নয়ডা কালীবাড়ি এখন বাংলার গ্রাম! ৪৪ বছর ধরে প্রবাসে পুজোর উজ্জ্ব্ল মুখ
নয়াদিল্লির দুর্গাপুজো নয়ডা কালীবাড়িকে ছাড়া একেবারে অসম্পূর্ণ। এবার গ্রাম বাংলার থিমেই জমজমাট আয়োজন
রাজীব চক্রবর্তী: নয়াদিল্লির দুর্গাপুজোর কথা বললে তা নয়ডা কালীবাড়ির পুজো ছাড়া অসম্পূর্ণ। শুধুই দিল্লিই নয়, সমগ্র এনসিআরের অন্যতম প্রাচীন, বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় বাঙালি উৎসবের একটি। নয়ডার সেক্টর ছাব্বিশে অবস্থিত এই কালীবাড়ি প্রাঙ্গণের পুজো নয়ডা ও তার আশেপাশের প্রবাসী বাঙালিদের প্রধান মিলনমেলা। প্রতি বছরই নজরকাড়া থিম এবং চমৎকার মণ্ডপসজ্জার জন্য খবরে আসে নয়ডা কালীবাড়ি। এবার গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য ও লোকশিল্পই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাংলা থেকেই বিশেষ শিল্পী ও কারিগরদের নিয়ে আসা হয়েছে।
৪২ বছরের ঐতিহ্য়
মণ্ডপের ভিতরে কুঁড়েঘর, গরুর গাড়ি, কৃষকের চাষবাস আর ফসল তোলার দৃশ্য! দিল্লি এনসিআরের বুকে যেন এক টুকরো গ্রাম বাংলা। এই বার ৪৪তম বর্ষে পা দিয়েছে নয়ডা কালীবাড়ির দুর্গাপুজো। থিম গ্রাম বাংলা। মাটির ঘরে আলপনা, দেওয়াল জুড়ে নানা নকশা—সব মিলিয়ে বাংলার গ্রামীণ জীবনযাত্রাকে মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা। গত পাঁচ বছর ধরে নয়ডা কালীবাড়ি কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র নিজেদের পুজোই করে না, বরং আশেপাশের পুজোগুলোকে উৎসাহিত করতে জাগো দুর্গা শারদ সম্মান প্রতিযোগিতারও আয়োজন করে। এর মাধ্যমে নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা ও গাজিয়াবাদের সেরা পুজো মণ্ডপগুলিকে পুরস্কৃত করা হয়। নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা ও গাজিয়াবাদের পুজো পরিদর্শন করে সর্বজনীন ও আবাসনের পুজো—এই দুই বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের দাবি এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। পুজো কমিটির সভাপতি শৌর্য চট্টোপাধ্যায়, সহ-সভাপতি অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক সাত্যকি গুহের উদ্যোগে এই বারও বিশেষ মাত্রা পেয়েছে এই পুজো। গত ৪৪ বছর ধরে নবমীর দিন কুমারীপুজোর রীতি বজায় রেখেছে কালীবাড়ি। এবারও নিয়ম মেনে কুমারী হিসেবে পুজো করা হয় সম্ভাবী রায়কে। প্রায় ৪২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত নয়ডা কালীবাড়ি শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়। বাঙালি শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বৃহত্তর জনসমাজের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সারা বছর নানা জনসেবামূলক কাজেও যুক্ত থাকেন মন্দিরের সদস্যেরা। দিল্লি-এনসিআরের বুকে বাঙালিয়ানা ধরে রাখার ক্ষেত্রে নয়ডা কালীবাড়ির এই ভূমিকা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
আরও পড়ুন: আবাসনে আজ অনন্য দিল্লির কালকাজি, এবারের থিম 'সহজ পাঠ', অষ্টমীতে নামল মানুষের ঢল
প্রতিদিনই নানা অনুষ্ঠান
উৎসবের দিনগুলিতে প্রতি সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। স্থানীয় প্রতিভাদের পাশাপাশি কলকাতা ও মুম্বই থেকে নামী সংগীতশিল্পী এবং পারফর্মাররা এখানে আসেন। আনন্দমেলার সঙ্গেই ধুনুচি নাচ প্রতিযোগিতা এবং শঙ্খ বাজানো প্রতিযোগিতাও নয়ডা কালীবাড়ির অন্যতম বড় আকর্ষণ। দর্শনার্থী ও ভক্তদের জন্য আবার ঐতিহ্যবাহী মহাপ্রসাদ বা ভোগের ব্যবস্থা থাকে। এছাড়া পুজো প্রাঙ্গণে কলকাতা ও বাংলার নামী নানা খাবারের স্টলও বসে, যেখানে খাঁটি বাঙালি খাবার, মিষ্টি ও স্ট্রিট ফুডের স্বাদ নিতে ভিড় উপচে পড়ে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)