EXPLAINER: পুজোর মাসে আপনি কি হাতে কম টাকা পাবেন? EPFO-র নতুন নিয়ম আপনার পকেটে কী প্রভাব ফেলল?
October In Salary Cut: যেসব বেসরকারি সংস্থা এতদিন ১৫,০০০ টাকার বেশি বেতন পাওয়া কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের বাইরে রাখত, নতুন নিয়মে তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে পিএফ ব্যবস্থার অধীনে আনতে হবে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ৫১ লক্ষ শ্রমিক ও সাধারণ কর্মী সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসবেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সামনে পুজো। চারদিকে শরতের আকাশ। কেনাকাটা-শপিং চলছে ফুল সুইঙয়ে। কিন্তু এর জন্য সবথেকে বেশি যা দরকার হয়, তা হল হাতে টাকা। কিন্তু পুজোর মাসে ঘোরাঘুরি আর কেনাকাটার আগেই জেনে নিন এই মাসে আপনি হাতে কত টাকা পাবেন। সব মাসের থেকে এই মাসেই কি আপনার হাতে টাকা আসবে সবথেকে কম? তাহলে বাজেট তৈরি করবেন কী করে? একবার যদি দেখে নেওয়া যায় যে, হাতে কত পাবেন আর কী ভাবে মাস চালাবেন, তাহলে হিসেব করতে অনেকটা সুবিধাও হবে।
আসলে, কিছুদিন আগেই একটি তথ্য সামনে আসে যে, কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল সংস্থা (EPFO)-র বেতনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে। আর এর পরেই চাকুরিজীবীদের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে-- প্রতি মাসে হাতে পাওয়া বেতন (Take-home Pay) কি তবে কমে যাবে? এই পরিবর্তনের ফলে মোট সিটিসি (CTC)-র উপর কী প্রভাব পড়বে এবং আদতে কাদের পকেটে টান পড়তে চলেছে, তা নিয়ে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
কেন এই EPFO-তে পরিবর্তন?
বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মীদের সামাজিক ও অবসরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই সরকার এই বেতন সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৫১ লক্ষ কর্মী নতুন করে পিএফ পেনশনের বাধ্যতামূলক সুবিধার আওতায় আসবেন।
দীর্ঘদিন ধরে ১৫,০০০ টাকার স্ল্যাব কার্যকর থাকায় বহু কর্মী সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নতুন নিয়মে কর্মীর সঞ্চয় তহবিলে প্রতি মাসে বেশি অর্থ জমা হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তাঁরা বেশি পেনশন ও সুদের সুবিধা পাবেন।
হাতে পাওয়া বেতনে কী প্রভাব পড়বে?
সাধারণ নিয়মে, ইপিএফ তহবিলে মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার (Basic + DA) ১২ শতাংশ জমা দেন কর্মী নিজে এবং সমপরিমাণ অর্থাৎ ১২ শতাংশ দেয় তাঁর নিয়োগকারী সংস্থা। এতদিন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক সীমা ১৫,০০০ টাকা থাকায়, বহু সংস্থায় কর্মীর মূল বেতন বেশি হলেও সর্বোচ্চ ১,৮০০ টাকাই (১৫,০০০ টাকার ১২%) পিএফ বাবদ কাটা হত। নতুন নিয়মে সীমা ২৫,০০০ টাকা হওয়ায় এই অঙ্ক স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে।
২০,০০০ টাকা বেতনের ক্ষেত্রে
আগে ১,৮০০ টাকা কাটা হলেও নতুন হিসাবে ১২% হারে পিএফ কাটবে ২,৪০০ টাকা। ফলে প্রতি মাসে বেতন থেকে অতিরিক্ত ৬০০ টাকা বেশি কাটবে।
২৫,০০০ টাকা বেতনের ক্ষেত্রে
কর্মী প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত পিএফ জমা করবেন। অর্থাৎ আগের ১,৮০০ টাকার তুলনায় সরাসরি ১,২০০ টাকা বেশি বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে।
সিটিসি কাঠামো কেমন হলে তার কেমন প্রভাব?
বেসরকারি ক্ষেত্রে অধিকাংশ কর্মীর নিয়োগপত্র তৈরি হয় 'Cost to Company' বা সিটিসি মডেলের ওপর ভিত্তি করে। সিটিসি-র কাঠামোর মধ্যে যদি নিয়োগকারীর ১২% অংশও থাকে, তবে কর্মীর টেক-হোম বেতনের ওপর এর প্রভাব দ্বিগুণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ২৫,০০০ টাকা বেসিকের ক্ষেত্রে কর্মীর নিজের ১,২০০ টাকা এবং নিয়োগকারীর সমপরিমাণ ১,২০০ টাকা-- মোট ২,৪০০ টাকা মাসিক সিটিসি থেকে অতিরিক্ত কাটা যেতে পারে। এর ফলে মাসের শেষে অ্যাকাউন্টে ঢোকা টাকার পরিমাণ বেশ কিছুটা কমে যাবে।
কাদের বেতন কমবে আর কারা অপরিবর্তিত থাকবেন?
এই নিয়মের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে সেইসব কর্মীদের ওপর, যাঁদের মাসিক মূল বেতন ১৫,০০০ টাকার বেশি কিন্তু ২৫,০০০ টাকার নিচে। এতদিন এঁদের একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের পিএফ কাটা হচ্ছিল, এখন নতুন নিয়মে তাঁদের বেতন থেকে বেশি টাকা কেটে প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা হবে। ফলে তাঁদের প্রতি মাসের হাতে পাওয়া তরল নগদ টাকা কমে যাবে।
তবে যাঁদের মূল বেতন ইতোমধ্যেই ২৫,০০০ টাকা বা তার বেশি এবং যাঁরা শুরু থেকেই তাঁদের পুরো বেসিকের ওপর ১২% পিএফ দিয়ে আসছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে টেক-হোম বেতনে কোনও পরিবর্তন আসবে না।
সব মিলিয়ে, স্বল্পমেয়াদে প্রতি মাসে হাতে পাওয়া টাকার অঙ্ক কিছুটা কমলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি কর্মীদের জন্যই লাভজনক। প্রতি মাসে সঞ্চয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অবসরকালীন সঞ্চয় ও পেনশনের তহবিল আগের চেয়ে অনেকটাই সমৃদ্ধ ও সুরক্ষিত হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)