জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে রাজ্যে সূচনা হয়েছিল সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana)। গত সেপ্টেম্বরে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’-এর শুভলগ্নে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ প্রান্তিক ও সাধারণ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছিল তৃতীয় কিস্তির ৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা। কারও কাছে তা ছিল প্রথম কিস্তি। কিন্তু শরতের আলোছায়ার মতোই এবার অক্টোবরের দ্বিতীয় কিস্তির আগেই চরম দোলাচল ও উৎকণ্ঠায় প্রাপকেরা। উৎসবের আবহে অ্যাকাউন্টে ৩০০০ পৌঁছনোর আগেই নবান্নের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে এক ব্যাপক ও নিবিড় স্ক্রিনিং বা পুনঃযাচাইকরণ পর্ব। প্রশাসনিক সূত্রের বার্তা স্পষ্ট-- যাঁরা প্রথম দফায় অর্থ পেয়েছেন, তাঁদেরও স্বস্তিতে থাকার অবকাশ নেই। তথ্যের গরমিল বা অযোগ্যতার প্রমাণ মিললে এই কিস্তিতেই বন্ধ হতে পারে অনুদানের পথ। ফলে অন্নপূর্ণার ঝুলিতে কার নাম বহাল থাকবে আর কার নাম বাদ পড়বে, তা নিয়ে এখন গ্রাম থেকে শহরের অলিগলিতে তুঙ্গে কৌতূহল।
এই অসঙ্গতি দূর করতে প্রশাসনের আধিকারিকরা সরাসরি আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করছেন। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মোট জমা পড়া প্রায় ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদনের মধ্যে প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়েই ২৭ লক্ষের বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছিল।
প্রকল্প চালু হওয়ার পর উপভোক্তাদের একাংশ ভুল তথ্য দিয়ে বা তথ্য গোপন করে আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী মালতি রাভা রায় জানিয়েছেন, অনেকেই অনলাইন ও অফলাইন-- উভয় মাধ্যমেই আবেদন করেছিলেন, যার ফলে প্রশাসনিক স্তরে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বহু আবেদনকারী তথ্য গোপন করে প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এই অসঙ্গতি দূর করতে প্রশাসনের আধিকারিকরা সরাসরি আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করছেন। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মোট জমা পড়া প্রায় ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদনের মধ্যে প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়েই ২৭ লক্ষের বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছিল।
কারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন?
প্রকল্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি স্থায়ী বাসিন্দা মহিলারাই কেবল এই ভাতা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু নথিপত্র এবং পারিবারিক তথ্য পুনরায় মিলিয়ে দেখার পর নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা তালিকা থেকে বাদ পড়বেন:
সরকারি চাকরি ও পেনশনভোগী: আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারে যদি কেউ স্থায়ী সরকারি চাকরি করেন, নিয়মিত সরকারি বেতন পান কিংবা সরকারি পেনশনভোগী হন।
আয়করদাতা: যে সকল ব্যক্তি বা পরিবার নিয়মিত আয়কর প্রদান করেন কিংবা আয়কর দেওয়ার উপযুক্ত।
ব্যবসা ও জিএসটি: পরিবারের কোনও সদস্যের নামে যদি সক্রিয় জিএসটি (GSTIN) নম্বর থাকে।
বয়সের অমিল: আবেদনকারীর বয়স যদি ২৫ বছরের কম অথবা ৬০ বছরের বেশি হয়।
ভুল তথ্য বা নথি গোপন: আবেদনপত্রে কোনো তথ্য বিকৃত করা হলে কিংবা জমা দেওয়া প্রমাণের সঙ্গে আবেদনের তথ্যের ফারাক থাকলে।
অক্টোবরের কিস্তি কবে ঢুকবে?
সেপ্টেম্বর মাসে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ উপলক্ষে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৩ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল। সরকারি পূর্বঘোষণা অনুযায়ী প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টাকা ছাড়ার কথা থাকলেও অক্টোবরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নথি যাচাই পর্ব দ্রুত শেষ করে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে।
যাঁদের টাকা ঢোকেনি বা আবেদন আটকে, তাঁরা কী করবেন?
যাঁদের আবেদনে ‘Under Enquiry’, ‘Under Process’ কিংবা ‘Rejected’ স্ট্যাটাস দেখাচ্ছে, তাঁদের সমস্যা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাতিল হওয়া ফর্মগুলি পুনরায় ডিজিটাইজ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযোগের (Aadhaar Seeding) ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া সমস্যা সমাধানের জন্য রাজ্যজুড়ে চালু হওয়া ‘সেবা সেতু’ শিবিরে গিয়ে আবেদনকারীরা নিজেদের নাম, তথ্য ও আবেদনপত্রের বর্তমান স্থিতি সম্পর্কে অভিযোগ বা আবেদন জানাতে পারেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, ভুলের কারণে যাতে কোনো প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য উপভোক্তা বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।