Durga Puja: পশ্চিমি সংস্কৃতির ভিড়ে শিকড় যাতে ভুলে না যায় ছোটরা সেই লক্ষ্যই শুরু হয়েছিল পুজো। উদ্দেশ্য একটাই, আধুনিক প্রজন্মকে চেনা উৎসবের আনন্দটা বুঝিয়ে দেওয়া
হ্যালোউইন নয় পুজোয় মাতোয়ারা কানাডার খুদেরা! কুমারটুলির প্রতিমা থেকে ফুচকা, কিচেনার-ওয়াটারলু যেন একটুকরো কলকাতা
1/5
মিনি ইন্ডিয়া
ছুটি নিয়ে মণ্ডপ সাজানো, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঢাক আর গরবার যুগলবন্দি। গ্র্যান্ড রিভার কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের হাত ধরে প্রবাসে এক ‘মিনি ইন্ডিয়া’। দেশ ছেড়ে সাতসমুদ্দুর পারে সংসার পাতলেও শিকড় কি ভোলা যায়? বিশেষ করে যখন ঘরে ছোট ছোট সন্তান বড় হতে থাকে। কানাডার কনকনে ঠান্ডা আর ওয়েস্টার্ন কালচারের ভিড়ে বাচ্চারা যাতে নিজেদের সংস্কৃতি আর মাটির টান ভুলে না যায়, সেই তাগিদ থেকেই শুরু হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—ওদেরকে চেনা উৎসবের আনন্দটা বুঝিয়ে দেওয়া।
2/5
কিচেনার-ওয়াটারলুর পুজো
তিন বছর আগের সেই ছোট্ট ভাবনা আজ কানাডার অন্টারিও প্রদেশের কিচেনার-ওয়াটারলুতে এক মহীরুহ। গ্র্যান্ড রিভার কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন (GRCA)-এর পুজো আজ আর গুটিকয়েক বাঙালি পরিবারের ঘরোয়া পুজোয় আটকে নেই, রূপ নিয়েছে আস্ত এক ‘মিনি ইন্ডিয়া’য়। আর সাফল্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ? এখানকার দ্বিতীয় প্রজন্মের কচিকাঁচাদের কাছে থ্যাংকসগিভিং বা হ্যালোউইনের চেয়েও এখন সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম—‘শারদোৎসব’।
3/5
কুমারটুলির প্রতিমা
প্রতিমা এসেছে খোদ কলকাতার কুমারটুলি থেকে। জাহাজে করে সুদূর কানাডায় মা দুর্গাকে এনে বরণ করার মধ্যে যে আবেগ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই পুজো আয়োজনে কোনো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নেই, সবটাই পরিবারের মতো। কাজ থেকে ছুটি নিয়ে মণ্ডপ সাজানো, ঘর মোছা থেকে ভোগের জোগাড়—সবকিছুতেই হাত লাগিয়েছেন প্রবাসী বাঙালিরা। দেখতে দেখতে আত্মীয়বিহীন প্রবাসে গড়ে উঠেছে আস্ত একটা নতুন পরিবার।
4/5
মণ্ডপ যেন কলকাতা
শুধু পুজো নয়, মণ্ডপে পা রাখলে বোঝাই দায় এটা কানাডা না কলকাতা! সুবাসিত ধুনোর গন্ধের সাথে বাতাসে ভাসছে তেঁতুল জলের ফুচকা আর ঝাঁঝালো ঝালমুড়ির সুবাস। এক চিলতে কলকাতার পুজো প্যান্ডেলের সব স্মৃতিই জীবন্ত এখানে।
5/5
বহুভাষিক সম্প্রীতি
তবে সবচেয়ে বড় চমক এর বহুভাষিক সম্প্রীতি। এখানে বাঙালি যেমন একমনে ধুনুচি নাচে মেতেছে, তেমনই পাশে দাঁড়িয়ে পা মিলিয়েছেন গুজরাতি, মারাঠি, তামিল ও মালয়ালি প্রতিবেশীরা। ঢাকের বোলের সাথে মিশে গেছে গরবা আর ডান্ডিয়ার ছন্দ। ভিন প্রদেশের মানুষরাও এসে অঞ্জলি দিচ্ছেন, পাত পেড়ে ভোগ খাচ্ছেন, আর উৎসবের আনন্দে শামিল হচ্ছেন। শিকড়কে ধরে রাখার এই জেদ আজ শুধু ঐতিহ্য রক্ষা করেনি, বিদেশের মাটিতে ভারতের নানা প্রান্তের মানুষকে এক ছাদের তলায় বেঁধে দিয়েছে এক অদ্ভুত মায়ায়।