রাজীব চক্রবর্তী: শুধু দিল্লি বা এনসিআর নয়, গ্রেটার নয়ডাতেও ধুমধাম করেই বছরের পর বছর পুজো হয়ে আসছে। গ্রেটার নয়ডা কালীবাড়ি থেকে শুরু করে গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্ট বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন, গৌড় সিটি দুর্গাপুজো, আনন্দধারা বেলো কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, মাতৃপীঠ দুর্গাপুজো এবং নয়ডার সেক্টর ২৬ কালীবাড়ির পুজো ভীষণই জনপ্রিয় ওখানে। আর ২০২৬ সালে পথচলা শুরু হল গলফ হোমস কিংসউড দুর্গাপুজো কালচারাল সমিতির। পুরো ঠিকানা- আম্রপালি গলফ হোমস, সেক্টর ৪, গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্ট। প্রথমবারের পুজো হচ্ছে সেখানে। একচালার ঠাকুর। ডাকের সাজে দেবীর বাংলার মুখ। আবাসনের পুজো বা বহুতল সোসাইটির পুজো বলা যায়। ৫৮টি টাওয়ার রয়েছে এই সোসাইটিতে। কয়েকটি বাঙালি পরিবার মিলেই এবার এই পুজোর উদ্যোগ নিয়েছে। অত্যন্ত নিষ্ঠা ভরে ঐতিহ্যের হাত ধরেই বাঙালি রীতিনীতি মেনে এই আবাসন প্রাঙ্গণে বাঙালির প্রিয় শারোদত্সবের আয়োজন হচ্ছে।
ইনস্টায় বেশ সক্রিয়
সপ্তাহ চারেক আগে পুজোর 'ব্য়ানার রিভিল' হয়েছিল। ইনস্টাগ্রামে সেই ছবি শেয়ার করে পুজোর আয়োজকরা লিখেছিলেন- 'একটি নতুন সূচনা, এক যৌথ উদযাপন! গলফ হোমস কিংসউড দুর্গা পুজো কালচারাল সমিতি-র সদস্যদের এক চমৎকার মিলনমেলা, যার পাশাপাশি উন্মোচিত হল আমাদের দুর্গা পূজো ২০২৬'-এর ব্যানার। আমরা সবাই মিলে উদযাপন করছি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেতনা। দুর্গা পুজো ২০২৬ — সবাই মিলে একত্রিত হওয়া, সবাই মিলে উদযাপন করা।' মহালয়ার দিন লেখা হয়েছিল, 'শুভ মহালয়া। শিউলির গন্ধে, কাশফুলের দোলায়, ভোরের আকাশে চণ্ডীপাঠের সুরে—আবারও আগমনী বার্তা নিয়ে আসছেন মা দুর্গা। মহালয়ার এই পবিত্র লগ্নে অশুভের বিনাশ হোক, শুভ শক্তির জয় হোক। প্রতিটি হৃদয় ভরে উঠুক আনন্দ, শান্তি ও নতুন আশায়। মা আসছেন… আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা! গল্ফ হোমস কিংসউড দুর্গাপুজো কালচারাল সমিতির পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভ মহালয়া। জয় মা দুর্গা!'
এক জোট হয়েই ইতিহাস
চাকরির সূত্রে বাংলার বাইরে থাকা। কিন্তু দুর্গাপুজো এলেই মন পড়ে থাকে বাংলায়। বাড়ি ফেরার ইচ্ছে থাকলেও অনেক সময় তা সম্ভব হয় না। সেই আক্ষেপ থেকেই এ বার নিজেদের উদ্যোগে দুর্গাপুজোর আয়োজন করলেন গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্টের গলফ হোমস কিংসউড দুর্গাপুজো কালচারাল সমিতির সদস্যেরা। মাত্র চার-পাঁচটি পরিবারকে নিয়ে শুরু হয়েছিল পরিকল্পনা। প্রথম বছরেই সেই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন আবাসনের বহু বাসিন্দা।
কী বলছেন আয়োজকরা?
সমিতির সভাপতি গৌতম বিশ্বাস বলেন, 'প্রতিবছর বাংলার জন্য মন কেমন করত। এবার পুজোর অনেক আগে থেকেই আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম, নিজেরাই পুজো করব। অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে শেষমেশ তা সম্ভব হয়েছে। আমরা ভাবতেই পারিনি, আমাদের মাত্র কয়েক জনের উদ্যোগ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। এই বার থেকে প্রত্যেক বছর আমরা পুজো করব, আনন্দ করব।' সমিতির সহ-সভাপতি সুদীপ্তা দত্ত চৌধুরীর কথায়, 'এই সোসাইটিতে প্রায় ২০০০ ফ্ল্য়াটরয়েছে। মাত্র চার-পাঁচটি পরিবার মিলে এই পুজোর ভাবনা হয়েছিল। তার পর ক্রমে তা পরিধিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম বছরেই এই মাতৃ আরাধনা সকলের হয়ে উঠেছে।” প্রবাসে থেকেও বাংলার উৎসবকে ঘিরে এক ছাতার তলায় আসার এই উদ্যোগেই যেন পূর্ণতা পাচ্ছে পুজোর আনন্দ।'
খামতি নেই আয়োজনে
পুজোর প্রতিমা আনা হয়েছে নয়ডা থেকেই। মণ্ডপও তৈরি করেছেন আবাসিকেরা নিজেরাই। আকারে ছোট হলেও উৎসাহে খামতি নেই। দিনভর বাজছে পুজোর বাংলা গান। থাকছে ভোগের আয়োজন। একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, নাচ-গান-আবৃত্তি ও ধুনুচি নাচ। তবে এই পুজোয় আমিষ খাবারের আয়োজন নেই। উত্তরপ্রদেশের আবাসনে নিরামিষ রীতিতেই হচ্ছে মাতৃ আরাধনা। খাবারের বিধিনিষেধের চেয়ে উদ্যোক্তাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে একসঙ্গে উৎসব কাটানোর আনন্দ।
সরস্বতী পুজোয় মেতে ওঠা থেকে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন, গল্ফ হোমস কিংসউড সাংস্কৃতিক দিকটা বজায় রাখে। ঢাকের আওয়াজ, নতুন জামার সুবাসের সঙ্গে এবার নতুন পুজোও!—বাঙালি যেখানেই থাকুক না কেন, পুজোয় মাততে ভৌগোলিক দূরত্ব কোনও বাধা তৈরি করতে পারেনি আর পারবেও না। আবারও প্রমাণিত।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)