জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর পরে বাংলায় সবচেয়ে বড় পুজো কালীপুজো। এই কালীপুজোর ইতিহাস কম বর্ণময় নয়। ষোড়শ শতাব্দীতে নবদ্বীপের প্রসিদ্ধ স্মার্ত পণ্ডিত তথা নব্যস্মৃতির স্রষ্টা রঘুনন্দন দীপান্বিতা অমাবস্যায় লক্ষ্মীপূজার বিধান দিলেও, কালীপুজোর উল্লেখ করেননি। আঠারো শতকে প্রকাশিত 'কালী সপর্যাসবিধি'তে দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপুজোর বিধান প্রথম পাওয়া যায়। বাংলার কালীপুজোর সঙ্গে জড়িত কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ ও রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নাম।
কালীপূজা ২০২৬ সময়সূচি
এ বছর কালীপূজা পড়ছে ৮ নভেম্বর, রবিবার। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তা ২১ কার্তিক, ১৪৩৩।
এদিন অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে ৮ নভেম্বর সকাল ১১:২৭ মিনিটে। অমাবস্যা তিথি শেষ হচ্ছে ৯ নভেম্বর দুপুর ১২:৩১ মিনিটে। নিশীথকালের পূজা হবে রাত ১১:৩৯ মিনিট থেকে ১২:৩১ মিনিট পর্যন্ত।
রঘুনন্দন-কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ-রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
কালীপুজোর ইতিহাস কম বর্ণময় নয়। ষোড়শ শতাব্দীতে নবদ্বীপের প্রসিদ্ধ স্মার্ত পণ্ডিত তথা নব্যস্মৃতির স্রষ্টা রঘুনন্দন দীপান্বিতা অমাবস্যায় লক্ষ্মীপূজার বিধান দিলেও, কালীপুজোর উল্লেখ করেননি। আঠারো শতকে প্রকাশিত 'কালী সপর্যাসবিধি'তে দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপুজোর বিধান প্রথম পাওয়া যায়। তবে সতেরো শতকেই বাংলায় কালীপূজার প্রচলনের কিছু কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। নবদ্বীপের প্রথিতযশা তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশকেই বাংলায় কালীমূর্তি ও কালীপূজার প্রবর্তক বলে মনে করা হয়। তাঁর আগে কালী উপাসকগণ তামার টাটে ইষ্টদেবীর যন্ত্র এঁকে বা খোদাই করে পুজো করতেন। আঠারো শতকে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ই কালীপুজোকে জনপ্রিয় করে তোলেন। উনিশ শতকে কৃষ্ণচন্দ্রের পৌত্র ঈশানচন্দ্র ও বাংলার ধনী জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় কালীপুজো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আর এখন তো কালীপুজো বাংলায় দুর্গাপুজোর মতোই এক বিরাট উৎসবে পরিণত।
দীপান্বিতা শ্যামাপুজো
অর্থাৎ, ধরা যেতেই পারে, মোটামুটি সতেরো শতক থেকেই কালীপুজো, তার সঙ্গে লক্ষ্মীপুজো এবং তার সঙ্গে দশদিক আলোকিত করার এই রীতি রেওয়াজ ধীরে ধীরে জুড়ে গিয়ে তা আজকের এই দীপান্বিতা শ্যামাপুজোয় পরিণত।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)