পিয়ালি মিত্র: টুলু মণ্ডল এখন অধরা। তাকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিস। এরই মধ্যে টুলু মণ্ডল মামলায় গ্রেফতার আরও এক সরকারি আধিকারিক।
এখনও পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। এর মধ্যে ৫ জন সরকারি অফিসার।
সম্প্রতি এই মামলায় প্রায় ১১০০ পাতার চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। আর সেই চার্জশিটেই উঠে এসেছে DCR জালিয়াতি ও সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিপুল সংখ্যক DCR ইস্যু করা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, মোট ৭৪ হাজার ৮৯৯টি DCR-এর ইস্যু করা হয়। তার মধ্যে ৬২ হাজার ৮৮৮টি DCR-ই ছিল জাল। অর্থাৎ,ইস্যু করা DCR-এর প্রায় ৯৯.৬ শতাংশই জাল ডিসিআর ইস্যু করা হয়। পার্কিং লটে তল্লাশিতে জাল ডিসিআর ছাপার মেশিনের পাশাপাশি ৪৯৮টি DCR-এর সন্ধান পাওয়া যায়। তার মধ্যে ৪৮৮টি DCR জাল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, DCR গেটগুলি বেআইনিভাবে পরিচালনা করত টুলু মণ্ডল। আর বিস্ফোরক তথ্য, সরকারি নিয়মে ডিসিআর গেটে ডিউটি থাকার কথা সরকারি কর্মীদের। ডিউটি রোস্টারে কর্মীদের নাম থাকতো। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের পরিবর্তে “সরকারি কর্মী হিসেবে “কাজ করত টুলু মণ্ডলের অধীনে থাকা কর্মীরা। এর বিনিময়ে সরকারি কর্মীদের টাকা দেওয়া হত বলে অভিযোগ। রেজিস্টার থেকে সেই তথ্য উঠে এসেছে।
এখানেই শেষ নয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, DCR থেকে আদায় হওয়া টাকা নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা পড়ার কথা। কিন্তু চার্জশিটে দাবি, সরকারি কর্মী নামে সরকারি খাতে টাকা জমার কাজ করতে টুলু॥ তদন্তকারীদের দাবি, সেই টাকা সরকারি খাতে জমা দেওয়ার কাজও কার্যত নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল টুলু মণ্ডল। সরকারি কোষাগারে নামমাত্র টাকা জমা পড়ত, আর বাকি টাকা নিজের পকেটে পুরত সে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)