জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'যেও না নবমী নিশি লয়ে তারা দলে / তুমি গেলে দয়াময়ী এ পরাণ যাবে।' মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের লেখনীতেই যেন বাঙালির বেদনা আভাস। দশমীতে দূরের কথা। নবমী নিশি থেকেই বাঙালির মন খারাপ। নবমী থেকে যে মুষড়ে পড়ে, সে দশমীতে কান্নাকাটি ছাড়া আর কী করতে পারে? আর, দুর্গা তো বাঙালির কাছে যত না দেবী, তার চেয়েও অনেক বেশি মেয়ে। মেয়ে যেমন তেমনই সে বাপের বাড়ি এসেছে, কয়েকদিন থেকে চলে যাচ্ছে! তা, এতে তার বাপ-মা ভাইবোন আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী কাঁদবে না? চোখে জল আসার পিছনে অবশ্য আরও বহুতর সব কারণ আছে-- কোনওটা ধর্মীয়, কোনওটা সামাজিক!
মা দুর্গার বাপের বাড়ি যাওয়া
বাঙালি দেবী দুর্গাকে ঘরের মেয়ে বা কন্যাসন্তান হিসেবে গণ্য করে। মনে করা হয়, পুজোয় তিনি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ এই চার সন্তান-সহ মর্ত্যে বা বাপের বাড়িতে আসেন। দশমীর দিন তিনি কৈলাসে তাঁর স্বামী মহাদেবের বাড়িতে ফিরে যান। একটি মেয়ে যখন বাপের বাড়ি ছেড়ে চলে যায়, তখন পরিবারের সবার মন যেমন খারাপ হয়, ঠিক তেমনই মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর সময়ও ভক্তদের মনে গভীর দুঃখের অনুভূতি হয়। দশমী তাই আগাগোড়া কান্নারই উৎসব। বিজয়া দশমী সনাতন ধর্মে এক অত্যন্ত আবেগঘন দিন। এই দিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের সময়ে তাই সবার চোখে জল আসে।
উৎসবের সমাপ্তি-শূন্যতা
ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী-- এই দিনগুলিতে চারদিকে যে উৎসবের আমেজ থাকে দশমীর দিন বিসর্জনের মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটে। চারদিকের জমকালো আলো আর ঢাকের আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়। একটা নিঃসঙ্গতা ও শূন্যতা তৈরি হয়, যা গ্রাস করে মানুষকে।
বিদায়ের বেদনা
বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নানা ভাবে জড়িত দুর্গাপুজো। মায়ের প্রতি গভীর ভক্তি এবং পাঁচ দিনের আনন্দের পর যখন বিসর্জনের ঢাক বাজে, তখন অজান্তেই চোখ দিয়ে জল চলে আসে। এটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং এক প্রিয়জনকে বিদায় জানানোর লগ্ন, যখন মনকে গ্রাস করে এক চিরন্তন বেদনা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)