৭২ ঘণ্টায় ধেয়ে এল আরও বড় বিপর্যয়, উরুগুয়ের কাছে ৬ গোলে বিধ্বস্ত ভারত!
India vs Uruguay: ব্রাজিলের কাছে চার গোল হজম করার রেশ কাটার আগেই উরুগুয়ের কাছে হাফ ডজন গোল খেল ভারত!
শুভপম সাহা: ৭২ ঘণ্টা আগে ব্রাজিলের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে সেই যুবভারতীতে ম্যাচ! বিশ্বের ৬ নম্বর দল ও পাঁচবারের ভুবনজয়ীদের সঙ্গে ঐতিহাসিক এনকাউন্টারের পর ফিফা ক্ৰমতালিকায় ২০ নম্বর দলের মুখে ভারত! গা ছমছম! কী হয়! কী হয়! শনিতে 'অশনি' হয়েছিল, মঙ্গলে কি 'মঙ্গল' হবে? ১১৮ ধাপ নীচে থাকা দল কি করবে দু'বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে! না ঘুরে দাঁড়ানো আর হল না! উরুগুয়ে ৬-১ গোলে হারাল ভারতকে|
এদিন কমলা জার্সিতে ভারতের শুরুটা ছিল রীতিমতো ঝকঝকে| অল-আউট ঝাঁপিয়েছিল ইন্ডিয়া| খেলার ১০ মিনিটের মধ্যেই তা উরুগুয়ে ভালো মতো বুঝে গিয়েছিল| ৬ মিনিটে আকাশ মিশ্র গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন! তবে অল্পের জন্য তা হয়নি| যতবার ভারতের পায়ে বল যাচ্ছিল ততবার খালিদ জামিলের শিষ্যদের জন্য গ্যালারি গলা ফাটাচ্ছিল | এরপর ৯ মিনিটে এডমুন্ডও কিন্তু গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন| সেটাও কাজে লাগেনি| ১০ মিনিটে পেনাল্টি আদায় করে নেয় উরুগুয়ে| বক্সের মধ্যে ফেডেরিকো ভিনাসকে স্লাইডিং ট্যাকেলে ফেলে দেন প্রমবীর| রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান| ১১ মিনিটে গোল করেন ডারউইন নুনেজ| স্পট কিকের দৌড় শুরুর সময় খানিকটা থমকে যান তিনি। তারপর গুরপ্রীতকে ভুল দিকে পাঠিয়ে নিখুঁত শটে জালে বল জড়িয়ে দেন| এক গোল খাওয়া ভারত খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো হয়ে উঠেছিল| ২২ মিনিটে ভারত গোল শোধ করে দেয়| মাঝমাঠে বল ছিনিয়ে নিয়ে সামনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান রায়ান উইলিয়ামস। পাস দেওয়ার সুযোগ থাকলেও ভারতের তারকা ফুটবলার নিজেই শট নেন। তবে তাঁর জোরাল শট বাঁচিয়ে দেন উরুগুয়ের থিয়াগো ব্রুগম্যান। তবে বল তিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। কাছেই শিকারির মতো ওত পেতে ছিলেন অনিরুদ্ধ থাপা| ফিরতি বল পেয়েই আগুনে শটে জালে জড়িয়ে দেন বল।
এদিন ২৬ মিনিটে বজ্রবিদ্যুতের দাপটে ম্যাচ সাময়িক বন্ধ হয়! বজ্রপাতের আশঙ্কায় ম্যাচ থামিয়ে মাঠ ফাঁকা করে দেওয়া হয়| ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শেষবার বজ্রপাত দেখার পর অন্তত ৪৫ মিনিট না কাটলে ম্যাচ ফের শুরু করা যায় না। সেই নিয়ম মেনেই ফের খেলা শুরু হয়| আর দেখতে গেলে উরুগুয়ে পায়ে গোল নিয়েই মাঠে নামে| ২৯ মিনিটে স্কোরলাইন ২-১ করেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো|
ভারত ম্যাচে ফেরার ছন্দ খুঁজে পাওয়ার আগেই ফের ধাক্কা খায়। বেন্তানকুরের থেকে নান্দেস বল পেয়ে যান। তাঁকে আটকানোর জন্য কারোর দেখা পাওয়া যায়নি| আরাউহোকে বল বাড়ান নান্দেস। এরপর নিখুঁত ফিনিশে আরাউহো বল জড়িয়ে দেন জালে। ৩৭ মিনিটে ভারত আরও পিছিয়ে যেতে পারত| তবে গুরপ্রীতের বিশ্বস্ত দস্তানায় তা আটকে যায়| নুনেজ ওয়ান-অন-ওয়ান পেয়ে যান| নুনেজ চিপ শট মারার চেষ্টা করেছিলেন গুরপ্রীতের মাথার উপর দিয়ে| তবে ৬ ফুট ৬ ইঞ্চির গোলকিপার তা উড়িয়ে দেন|
