জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ৪ জুলাই ২০২৩ থেকে ৪ অক্টোবর ২০২৬। ভারতের নির্বাচক প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন অজিত আগরকর। ইন্ডিয়ার প্রাক্তন পেসার ও রঞ্জিজয়ী মুম্বই অধিনায়কের মেয়াদ শেষ। এখন প্রশ্ন তাঁর চেয়ারে কে বসবেন? আগরকরের বিকল্প খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিনিধি ছিলেন আগরকর। ফলে বিসিসিআইকে নতুন জাতীয় নির্বাচক হিসেবে পশ্চিমাঞ্চল থেকেই কাউকে বেছে নিতে হবে। আর সেখানেই সমস্যা। এমনকী মিঠুন মনহাসরা ১০০ টেস্ট খেলা দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন, তাঁরাও নির্বাচক হওয়ার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন। দেশের প্রাক্তন উইকেটকিপার-ব্য়াটার পার্থিব প্যাটেলের নাম জোরাল ভাবে উঠে আসছিল পরবর্তী নির্বাচক প্রধান হিসেবে। তিনি পশ্চিমাঞ্চলেরই। তাঁকেই সবচেয়ে যোগ্য বলে মনে করছিল বোর্ড। তবে জানা যাচ্ছে এই পদের জন্য পার্থিব আবেদনই করেননি! পশ্চিমাঞ্চলের শূন্যপদ পূরণের জন্য আবেদনের সময়সীমা গত বুধবারই শেষ হয়েছে। তবে পার্থিব এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিসিসিআইয়ের এক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিটিআই-কে জানিয়েছে, 'বিসিসিআই সময়সীমা বাড়াবে কি না তা জানি না, তবে গত ১৪ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত পার্থিব কোনও আবেদন করেননি। সময়সীমা বাড়ানো হলে বা তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে পরিস্থিতির বদলাতে পারে।' দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধি ওঝা চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর অবশিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমান নির্বাচকদের মধ্যে টেস্ট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকায় তাঁর অবস্থানই আরও জোরালো হয়েছে।
রমেশ পাওয়ার কি দায়িত্ব নেবেন?
রমেশ পাওয়ার জুনিয়র পুরুষ নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে তিনি এখন পশ্চিমাঞ্চলের সিনিয়র নির্বাচক পদের একজন দাবিদার হিসেবে উঠে আসতে পারেন। ভারতের প্রাক্তন উইকেটরক্ষক সমীর দিঘের নামও শোনা যাচ্ছে। নির্বাচক পদের জন্য যখন সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, তখন পাওয়ার এবং দিঘে, উভয়েই আবেদন করেছিলেন। তবে পশ্চিমাঞ্চল থেকে যোগ্য ও উল্লেখযোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা সীমিত বলেই মনে হচ্ছে। যদি না বিসিসিআই আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে পার্থিবকে আবেদন করার সুযোগ দেয়। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী পার্থিব সিনিয়র নির্বাচক কমিটিতে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে গুজরাট টাইটান্সের কোচিং স্টাফ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং সম্প্রচার সংক্রান্ত নিজের দায়িত্বগুলি পালন করতেই বেশি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। এই মাসের শুরুর দিকে বিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাচক হিসেবে অজিত আগরকরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই তাঁর উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে। পশ্চিমাঞ্চলের শূন্য নির্বাচক পদের জন্য আবেদনের সময়সীমা গত বুধবার শেষ হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সত্ত্বেও, পার্থিব প্যাটেল এই পদের জন্য আবেদন করেননি। এক সর্বভারতীয় মিডিয়ার প্রতিবেদন বলছে, নির্বাচক পদের জন্য আবেদন না করার পিছনে ভারতীয় ক্রিকেটে ভিভিএস লক্ষ্মণের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বড় ভূমিকা থাকতে পারে। সম্প্রতি বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন যে, সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের প্রধান হিসেবে লক্ষ্মণ এখন থেকে সমস্ত নির্বাচক সভায় উপস্থিত থাকবেন। পার্থিব প্যাটেল আবেদন না করায়, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে প্রজ্ঞান ওঝা অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, 'বিসিসিআই চেয়েছিল আগরকর বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকুন, যাতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে; কিন্তু পরিস্থিতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।'
বাজেট বাড়িয়েছে বোর্ড!
বোর্ডের বর্তমান নির্বাচক কমিটিতে রয়েছেন প্রজ্ঞান ওঝা, রুদ্রপ্রতাপ সিং, অজয় রাতরা ও শিবসুন্দর দাস। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বিসিসিআই নির্বাচক প্যানেলের নেতৃত্বে বড় কোনও তারকাকেই দেখতে চায় এবং এই বিষয়ে তারা তাদের পারিশ্রমিক নীতিও নমনীয় করেছে। আরপি সিং এবং ওঝা নির্বাচক প্যানেলে যোগ দেওয়ার পর, বিসিসিআই এই প্যানেলের খরচের বাজেট ৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১৭.৪৫ কোটি টাকা করেছে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য বিসিসিআইয়ের এই বাজেট বাড়িয়ে ১৯.৩৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)