রাজধানীতে 'মিনি কলকাতা'! মহাষ্টমীতে সি আর পার্কের দুর্গাপুজোয় জনস্রোত
দিল্লির বুকে আস্ত এক টুকরো কলকাতা! শারদোৎসবে জমজমাট সি আর পার্ক। ১৬ ফুটের শুভ্র মণ্ডপসজ্জা, সাথে ঐতিহ্যবাহী কাসুন্দি-কাটলেট ও রকমারি বাঙালি খাবারের আমেজ—সব মিলিয়ে উৎসবের রঙে মেতে উঠেছে প্রবাসীরা!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লির বুকে 'মিনি কলকাতা' বা প্রবাসীদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত চিতরঞ্জন পার্ক তথা সি আর পার্কে শারদোৎসবের আনন্দ যেন বাকি সব জায়গাকে ছাপিয়ে গেছে। মহাষষ্ঠী থেকে শুরু করে মহাঅষ্টমী—উৎসবের দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে যেন জনজোয়ার বয়ে চলেছে। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনকে একপাশে সরিয়ে রেখে প্রবাসী বাঙালিরা শামিল হতে ভিড় জমিয়েছেন সি আর পার্কে।
১৬ ফুটের ধ্রুপদী মণ্ডপ ও শুভ্র সাজসজ্জা
চিত্তরঞ্জন পার্কের এবারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সেখানকার সুবিশাল ও নান্দনিক মণ্ডপসজ্জা। প্রায় ১৬ ফুট উচ্চতার এই বিশাল মণ্ডপটি খাঁটি বাঙালি সভ্যতা, প্রাচীন শিল্পকলা ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এবার প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে শুভ্র বা সাদা রঙকে। মণ্ডপের কারুকার্য ও সূক্ষ্ম ফিনিশিং একঝলক দেখলেই মনে পড়ে যায় কলকাতার বনেদি পুজোর ঐতিহ্য। পুজোর দিনগুলোতে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে এই সুবিশাল মণ্ডপ দেখতে এবং মা দুর্গার কাছে অঞ্জলি দিতে ঢল নেমেছে হাজার হাজার দর্শনার্থীর।
সুস্বাদু খানাপিনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
মণ্ডপ দর্শনের পাশাপাশি ভোজনরসিক বাঙালিদের প্রধান আকর্ষণ কিন্তু এই খাবারের স্টলগুলোই। মণ্ডপ চত্বরে গড়ে ওঠা বিশালাকার ফুড কর্নারে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে হরেক রকমের বাঙালি খাবার। মচমচে কাটলেট, ফিশ ফ্রাই, রোল থেকে শুরু করে রসগোল্লা ও খাসির মাংসের বিশেষ প্রিপারেশন—বাঙালি স্বাদের সমস্ত পদই পাওয়া যাচ্ছে এখানে।
খাবারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রাখা হয়েছে বিশেষ আয়োজন। প্রবাসীদের মন ভরাতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মণ্ডপ মঞ্চে আয়োজিত হচ্ছে নানাবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় প্রবাসী শিল্পী থেকে শুরু করে আমন্ত্রিত শিল্পীদের গান, নাচ ও নাটকে জমজমাট হয়ে উঠছে পুজো প্রাঙ্গণ।
দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা
এই শারদোৎসবে সি আর পার্ক শুধু দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের (NCR) মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; দিল্লি ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড এমনকি পশ্চিমবঙ্গ থেকেও প্রচুর দর্শনার্থী এখানে মা দুর্গার দর্শন পেতে ছুটে এসেছেন। দর্শনার্থীদের মতে, সি আর পার্কের রাস্তায় পা রাখলে এবং মণ্ডপের আলোকসজ্জা ও পরিবেশ দেখলে এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয় না যে তাঁরা কলকাতার বাইরে বা প্রবাসে অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে, ঢাকের আওয়াজ, নতুন জামার সুবাস, সুস্বাদু খাবার এবং নস্ট্যালজিয়ায় সেজে ওঠা সি আর পার্ক আবারও প্রমাণ করে দিল যে—বাঙালি যেখানেই থাকুক না কেন, উমা পুজোয় মাততে তাদের ভৌগোলিক দূরত্ব কোনো বাধা তৈরি করতে পারে না।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)