জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্যের মহিলাদের স্বনির্ভর করতে এবং সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Bhandar Scheme) বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয়। চলতি অক্টোবর মাসে দুর্গাপুজোর আবহেই রাজ্যের ১ কোটি ৬৪ লক্ষ যোগ্য মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে গিয়েছে মাসিক ৩,০০০ টাকার সহায়তা। সেপ্টেম্বর মাসে উপভোক্তার সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৫৬ লক্ষ, অর্থাৎ অক্টোবরে নতুন করে আরও ৮ লক্ষ মহিলার নাম যুক্ত হয়েছে এই সরকারি সুবিধাভোগীর তালিকায় (Beneficiary List)।
তবে এত বিপুল সংখ্যক উপভোক্তা উপকৃত হওয়া সত্ত্বেও, এখনও অনেক আবেদনকারী টাকা না পাওয়ার অভিযোগ জানাচ্ছেন। বহু আবেদন আটকে রয়েছে নথির ত্রুটির কারণে। সম্প্রতি ঝাড়গ্রাম সফরকালে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে প্রশাসনিক স্তরে কড়া বার্তা দিয়েছেন।
এক নজরে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও রূপরেখা
সরাসরি ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমে (Direct Benefit Transfer - DBT) উপভোক্তাদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অক্টোবর মাসের প্রধান পরিসংখ্যানগুলি নিম্নরূপ:
বিষয় পরিসংখ্যান / বিবরণ
অক্টোবরে মোট উপভোক্তা ১ কোটি ৬৪ লক্ষ মহিলা
সেপ্টেম্বরের মোট উপভোক্তা ১ কোটি ৫৬ লক্ষ মহিলা
অক্টোবরে নতুন সংযোজন ৮ লক্ষ নতুন উপভোক্তা
মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা
যাচাই প্রক্রিয়ায় জমা আবেদন ১৫ লক্ষেরও বেশি (Pending Applications)
অভিযোগ পোর্টালে জমা ক্ষোভ প্রায় ১৫ হাজারটি অভিযোগ
নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে। সেই মোতাবেক অক্টোবরের ১৫ তারিখ থেকেই ধাপে ধাপে টাকা ছাড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
আটকে থাকা টাকা কবে ঢুকবে?
শুক্রবার ঝাড়গ্রাম সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি জানান, শুধু ঝাড়গ্রাম জেলা থেকেই মোট ২ লক্ষ ৮১ হাজার ৪২৭ জন মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন। নথিপত্র যথাযথভাবে স্ক্রুটিনি (Scrutiny) করার পর ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৯০৩ জনের আবেদন গৃহীত (Approved) হয়েছে এবং তাঁরা ইতিমধ্যেই পুজোর আগে টাকা পেয়ে গিয়েছেন।
তবে ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্যের ভুলে (Bank Account Errors) ঝাড়গ্রামের ৬,১৬৩ জনের টাকা পৌঁছায়নি। তাঁদের উদ্দেশে অভয় দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান...
যাঁদের ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি (IFSC Code) বা আধার লিঙ্কের (Aadhaar Seeding) সমস্যার কারণে অক্টোবরের টাকা পৌঁছয়নি, তাঁরা নভেম্বরের কিস্তির সঙ্গেই বকেয়া টাকা (Arrears Payment) পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট উপভোক্তারা একসঙ্গে ৬,০০০ টাকা পাবেন।
স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে এই ভুলভ্রান্তি শুধরে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
'যোগ্য উপভোক্তাদের কেউই বাদ যাবেন না, তবে অযোগ্যদের কঠোরভাবে চিহ্নিত করে বাতিল করা হবে'-- মুখ্যমন্ত্রী এই নীতিই পুনর্ব্যক্ত করেন।
পেন্ডিং ১৫ লক্ষ আবেদন ও নবান্নের বিশেষ অভিযোগ পোর্টাল
বর্তমানে রাজ্য জুড়ে প্রায় ১৫ লক্ষেরও বেশি আবেদন যাচাইয়ের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, বিভিন্ন দফতর দ্রুত নথি পরীক্ষার কাজ চালাচ্ছে যাতে দ্রুত বকেয়া আবেদনকারীদের তালিকাভুক্ত করা যায়।
পাশাপাশি, যে সকল মহিলা ফর্ম জমা দেওয়ার পরেও টাকা পাননি বা যাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের হয়রানি কমাতে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ পাবলিক গ্রিভেন্স পোর্টাল (Public Grievance Portal) চালু করেছে। ইতোমধ্যেই সেখানে প্রায় ১৫ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রশাসনের তরফে একটি নির্দিষ্ট সেল (Dedicated Grievance Cell) তৈরি করে প্রতিটি অভিযোগের স্ট্যাটাস আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন বন্ধ ছিল নতুন আবেদন? ফের কবে থেকে শুরু?
দুর্গাপুজো মেটার পরই সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে-- যাঁরা এখনও ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁরা কবে আবেদন করতে পারবেন?
প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, প্রকল্প শুরুর পর রাজ্য জুড়ে নজিরবিহীন সংখ্যায় অফলাইন ও অনলাইন আবেদন জমা পড়েছিল। বিপুল পরিমাণ ডেটা- সার্ভারে তোলা এবং ভুয়ো আবেদনপত্র বাদ দেওয়ার স্বার্থে অফলাইন ও অনলাইন-- উভয় মাধ্যমেই নতুন আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত (Temporarily Suspended) রাখা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে এই জটিলতা কাটতে চলেছে। নথি যাচাইয়ের সিংহভাগ কাজ প্রায় শেষ। ফলে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস থেকেই পুনরায় যোগ্য প্রার্থীরা নতুন করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবেদনপত্র (Fresh Applications) জমা দিতে পারবেন।
উপভোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় করণীয় (Checklist)
যাঁদের নাম তালিকায় এখনও ওঠেনি বা যাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি, তাঁদের অবিলম্বে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে নবান্ন:
আধার লিঙ্ক যাচাই (Aadhaar-Bank Seeding)
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত রয়েছে কি না এবং এনপিসিআই (NPCI Mapping) সক্রিয় রয়েছে কি না দেখে নিন।
কেওয়াইসি আপডেট (KYC Update)
অ্যাকাউন্টে কেওয়াইসি সংক্রান্ত কোনও স্থগিতাদেশ রয়েছে কি না তা ব্যাংকের শাখায় গিয়ে নিশ্চিত করুন।
পোর্টাল মারফত অভিযোগ (File Grievance)
অনলাইনে অন্নপূর্ণা পোর্টালে নিজের আবেদনের বর্তমান স্থিতি (Application Tracking) পরীক্ষা করুন এবং সমস্যা থাকলে নথি আপলোড করে নির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করুন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)