জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব রাজ্যে ভোটার তালিকার (SIR বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) এর কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, সেই সমস্ত রাজ্যে নতুন ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম-৬ (Form-6) জমা দেওয়ার সময় অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র বা ‘অ্যানেক্সার-ডি’ (Annexure-D) আর জমা দিতে হবে না। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে প্রথমবার ভোটার হতে চলেছে এরকম দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী এবং সাধারণ নাগরিকরা বড় স্বস্তি পেলেন।
এই নিয়ে ঠিক কী বিতর্ক হয়েছে?
গত কিছুদিন ধরে নির্বাচন কমিশনে এবং বিভিন্ন মহলে ফর্ম-৬ এর সঙ্গে ‘অ্যানেক্সার-ডি’ যুক্ত থাকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ মতভেদ দেখা দিয়েছিল। অনেক বিশেষজ্ঞ এবং আবেদনকারী মনে করছিলেন যে, এই অতিরিক্ত নথিপত্র ও ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম সাধারণ নাগরিকদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ ও জটিল করে তুলছে।
নতুন ভোটারদের কী সমস্যা?
বিশেষ করে যারা নতুন ভোটার হিসেবে নিজেদের নাম তুলতে চান, তাদের নানা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছিল। এই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন নিয়ম বদল করে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যে সমস্ত রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ায় কাজ শেষ, সেখানে অনলাইন বা অফলাইন ফর্ম-৬ এর সঙ্গে আর ‘অ্যানেক্সার-ডি’ লাগবে না।
কিন্তু কোথায় লাগবে এই ‘অ্যানেক্সার-ডি’? কাদের জমা দিতেই হবে?
নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রের নিয়ম সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়নি, বরং এর পরিধি সীমিত করা হয়েছে। ‘অ্যানেক্সার-ডি’ এখন কেবল সেই সমস্ত রাজ্য বা এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যেখানে এখনও (SIR) এর কাজ চলছে। অর্থাৎ, যে অঞ্চলে SIR প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি, কেবল সেই অঞ্চলের আবেদনকারীদেরই নিয়মানুযায়ী ফর্ম-৬ এর সঙ্গে এটি ফিল-আপ করে জমা দিতেই হবে।
নতুন ভোটারদের জন্য সুবিধা:
ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে ভোটার তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হল। দেশের তরুণ প্রজন্ম যারা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মুখিয়ে থাকেন, তাদের জন্য ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক কম ঝামেলার হবে। এর ফলে অযথা আইনি বিলম্ব এড়ানো সম্ভব হবে এবং ভোটার তালিকায় নাম ঢোকানোর কাজ আরও বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ উভয় পক্ষই।
এই রাজ্যের অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কী সুবিধা বা অসুবিধা হল জেনে নিন
যেহেতু বিধানসভা ভোটের আগেই পশ্চিমবঙ্গে SIR হয়ে গিয়েছে, তাই রাজ্যের নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে এই রাজ্যের ভোটারদের বড় সুবিধা হল...
প্রথমত, পুরো নিয়ম সহজ হল: পশ্চিমবঙ্গের তরুণ-তরুণী যারা প্রথমবারের মতো ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান, তাদের ফর্ম পূরণের ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে। অতীতে বিভিন্ন অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র বা নথিপত্র জোগাড় করতে গিয়ে যে আইনি জটিলতা তৈরি হত, তা দূর হওয়ায় প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সময় কম লাগছে: অতিরিক্ত অফিসিয়াল কাগজপত্র বা ‘অ্যানেক্সার-ডি’-র প্রয়োজনীয়তা উঠে যাওয়ায় আবেদনকারীদের বারবার নির্বাচন অফিসে ছোটা বা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝক্কি পোহাতে হবে না। এর ফলে অযথা সময় নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন প্রার্থীরা।
তৃতীয়ত, দ্রুত নামভুক্তি: জটিলতা কম থাকায় ব্লক লেভেল অফিসার (BLO) এবং নির্বাচন দফতরের পক্ষে আবেদনগুলি যাচাই করে খুব কম সময়ে ভোটার কার্ড বা এপিক (EPIC) কার্ড ইস্যু করা সম্ভব হবে। ফলে তরুণ ভোটাররা দ্রুত তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার তথা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
সংক্ষেপে, কমিশনের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গের নতুন ভোটাররা কম পরিশ্রমে এবং দ্রুততম উপায়ে কোনও ধরনের ঝামেলা ছাড়াই সহজে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)