পথে
অভিযোগ, আধার সংযোগ, বায়োমেট্রিক যাচাই এবং ই-কেওয়াইসি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু শ্রমিকের তথ্য নথিভুক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। কোথাও আঙুলের ছাপ না মেলা, কোথাও আধার সংক্রান্ত তথ্যের অসঙ্গতি, আবার কোথাও ডিজিটাল ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে শ্রমিকদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা যাচ্ছে না বলে দাবি। এর জেরে মাস্টার রোলে নাম না ওঠায় কাজের জায়গায় পৌঁছেও কাজ না পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
গ্রামীণ এলাকার বহু শ্রমিকের জীবিকা নির্ভর করে দিনমজুরির উপর। ফলে কাজের আশায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছেও কাজ না পেয়ে ফিরে আসতে হলে তাঁদের দৈনন্দিন সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন প্রকল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার আশায় থাকা শ্রমিকদের একাংশের মধ্যে তাই ক্ষোভ বাড়ছে।
শ্রমিকদের বক্তব্য, নতুন প্রকল্পে ১২৫ দিনের কাজ এবং বেশি মজুরি পাওয়ার আশা দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কাজের জায়গায় গিয়ে ডিজিটাল হাজিরা ও নাম নথিভুক্তির সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এক শ্রমিকের কথায়, “আমাদের বলা হয়েছিল নতুন প্রকল্পে ১২৫ দিনের কাজ মিলবে এবং মজুরিও বেশি পাব। কিন্তু মাঠে এসে দেখা যাচ্ছে, মেশিন দিয়ে হাজিরা নেওয়া যাচ্ছে না বলে কাজই দেওয়া হচ্ছে না। দিনমজুরি করে যাদের পেট চলে, তারা এভাবে ফিরে গেলে খাবে কী?”
শ্রমিকদের দাবি, ডিজিটাল ব্যবস্থার ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে কাজ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। যাঁরা কাজের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা এবং প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করারও দাবি উঠেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)