অতীতে নরবলি, বাহন সিংহের পাশাপাশি বাঘ! পাঁচ শতাব্দী পেরিয়েও অটুট বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির রোমহর্ষক পরম্পরা
Durga Puja 2026: শারদোৎসবের আবহে মেতে উঠছে বাংলা। চারদিকে পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। আর এই উৎসবের আবহেই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র আচার-অনুষ্ঠানের সাক্ষী জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। ৫১৭ বছরে পা দিল এই প্রাচীন পুজো। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণের দেবী দুর্গা, সঙ্গে সিংহের বদলে বাঘ তাঁর বাহন। শুধু তাই নয়, পুজোর নানা আচার-অনুষ্ঠানেও রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পরম্পরা বজায় রেখে আজও সমান মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয় বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির শারদোৎসব।
প্রদ্যুত দাস: শরতের নীল আকাশ, সোনালি রোদ আর কাশফুলের দোলায় আগমনীর সুর। হাতে গোনা কয়েকদিন পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। আর সেই পুজোর আবহে নতুন করে উঠে আসছে জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির প্রাচীন ঐতিহ্য। ৫১৭ বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল এই রাজবাড়ির দুর্গোৎসব। প্রাচীন রীতি মেনেই শুরু হয়েছে পুজোর প্রস্তুতি। নন্দ উৎসবে কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। উৎসবের কাদা খেলার জন্য সংরক্ষিত মাটি দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে দেবী প্রতিমা। এখানে মাকে মাছের বিভিন্ন পথ দিয়ে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়ে থাকে বলে এমনটাই জানিয়েছেন রাজপুরোহিত শিবু ঘোষাল।
এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ দেবী দুর্গার অনন্য রূপ। এখানে দেবী তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা। আর পাঁচটা দুর্গাপুজোর সঙ্গে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির পুজোর পার্থক্য চোখে পড়ে দেবীর বাহনেও। এখানে সিংহের পাশাপাশি বাঘ দুর্গার বাহন। রূপোর অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত করা হয় দেবীকে।
আরও পড়ুন: উৎসবের আলোয় কাটল বঞ্চনার আঁধার! চা বাগানে বসল তাক লাগানো বিনা পয়সার বাজার
দেবীর সঙ্গে পূজিত হন--
দেবী দুর্গার সঙ্গে পূজিত হন গঙ্গা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, মহামায়া এবং দুই সখী জয়া ও বিজয়া। চার সন্তান-সহ দেবীকে ঘিরে রাজবাড়ির প্রতিমা বিন্যাসেও রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। দুর্গা-সহ অন্যান্য প্রতিমাকে একটি রথের মধ্যে সাজিয়ে রাখা হয়।
অষ্টমীর অর্ধরাত্রির পুজো
এই পুজোর আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ অষ্টমীর অর্ধরাত্রির পুজো। রাজবাড়ির অন্দরমহলে নির্দিষ্ট রীতি মেনে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। অতীতে নরবলির প্রচলন থাকলেও বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ। তার পরিবর্তে চালের গুঁড়ো দিয়ে মানুষের অবয়ব তৈরি করে কুশ দিয়ে বিদ্ধ করার একটি বিশেষ আচার পালন করা হয়। এই পুজোর নির্দিষ্ট পর্বে অংশ নিতে পারেন শুধুমাত্র রাজবাড়ির সদস্যরাই।
কালিকাপুরাণের বিধি মেনে অনুষ্ঠিত হয় বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। প্রাচীন আচার, স্বতন্ত্র প্রতিমার রূপ এবং নিজস্ব পুজোর রীতির মধ্য দিয়ে আজও অটুট রয়েছে এই রাজবাড়ির ঐতিহ্য।
আরও পড়ুন: পুজোর মুখে দুর্যোগের মেঘ কাটল! সাগরে ফুঁসছে নিম্নচাপ, কিন্তু স্বস্তির বার্তা হাওয়া অফিসের
পাঁচ শতাব্দীরও বেশি
পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই রাজবাড়িতে ভিড় জমান বহু মানুষ। ইতিহাসের টান, প্রাচীন পরম্পরা আর দেবীর অভিনব রূপ- সব মিলিয়ে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গোৎসব শুধু একটি পুজো নয়, উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে আজও সেই একই নিষ্ঠা, একই পরম্পরা। সময় বদলেছে, বদলেছে উৎসবের ধরন, কিন্তু বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর স্বাতন্ত্র্য আজও অমলিন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)