জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সিম বাইন্ডিং বাধ্যতামূলক করল ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশনস (ডিওটি)। এর পাশাপাশি মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা ইউজারদের অ্যাকাউন্টগুলিকে রেজিস্ট্রেশনের সময়ে ব্যবহৃত সক্রিয় সিমের সঙ্গে যুক্ত করে। এই পুরো প্রক্রিয়া চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। নিয়মটি কার্যকর হওয়ার পর, সিম সরিয়ে ফেললে বা নিষ্ক্রিয় করে দিলে অ্যাপটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পুনরায় একটি বৈধ সিম যুক্ত না করা পর্যন্ত তা আর কাজ করবে না। উল্লেখ্য যে, এটি হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের উপর কোনও সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা নয়! ইউজাররা ঠিক কী ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবেন, তা নির্ভর করবে প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম কীভাবে এই শর্ত বাস্তবায়ন করছে তার উপর।
কী এই সিম বাইন্ডিং এবং কীভাবে কাজ করে?
সিম বাইন্ডিং হল এমন এক ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা কোনও মোবাইল অ্যাপ (যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা ব্যাংকিং অ্যাপ) এবং আপনার ফোনে থাকা নির্দিষ্ট ফিজিক্যাল বা ই-সিম কার্ডের মধ্যে এক স্থায়ী ও শক্ত বন্ধন তৈরি করে। অ্যাপ আপনার ডিভাইসের হার্ডওয়্যার এবং সিম কার্ডের ইউনিক শনাক্তকারী নম্বর (যেমন IMSI বা ICCID) যাচাই করে নেয়। আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরটি সশরীরে ফোনে থাকা সক্রিয় সিমের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফোন থেকে সিম কার্ড খুলে ফেললে বা সিম ছাড়াই শুধু ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ব্যবহার করে অ্যাপগুলি চালানো কঠিন বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে
কেন সিম বাইন্ডিং কার্যকর করছে সরকার?
ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আন্তঃসীমান্ত সাইবার প্রতারণা, সাইবার জালিয়াতি, এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট' (সাইবার অপরাধীদের তৈরি এক সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক ফাঁদ, যার মাধ্যমে তারা মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারকরা পুলিস, সিবিআই, ইডি), কাস্টমস বা নার্কোটিক্স বিভাগের অফিসার সেজে ফোন বা ভিডিও কল করে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। এরপর মামলা থেকে বাঁচতে আপনাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়) সংক্রান্ত স্ক্যামগুলি আটকানো। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ডিওটি উল্লেখ করেছিল যে, কিছু অ্যাপ-ভিত্তিক যোগাযোগ পরিষেবা ইউজারদের ভারতীয় মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে শনাক্ত করলেও, ডিভাইসে সিম কার্ড না থাকা সত্ত্বেও তাদের পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ দেয়। দেশের বাইরে থেকে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যক্তিরা এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করছে।
কোন অ্যাপগুলি এর আওতাভুক্ত
টেলিকম সাইবার সিকিউরিটি (টিসিএস) রুলস, ২০২৪-এর অধীনে ৮টি প্রধান প্ল্যাটফর্ম রয়েছে তালিকায়। প্ল্যাটফর্মগুলি হল— হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল, স্ন্যাপচ্যাট , আরাত্তাই, শেয়ারচ্যাট, জোশ এবং জিওচ্যাট। এই পরিষেবাগুলির ক্ষেত্রে ইউজারদের অ্যাকাউন্টগুলিকে অবশ্যই রেজিস্টার্ড নম্বরের সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট সক্রিয় সিম কার্ডের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ভাবে সংযুক্ত রাখতে হবে।
নিয়মগুলি কখন কার্যকর হবে?
২৮ নভেম্বর, ২০২৫: মূল নির্দেশিকা জারি করা হয়, যাতে ৬ ঘণ্টা পর ওয়েব থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে লগ-আউট হওয়ার নিয়ম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২ এপ্রিল, ২০২৬: নিয়ম মেনে চলার সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়। সরকার ৬ ঘণ্টা পর লগ-আউটের নির্দিষ্ট নিয়মের পরিবর্তে ঝুঁকি-ভিত্তিক পদ্ধতি প্রবর্তন করে।
১ জানুয়ারি, ২০২৭: সিম বাইন্ডিং ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হওয়ার সম্ভাব্য সময়।
ইউজারদের জন্য এর অর্থ কী
পরিস্থিতি সম্ভাব্য প্রভাব
ফোনে রেজিস্টার্ড সিম সচল থাকায় খুব একটা পরিবর্তন হবে না, নিয়ম অনুযায়ীই থাকবে
সিম সরিয়ে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে অ্যাপ ব্যবহার করা- সেবা ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটতে পারে
শুধুমাত্র ওয়াই-ফাই সুবিধা আছে এমন ট্যাবলেটে ব্যবহার প্ল্যাটফর্মটির বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করবে
হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব / ডেস্কটপ ব্যবহারএখন আর নির্দিষ্ট ৬ ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয় লগআউট হবে না। এটি ঝুঁকির উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে
বিদেশে রোমিং হ্যান্ডসেটে সিম থাকলে কোনও সমস্যা হবে না
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)