জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গত জুন মাস থেকে রাজ্যে মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষায় চালু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana)। বিজেপি সরকারের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পে যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ৩,০০০ টাকার সরাসরি আর্থিক সাহায্য (Direct Benefit Transfer বা DBT)। কিন্তু উৎসবের মরসুম মিটতেই অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকেই সরকারি স্তরে দফায় দফায় ভেরিফিকেশন (Document Verification) চলছিল। প্রাথমিক আবেদন খতিয়ে দেখে এর আগেও বহু নাম খারিজ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার অর্থ অপচয় রুখতে এবং কেবল প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। মূলত তিনটি বড় ফাঁকফোকরের কারণে এই তালিকায় কোপ পড়তে চলেছে:
ব্যাংক কেওয়াইসি (Bank KYC) অসম্পূর্ণ থাকা: যে সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও পর্যন্ত কেওয়াইসি আপডেট করানো হয়নি, কেন্দ্রীয় আর্থিক লেনদেন বিধি ও আরবিআই-এর গাইডলাইন মেনে সেই সব অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদান পাঠানো আটকে যেতে পারে।
আধারের সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লিঙ্কিং ও সিডিং (Aadhaar-Bank Seeding): ডিবিটি প্রক্রিয়ায় টাকা পাঠাতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার যোগ এবং এনপিসিআই (NPCI) ম্যাপিং থাকা বাধ্যতামূলক। বহু আবেদনকারীর আধার নম্বর দেওয়া থাকলেও ব্যাঙ্কের সঙ্গে সক্রিয় লিঙ্ক বা সিডিং না থাকায় টাকা ফেরত যাচ্ছে।
জোড়া ভাতা গ্রহণের বিধিনিষেধ (Dual Allowance Clash): প্রকল্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি অন্য কোনও সমান্তরাল সামাজিক সুরক্ষা ভাতা (যেমন বিধবা ভাতা বা অন্য কোনও মাসিক আর্থিক সহায়তা) পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত রয়েছে। একই ব্যক্তি যদি একাধিক প্রকল্প থেকে ভাতা নিয়ে থাকেন, তবে ক্রস-ভেরিফিকেশনে (Cross-Verification) নাম মিলতেই অন্নপূর্ণা তালিকা থেকে তা ছেঁটে ফেলা হচ্ছে।
ভাতার টাকা সুরক্ষিত রাখতে কী করবেন?
নভেম্বরের নির্ধারিত কিস্তি যাতে হাতছাড়া না হয়, তার জন্য উপভোক্তাদের অবিলম্বে কয়েকটি জরুরি কাজ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে:
নিজের ব্যাংক শাখায় গিয়ে অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় রয়েছে কি না এবং কেওয়াইসি সম্পন্ন আছে কি না তা নিশ্চিত করুন।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তরের (DBT Enablement) জন্য আধারের সিডিং স্টেটাস যাচাই করুন।
আবেদনপত্রে নাম, বয়স বা পারিবারিক আয়ের তথ্যে কোনও ভুলভ্রান্তি থাকলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্লক বা পুরসভা অফিসে গিয়ে নথি সংশোধনের পদক্ষেপ নিন।
প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, যোগ্য ও প্রকৃত উপভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে ভুয়ো দাবিদার ও নথির গরমিল দূর করতে এই পরিচ্ছন্নকরণ অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)