জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ক'দিন পরেই শারদীয়া দুর্গাপুজো। বাঙালির বড় উৎসব, সব থেকে বড় উৎসব! বৎসরান্তে আনন্দে মেতে ওঠার মহা-উপলক্ষ ও মহা-আয়োজন। তবে এর আগে আসে মহালয়া। মহালয়ার বিপুল তাৎপর্য। পিতৃপক্ষ শেষ হয়ে দেবীপক্ষ শুরু হয় এদিনই। এই সন্ধিক্ষণই মহালয়া। মহালয়া সরাসরি দুর্গাপুজোর অঙ্গ বা অংশ না হয়েও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এবার কবে মহালয়া? এবার মহালয়া ১০ অক্টোবর, শনিবার। এদিন যথারীতি পিতৃপুরুষকে জলদান করা হবে, করা হবে জলতর্পণ বা তিলতর্পণ।
তর্পণ কী?
তর্পণ হল জলের দ্বারা কৃত পিতৃপুরুষের (দেবতাদেরও) তৃপ্তিবিধায়ক অনুষ্ঠান। এটি পিতৃহীন গৃহস্থের অবশ্য কর্তব্য বলে মনে করা হয়। একে পিতৃযজ্ঞও বলা হয়। তিলতর্পণ বা তিলমিশ্রিত জলের দ্বারা তর্পণও বিধিবদ্ধ। শারদীয়া দুর্গাপুজোর আগে মহালয়া অমাবস্যায় তিলতর্পণ বহুল প্রচলিত।
'মহালয়' থেকে মহালয়া
আশ্বিন মাসের অমাবস্যাকে 'মহালয়া' বলে। আশ্বিন মাসের এই কৃষ্ণপক্ষ 'মহালয়' নামে প্রসিদ্ধ। 'মহালয়' হল পিতৃপুরুষের উৎসবের আধার। 'মহালয়' শব্দটি থেকেই এসেছে 'মহালয়া' শব্দটি। এই কৃষ্ণপক্ষে প্রতিদিনই শ্রাদ্ধকর্মের বিধান রয়েছে। মনে করা হয়, এই অমাবস্যায় পিতৃপুরুষেরা তাঁদের উত্তরপুরুষদের থেকে জল নিতে আসেন, আর দীপান্বিতা অমাবস্যায় তাঁরা স্বলোকে ফিরে যান। মর্ত্যে অবতীর্ণ পিতৃপুরুষদের প্রত্য়াবর্তনের সময় তাঁদের পথ প্রদর্শনের জন্য এ-সময় আকাশে আলোদানের ব্যবস্থার প্রচলন।
মহাভারতে তর্পণ
মহাভারতে রয়েছে তর্পণের এক অন্যরকম গল্প। মৃত্যুর পরে কর্ণের আত্মা পরলোকে গেলে তাঁকে খাদ্য হিসেবে সোনাদানা মণিরত্ন ইত্যাদি দেওয়া হয়। দেবরাজ ইন্দ্রকে কর্ণ এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে ইন্দ্র বলেন, দানবীর কর্ণ সারাজীবন সোনাদানা মণিরত্ন দান করেছেন, কিন্তু তিনি প্রয়াত পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কখনও খাদ্য বা পানীয় দান করেননি। তাই স্বর্গে খাদ্য হিসেবে তাঁকে সোনাদানাই দেওয়া হয়েছে। তখন কর্ণ জানান, যেহেতু নিজের পিতৃপুরুষ সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন না, তাই পিতৃগণের উদ্দেশ্যে জলদান করা হয়ে ওঠেনি তাঁর। এর সমাধান হিসেবে কর্ণকে ১৬ দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল দান করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই পক্ষই মর্ত্যে পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়।
শারদীয়া দুর্গাপুজো
মানুষের ছ'মাস-- দেবতাদের একদিন; বাকি ছ'মাস-- তাঁদের রাত্রি। মাঘ মাস থেকে আষাঢ় ছ'মাস উত্তরায়ণ, যেটি দিন-- এ সময় দেবতারা জাগ্রত; আর শ্রাবণ থেকে পৌষ এই ছ'মাস দক্ষিণায়ন, যেটি রাত-- এসময় দেবতারা নিদ্রিত থাকেন। এখন
এই শরৎকাল পড়ে দক্ষিণায়নের মধ্যে, তখন দেবতারা নিদ্রিত থাকেন। তাই এই সময়ে তাঁদের পুজো করতে হলে আগে তাঁদের জাগাতে হবে। তাই বোধন। এবং সেটা অকাল-বোধন। বাসন্তী দুর্গাপুজোয় কোনও বোধন হয় না, কেননা, তখন তো দেবতারা জেগেই থাকেন , কেননা সেটা উত্তরায়ণ। ষষ্ঠী তিথিতে এই বোধন হয়। এ বছর ষষ্ঠী ১৭ অক্টোবর, শনিবার (কোনো কোনো পঞ্জিকামতে ১৭ অক্টোবর সপ্তমী)। ১৮ অক্টোবর, রবিবারও সপ্তমী (কোনো কোনো পঞ্জিকামতে ১৭-১৮ অক্টোবর দুই দিনই সপ্তমী তিথি পড়েছে)।
মহাষ্টমী: ১৯ অক্টোবর, সোমবার (এদিনই সন্ধিপুজো)
মহানবমী: ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার
বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন: ২১ অক্টোবর, বুধবার
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)