বিরতির পর ফিরেই উরুগুয়ে জ্বলে উঠল| পুরো একপেশে খেলা হল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে| ৫৯ মিনিটে দিয়েগো ফোরলানের শিষ্যরা আরও দু'বার ভারতের জালে বল জড়ালেন| ৫৩ মিনিটে জাল কাঁপালেন জাহলাহসার| টোরেইরার লম্বা বল খুঁজে নেয় নুনেজকে। এরপর তিনি হেডে বল নামিয়ে দেন জাহলাহসারের জন্য। তিনি এক টাচে বলটা সামনে বাড়িয়ে নিয়ে দুর্দান্ত শট নিলেন| কাছের পোস্ট দিয়ে গুরুপ্রীতকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান| ৫৯ মিনিটে আরাউহো নিজের দ্বিতীয় গোল করেন| ভারতীয় অর্ধে বল পেয়ে যান ভিনাস। তিনি অসাধারণ থ্রু বল বাড়ান আরাউহোকে। বল পেয়েই বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি| স্রেফ এক টাচে জায়গা তৈরি করে নিয়েই বাঁ পায়ের জোরাল শটে ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালে ঢুকিয়ে দেন| গুরুপ্রীতের এবারও কিছুই করার ছিল না! তবে ভারতের রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই| এরপর ৭১ মিনিটে উরুগুয়ে ভেঙে পড়া ভারতের জালে পাঁচ নম্বর গোলটি জড়িয়ে দেয় সানাব্রিয়ার সৌজন্যে| উরুগুয়ে শো যেন থামছিলই না! ৮৬ মিনিটে আগুইরে অসাধারণ গোল করে স্কোরলাইন ৬-১ করল|
চলতি বছর ফিফা বিশ্বকাপে গ্ৰুপ পর্বে ছিটকে যাওয়া দেশটা ৭৬ বছর আগে শেষবার কাপ ছুঁয়ে দেখেছিল! লাতিন আমেরিকার দেশ সেরার সেরা হ ১৯৩০ এবং ১৯৫০ সালে| কলকাতা-সহ পুরো বাংলায় তন্নতন্ন করে খুঁজলেও ক'জন উরুগুয়ে সমর্থক পাওয়া যাবে, তা নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ আছে| বাঙালি মূলত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় বিভক্ত| এছাড়াও ইতালি, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের বহু সমর্থক আছেন| তাবলে উরুগুয়ে! লুইস সুয়ারেজ, দিয়েগো ফোরলান ও এডিনসন কাভানির মতো নক্ষত্র ফুটবলাররা বিশ্বমঞ্চে উরুগুয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছেন দীর্ঘ সময় ধরে| এখন লা সেলেস্তের ঝকঝকে প্রতিনিধিরা-ফেডেরিকো ভালভার্দে, ডারউইন নুনেজ, রোনাল্ড আরাউহো ও রডরিগো বেন্তানকুররা| দু'মাস আগে বিশ্বকাপ খেলা ২১ ফুটবলারকে নিয়েই ভারতে আসছে ফোরলানের উরুগুয়ে| এমন খবর চোখ কেড়েছিল| আর দলে নিঃসন্দেহে বড় নাম ছিল ভালভার্দে| কিন্তু মাদ্রিদ ডার্বিতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে খেলার সময়ে, বাঁ-পায়ের গোড়ালিতে চোট পাওয়ায় রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়কের আর ভারতেই আসা হয়নি| স্পেনেই থেকে যান তিনি| ফলে উরুগুয়েকে নিয়ে আকর্ষণ আরও অনেকটাই কমে যায়| যতই কোচের নাম ফোরলান হোক! তিনি তো আর মাঠে নেমে পায়ের জাদু দেখাবেন না! থাকবেন সাইডলাইনেই....কিন্তু কলকাতা যে ফুটবলের মক্কা| এক) দুয়ারে পুজো, দুই) সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন| এরপরেও মাঠে ৩৭ হাজারের উপর মানুষ এলেন খেলা দেখতে!
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)